মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বার ২০১৯   Tuesday, 12 November 2019.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Nov-07-2019 08:31:55 PM


 

No image


নিজস্ব প্রতিবেদক:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্তদের দায়িত্ব দেয়ায় ওই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিগত ভর্তি পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে ভর্তি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক কর্মচারী। তাদের এবারের ভর্তি পরীক্ষায় গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নিয়ে বিক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীসহ সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা গত বুধবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ রংপুর-ঢাকা মহসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গত বুধবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে জড়িত কাউকে না রাখার আশ্বাস দেন। কিন্তু উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারি (পিএ) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। জন্য তাকে পাঁছ বছরের জন্য ভর্তি পরীক্ষা থেকে বিরত থাকার শাস্তি দেয়া হয়েছে যা এখনও চলমান। আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় তৎকালীন ইতিহাস প্রতœতত্ত¡ বিভাগের সেমিনার সহকারী ছিলেন। সে সময় তিনি ভর্তি জালিয়াতির সাথে যুক্ত ছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়। তিনি এখন উপাচার্যের পিএ থাকার সুবাদে ভর্তি পরীক্ষার সময় সকল স্তরে যাওয়ার সুযোগে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হলে। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক . কে এম নুর-উন-নবী পাঁচ সদস্যের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম সিন্ডিকেট সভায় ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বছরের জন্য আপগ্রেডেশন/প্রমোশন বন্ধসহ ইনক্রিমেন্ট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এছাড়াও ওই ঘটনার পর ওই কর্মচারী আবুল কালাম আজাদ সাবেক উপাচার্যের চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক . নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দায়িত্ব নেন। এর পর একটি বিশেষ মহলের মাধ্যমে বর্তমান ভিসিকে ম্যানেজ করে উপাচার্যের পিএ মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। বর্তমানে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যসহ সকল অপকর্ম দাপটের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। শাস্তিপ্রাপ্ত এই কর্মচারী বর্তমানে উপাচার্যের একান্ত সহকারী (পিএ) হওয়ায় এবছর ভর্তি পরীক্ষায় বড় ধরণের জালিয়াতির আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বছরের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা যা আগামী ১০নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সেখানে উপাচার্যের পিএ হিসেবে ভর্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন ওরিয়েন্টেশন কোর্সসহ ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি অংশ নিতে আবুল কালাম আজাদকে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে গত বুধবার আসন্ন ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বিগত বছরে ভর্তি জালিয়াতির সাথে জড়িত অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ভর্তি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখাসহ কয়েক দফা দাবিতে আন্দোলন করলে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেন ভিসি।

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, উপাচার্য ভর্তি জালিয়াতির সাথে জড়িত কোন ব্যক্তি ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন ভর্তি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার প্রতিশ্রæতি দেন উপাচার্য। কিন্তু উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারি (পিএ) নিজেই ভর্তি জালিয়াতির দায়ে বছরের সাজাপ্রাপ্ত। তাই জালিয়াতির সাথে জড়িত অন্যান্যদের সাথে পিএ কালামকে অনতিবিলম্বে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিরত রাখতে হবে।  

এদিকে পিএ পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর নিয়ম বহির্ভতভাবে নিজের স্ত্রী নুর নাহার বেগমকে ইতিহাস প্রতœতত্ত¡ বিভাগের সেমিনার সহকারী পদে নিয়োগ দিলে ক্যা¤পাসে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এছাড়াও আপন ফুফাতো ভাই মো: কাওসার হোসেনকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার সহকারী পদে, আপন মামাতো ভাই  গোলাপ মিয়াকে রসায়ন বিভাগের এমএলএসএস পদে, বন্ধুর ছোট ভাই হযরত আলীকে জনসংযোগ, তথ্য প্রকাশনা দফতরের এমএলএসএস পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়াও উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিখিল চন্দ্র বর্মণের ভাতিজা বুদ্ধদেব বর্মনকে রেজিস্ট্রার দপ্তরের মেশিন অপারেটর পদে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে পিএ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ষড়যন্ত্রমূলক ছাড়া কিছু না।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ ¤পাদক মশিউর রহমান বলেন, ‘যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছেন সেহেতু সেই যৌক্তিক বাস্তবায়ন করা নৈতিক দায়িত্ব তার। যদি তিনি সেটি বাস্তবায়ন না করেন তাহলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ মনে করে যে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেই পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার সকল ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

উপাচার্যের পিএ এসব কর্মকাণ্ডকে সীমাহীন দুর্নীতি উল্লেখ করে সরকার সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সাধারণ ¤পাদক আসাদুজ্জামান মন্ডল বলেন, ‘পিএ কালামের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি কাগজে রয়েছে। শুধু পিএ নয় ভর্তি জালিয়াতির সাথে যেই জড়িত থাকুক না কেন তাদের ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে রাখা হলে ভর্তি প্রক্রিয়াটাই বিতর্কিত হবে।

সার্বিক বিষয়ে জান


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image

আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com