মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বার ২০২০   Tuesday, 29 September 2020.  



 ক্যাম্পাস


আমাদের প্রতিদিন

 Dec-05-2019 08:18:57 PM


 

No image


>> ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি শিক্ষকদের

>> তদন্ত কমিটি গঠন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) তথ্য গোপন করে ভিসির ঘনিষ্ঠ এক শিক্ষকের আপন ছোট বোন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে। ওই পরীক্ষার্থী দুই ইউনিটে ফেল করেও অন্য একটি ইউনিটে রেকর্ড পরিমাণ নম্বর নিয়ে প্রথম হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে তুমুল ঝড় উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মিসকাতুল জান্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইমরানা বারীর আপন ছোট বোন। বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে। এদিকে, বিষয়টি জানাজানির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ জন শিক্ষক বি ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে লিখিতভাবে রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেছেন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিশকাতুল জান্নাত ভর্তি পরীক্ষায় মোট তিনটি ইউনিটে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটের তৃতীয় শিফটের (রোল-১৪১৭৫২) পরীক্ষায় নূন্যতম মার্কস ‘এফ’ ইউনিটের চতুর্থ শিফটের (রোল-৬৪১৭৫১) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন। অথচ ‘বি’ ইউনিটের চতুর্থ শিফটের (রোল ২৪০২৭৮) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এমসিকিউয়ে ৮০ নম্বরের মধ্যে ৬৭.২৫০ এবং এসএসসি, এইচএসসির রেজাল্ট স্কোরে ১৮.২৩৫ সহ মোট ৮৫. ৪৮৫ পান যা অন্যান্য ইউনিটের ১৬ শিফটে কেউ সে পরিমাণ মার্কস তুলতে পারেনি। সমালোচনার পরেও এরইমধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। এতো সন্দেহের পরেও এই শিক্ষার্থী ভাইভা দিয়ে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সবার মাঝে।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষায় কোন শিক্ষকের নিকট কোন আত্মীয় পরীক্ষার্থী থাকলে সেই শিক্ষকের পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ঠতা থাকার নিয়ম না থাকলেও ইমরানা বারীর নিজের ছোটবোনের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা অন্যদিকে এবং ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমে সরাসরি ইমরারানা বারীর জড়িত থাকাকে স্বজনপ্রীতি বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জ্যৈষ্ঠ শিক্ষকদের বাদ দিয়ে সদ্য যোগদান করা অনভিজ্ঞ জুনিয়র শিক্ষকদের ইউনিট সমন্বয়ক করার জন্যই এমন হয়েছে। প্রশ্নপত্র মডারেশন এমনকি ভর্তি পরীক্ষা কিভাবে নেওয়া লাগে সে বিষয়ে জানেননা বলেও অভিযোগ করছেন সেই অনুষদের জ্যৈষ্ঠ শিক্ষকরা।

এবিষয়ে শিক্ষার্থী মিশকাতুল জান্নাতের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। তার ফেসবুক আইডিতে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে আগে থেকেই পার¯পারিক বন্ধুত্ব (মিউচুয়্যাল ফ্রেন্ড) রয়েছে। এদিকে এসব বিষয় জানাজানির পরে শিক্ষক ইমরানা বারীর ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভেট হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ইমরানা বারীর বক্তব্যের জন্য একাধিকবার তার অফিস কক্ষে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে তিনি বলেন, আমার বোনের পরীক্ষার বিষয়টি আমি কলা অনুষদের ডিনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। অন্যান্য ইউনিটের সমন্বয়কদের কেন জানাননি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি যেহেতু কলা অনুষদের শিক্ষক তাই আমার অনুষদে বোনের বিষয়টি অবগত করেছি। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ গাজী মাজহারুল আনোয়ার আমাদের প্রতিদিনকে বলেন, ‘দুটি ইউনিটে ফেল এবং একটি ইউনিটে অস্বাভাবিক পরিমাণ নাম্বার পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে আমরা গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা আসলে বিব্রতবোধ করছি। বিষয়টা যেহেতু ইউনিটের সেহেতু বিষয়টা ইউনিট সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খতিয়ে দেখবেন বলে আশা করি।’

এবিষয়ে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়ক ড. সোহেলা মুসতারীর কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গেলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, বি ইউনিটের ঘটনায় কে কি করেছেন তা আমি জানি না। সমন্বয়ক হয়েও কেন জানেন না এমন প্রশ্ন করলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার সদস্য সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘শিক্ষকদের অভিযোগপত্র পেয়েছি। ভিসি দেশের বাইরে আছেন। তাকে বিষয়টি জানানো হবে। তিনি কি সিদ্ধান্ত নিবেন সে ব্যাপারে তিনি ভালো জানেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ভর্তি পরীক্ষায় বি ইউনিটের একটি শিফটে মেধা তালিকায় প্রথম হওয়া পরীক্ষার্থীর বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহŸায়ক করা হয়েছে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ নুর আলম সিদ্দিককে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোঃ সানজিদ ইসলাম খান। কমিটিকে দ্রæততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image

আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com