সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০   Monday, 24 February 2020.  



 ক্যাম্পাস


আমাদের প্রতিদিন

 Jan-27-2020 07:45:31 PM


 

No image


>> ওরিয়েন্টেশনের জন্য নির্মিতি মঞ্চ ও গেট ভাঙচুর

>> প্রশাসনিক ভবনে তালা

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

শিক্ষাজীবনের বহুল কাক্সিক্ষত বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনের স্বাদ, ধুলিস্যাৎ হয়েছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ২ হাজার ২শ নবাগত শিক্ষার্থীর। ছাত্রলীগ কর্তৃক নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ ভাঙচুর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এরই প্রেক্ষিতে ২০২০ শিক্ষাবর্ষের ¯œাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে এক বুক আশা নিয়ে শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রথম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন নবীন শিক্ষার্থীরা। এতে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নবীন শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০ শিক্ষাবর্ষের ¯œাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ায় ২ হাজার ২শ শিক্ষার্থীর ওরিয়েন্টেশন ছিলো আজ সোমবার। এই ওরিয়েন্টেশনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েকদিন থেকেই ছিলো সাজ সাজ রব। নির্মাণ করা হয়েছিলো নবীন শিক্ষার্থীদের বরণের জন্য মঞ্চ, গেট ও ক্যাম্পাস জুড়ে স্থাপন করা হয়েছিলো বিভিন্ন ফেস্টুন। কিন্তু গত রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানের জন্য মাঠে তৈরি করা মঞ্চ, গেট ও ফেস্টুন ভেঙে দিয়েছে ছাত্রলীগের একাংশ। ছাত্রলীগের বাঁধার মুখে অরিয়েনটেশন বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগের দু’টি গ্রæপের মধ্যে একটি গ্রæপ ১৩ দফা এবং আরেকটি গ্রæপ ১১ দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে। এই দাবি আদায় না হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিবে না মর্মে একটি বিক্ষোভ মিছিলও বের করে ছাত্রলীগের একাংশ। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারও প্রশাসনিক ভবনের সামনে ফিরে আসে। এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন নবীন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও।

নাটোর থেকে মেয়েকে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নিয়ে আসেন মো. ইব্রাহিম খলিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনে মেয়েকে নিয়ে এসেছি নাটোর থেকে। সারারাত কষ্ট করার পর সকালে যখন ক্যাম্পাসে এসে দেখি ওরিয়েনটেশন হচ্ছে না তখন অবাক হয়ে গেছি। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি কাম্য করিনি।’

রংপুর থেকে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েকে নিয়ে এসেছেন মো. জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ অবস্থায় রোববার শীতের মধ্যেও দিনাজপুরে এসেছি মেয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে। কিন্তু সকালে ক্যাম্পাসে এসে দেখি হৈহুল্লর অবস্থায় ওরিয়েনটেশন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এটা শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি যে আস্থা ছিল সেটা হারিয়ে গেল। এর জন্য প্রশাসনকে দায় নিতে হবে।’

চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে নবীন শিক্ষার্থী গোলাম ফাহিম আল মুজাহিদ জানালেন, অনেক স্বপ্ন ও স্বাদ নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। প্রথম দিনে উৎসাহ আর উচ্ছ¦াস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসে পা দিয়েছি। ভাবলাম শুরুটা ভালোই হবে। কিন্তু শুরুর দিনে এই অবস্থা আমাকে বিমর্ষ করেছে।

রাজশাহী থেকে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসেছেন শিউলি আক্তার। শিউলি বলেন, ‘আজকে আমাদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু সকালে এসে দেখি নবীনবরণ অনুষ্ঠান হচ্ছে না। অনেক কষ্ট করে এসে এখন নিজেকেই খারাপ লাগছে।’

শুধু নবীন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাই নন, এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ জানিয়েছেন হাবিপ্রবি’র শিক্ষকরাও। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করেন তারা। হাবিপ্রবি’র রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতিহা ফারহানা বলেন, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম নবীন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য একটি আনন্দের। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম বাতিল বা পণ্ড হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত জানানটি এটি আর কবে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের ছাত্রলীগ নেতা ১৩ দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় ওরিয়েনটেশনের মঞ্চ ভাঙচুর করে। আজ সোমবার ছাত্রলীগের আরেকটি অংশের নেতারা ১১ দফা দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে রাখে। দু’পক্ষের ছাত্রলীগ নেতাদের দাবিসমূহ হলো, ক্লাসরুম ও ল্যাব সংকট অতিদ্রæত সমাধান করা, ক্রেডিট ফি কমানো, যানবাহনের সংখ্যা বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যায়ের হলের সংখ্যা বাড়ানো, বিএনপি জামাত মতাদর্শ শিক্ষকদের প্রশাসনিক পদ থেকে অপসারণ, ভর্তি ফি কমানো, ছাত্র কল্যাণ ফি’র অব্যবহার না করা, একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনাসগহ ১৩ দফা দাবি জানানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব দাবি কিংবা ওরিয়েনটেশন কোন বিষয় না। মূল বিষয় হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া। তবে গত রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের নোটিশে কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে প্রার্থীর তুলনায় খুবই অল্প সংখ্যক কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেই এত আন্দোলন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের ছাত্রলীগ নেতা রনি বলেন, ‘নিয়োগের সাথে আমাদের আন্দোলনের কোন যৌক্তিকতা নেই। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আমরা ১৩ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের দাবির বিষয়ে যে আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম প্রশাসন সেই বিষয়ে কোন কর্ণপাত করেনি। এজন্যই আমরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই আন্দোলনে নেমেছি।’

ছাত্রলীগের আরেকাংশের নেতা পল্পব হোসেন রাঙা বলেন, ‘আমরা আমাদের ১১ দফা দাবি আদায়ের জন্যই আন্দোলনে নেমেছি। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় বিভিন্ন গ্রæপ তৈরি হয়েছে। আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘গত কয়েকদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি ভালো না। আজকে (সোমবার) শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে। আমাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা এসব বাধার মুখে ওরিয়েনটেশন বাতিল ঘোষণা করেছি। তবে যৌথভাবে ওরিয়েনটেশন না হলেও বিভাগ অনুযায়ী ওরিয়েনটেশন হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি গুলো নিয়ে বসব। ইতোমধ্যেই ভিসি স্যারের সাথে কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যে দাবি জানিয়েছে তাদের যেগুলো যৌক্তিক দাবি এবং অল্প সময়ে সমাধান করা যাবে সেগুলো সমাধান করা হবে।’

অপরদিকে গত কয়েকদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পর্যায়োন্নয়ন নীতিমালার বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ড কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে কলম বিরতিসহ অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে কর্মকর্তারা।


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image

আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com