শনিবার, ৩১ অক্টোবার ২০২০   Saturday, 31 October 2020.  



 অর্থনীতি


আমাদের প্রতিদিন

 Jul-17-2020 03:19:08 PM


 

No image


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

ধবধবে সাদার উপর কালো লোমে শরীল ঢাকা। বিশাল দেহী। হাটলে শরীরে মাংসপেশীর ঢেউ খেলানো চলন। ঘরের বাইরে আনলে একটু হিংস্র স্বভাব চোখে পড়ে। অবশ্য একটু পরেই লম্বা শিং দিয়ে মাটি খুড়ে শান্ত হয়। তারপর হেলিয়ে দুলিয়ে রাজকীয় চলাফেরা। খাবারেও রয়েছে রাজকীয় ভাব। সব মিলিয়ে রাজকীয় স্বভাবের কারণে নাম রাখা হয়েছে “বাংলার রাজা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা মানিক কাজী গ্রাম। এই গ্রামের বাসিন্দা উমর আলীর ছোট ছেলে জয়নাল আবেদিনের বাড়িতে বেড়ে উঠা অস্ট্রোলিয়ান শংকর  জাতের একটি ষাঁড়ের কথা বলছি। দৈত্যাকার ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ১২ ফুট উচ্চতা ৬ ফুটের কাছাকছি। সাড়ে চার বছর বয়সের ষাঁড়টির ওজন প্রায় ২৪ থেকে ২৫ মণ। দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। এবারে ঈদুল আজহার কোরবানীর বাজারে “বাংলার রাজাই কুড়িগ্রাম জেলার প্রথম এবং একমাত্র বড় ষাঁড়। এ পর্যন্ত এর ধারের কাছে নেই একটাও। তাই বলা যায় এটিই সেরা।

বাংলার রাজার মালিক জয়নাল আবেদিন জানান, কয়েক বছর আগে দুধের যোগান দিতে একটি গাভী কিনেন। সেই গাভীর পেট থেকে এই রাজার জন্ম। নিত্যান্ত শখের বশে লালন পালন করতে থাকেন তিনি। সম্পূর্ণ দেশী খাবারে দিয়ে লালন পালন করেন রাজাকে। আজ পর্যন্ত রাজাকে মোটাতাজা করণ ঔষধ কিংবা কোন প্রকার রাসায়ানিক খাদ্য দেননি জয়নাল। শুধুমাত্র কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাইছেন বলে দাবী জয়নালের। তিনি আরো জানান রাজার দৈনিক খাবার দিতে হয় ধানের গুড়ো, গমের ভুষি,খড় আর সবুজ ঘাষ। রাজার ঘাসের যোগান দিতে একবিঘা জমি ঘাঁস চাষ করছেন জয়নাল। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৪-৫শ টাকার খাবার খায় ‘বাংলার রাজা

জয়নাল আবেদিন বলেন,পরিবারের একজন সদস্য মনে করে নিজের সন্তানের মতো করে লালন পালন করে বড় করেছি রাজাকে। এখন তাকে বিক্রি করতে হচ্ছে। এমনটা ভাবতেই খারাপ লাগে। বিক্রির ঘোষনা দেয়ার পর প্রতিদিন দুই একজন করে ক্রেতা আসছে বাড়িতে। তবে মনমতো দাম বলছে না কেউ। তিনি আরো বলেন, করোনা আর বন্যা প্রভাব না থাকলে এতদিন ভালো দামে বিক্রি করতে পারতাম। তবে তিনি আশাহত নন, লাভ না হলেও আসল দামে বিক্রি করতে পারবে বলে প্রত্যাশা তার।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব আলী, আজমসহ অনেকেই বলেন, আমাদের জানা মতে জেলায় একমাত্র বড় ষাঁড় বাংলার রাজা। জয়নাল অনেক কষ্ট করে লালন পালন করেছে এই ষাঁড়কে। সীমান্ত এলাকা হওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় ক্রেতাদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। বাংলার রাজার ন্যায্য মূল্যে বিক্রি হবে বলে তারা আশাবাদী।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) ডাঃ কে,এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, জয়নাল আবেদিন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ষাঁড়টিকে প্রতিপালন করছেন। আমরা নিয়মিত খোঁজ খবর এবং পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি ন্যায্য মূল্যে তিনি গরুটি বিক্রি করতে পারবেন। আমার জানামতে এতবড় ষাঁড় জেলায় আর নেই।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com