শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১   Saturday, 23 January 2021.  



 অর্থনীতি


আমাদের প্রতিদিন

 Jan-12-2021 08:27:10 PM


 

No image


>> কাস্টম্স জটিলতায় তিন দিন আটকে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত আমদানীকারকরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের হিলি স্থলবনন্দরে তিন দিন ধরে আটকে থাকার পর অবশেষে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ভারত থেকে আমদানীকৃত চালের। কাস্টম্স কর্তৃপক্ষের গাফিলাতির কারনে আমদানীকৃত চাল বন্দরে তিন দিন ধরে আটকে থাকায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবী করেছেন আমদানীকারকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভরা আমন মৌসুমেও বাজারে চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করায় সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানীর সিদ্ধান্ত নেয় এবং চালের আমদানী শুল্ক ৬২.৫ শতাংশ থেকে দুদফায় কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত শনিবার দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম চালান হিসেবে নওগাঁর জগদীশ চন্দ্র রায় নামে এক আমদানিকারক ৩টি ট্রাকে ১১২ টন চাল আমদানি করেন। পরের দিন রোববার বন্দর দিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির আরেকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হেনা এন্টারপ্রাইজ ২০টি ট্রাকে আনেন ৮২৮ মেট্রিক টন চাল। আর সোমবার বন্দর দিয়ে এই দুই আমদানিকারকের আরও ৮টি ট্রাকে আসে ৩২৯ টন চাল। গত সোমবার পর্যন্ত তিন দিনে ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করে মোট ১ হাজার ২৬৯ মেট্রিক টন চাল। বন্দরে এসব চাল প্রবেশ করলেও শুল্কায়ন মুল্য এবং শুল্ক হ্রাসের আদেশ জটিলতায় আমদানীকারকদের এসব চাল খালাস দেয়নি কাষ্টম্স কর্তৃপক্ষ। ফলে বন্দরে আটকে থাকে আমদানীকৃত এসব চাল।

চাল আমদানিকারকের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম জানান, চাল আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর দুজন আমদানিকারক শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিনে ভারত থেকে ১ হাজার ২৬৯ টন চাল আমদানি করেন। তবে প্রথমে জটিলতা ছিল সরকার চালের আমদানি শুল্ক ৬২.৫ শতাংশ শুল্ক থেকে দুদফায় কমিয়ে ১৫ শতাংশ করলেও এতদিনে কাস্টমসের সার্ভারে তা আপডেট করা হয়নি। প্রথম দিন সেজন্য বসে থাকতে হয়। রোববার বিকেল ৩টার পর তা আপডেট হলে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করি। তবে শুল্ক অফিস থেকে একের পর এক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে আদেশের যে কপি দেওয়া হয়েছে সেটি শুল্ক কর্মকর্তারা গ্রহণ না করে বলেন-এই আদেশে নাকি যুগ্ম সচিবের স্বাক্ষর লাগবে। এ কারণে চাল ছাড় করা যাচ্ছে না। তাছাড়াও আমাদের আমদানিকারকদের চালের আমদানি মূল্য টনপ্রতি ৩৫৬ মার্কিন ডলার। কিন্তু শুল্ক কর্মকর্তারা তা ৪১০ থেকে ৪২০ ডলারে শুল্কায়ন করতে চান। কেন বাড়তি শুল্ক দিতে হবে জানতে চাইলে তারা আমদানিকারকদের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন জানান, দেশে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী সরকারি শর্ত মেনে গত শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু করেন আমদানিকারকরা। কিন্তু কাস্টমসের গাফিলতির কারণে তিনদিন ধরে আমদানিকৃত চাল খালাস নিতে পারেনি আমদানীকারকরা। সরকার চাল আমদানি থেকে শুরু করে বাজারে সরবরাহ করার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু, চাল আমদানি করার পর তিন দিন যদি বন্দরেই আটকা থাকে তাহলে শর্ত কিভাবে পূরণ হবে? তিন দিন ধরে চাল খালাস না হওয়ায় বিপাকে পড়েন ভারতীয় ট্রাক চালকরা।

অবশ্য এসব জটিলতা নিরসনের পর গত সোমবার দিবাগত রাত ৯টার পর থেকে সংকটের সমাধান হতে শুরু করে। ফলে সোমবার রাত থেকে শুরু হয় আমদানীকৃত চালের খালাস প্রক্রিয়া।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম জানান, বন্দর দিয়ে তিন দিন ধরে আমদানিকৃত চালগুলো ছাড় করা যায়নি কিছু আইনি জটিলতা থাকার কারণে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান করেছি। চালের শুল্কায়ন মূল্য নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল সেটিও সমাধান হয়েছে। শুরু হয়েছে খালাস প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, বন্দর দিয়ে এ পর্যন্ত দুজন আমদানিকারক চাল আমদানি করেছেন। এর মধ্যে একজন আমদানিকারক ৪২৫ মার্কিন ডলার মূল্যে চাল আমদানি করেছেন সেই মূল্যেই সেটি শুল্কায়ন করে ছাড় দেওয়া হয়। অপর আমদানিকারক ৩৫৬ মার্কিন ডলার মূল্যে চাল আমদানি করেছেন সেটি ৩৭০ মার্কিন ডলার মূল্যে শুল্কায়ন করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বন্দরে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, জটিলতা নিরসনের পর সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত ৭ ট্রাক চাল খালাস দেয়া হয় এবং গতকাল মঙ্গলবার খালাস দেয়া হয় আরও ১৫ ট্রাক চাল।

এদিকে, মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) চতুর্থ দিনে ভারত থেকে ১৫টি ট্রাকে আরও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করেছে। এসব চাল বাজারে পৌছলেই চালের বাজারে অস্থিরতা হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন আমদানীকারকরা।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com