বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০   Thursday, 2 April 2020.  



 সম্পাদকীয়


আমাদের প্রতিদিন

 Feb-24-2020 07:12:55 PM


 

No image


মায়ের বুকের দুধের ওপর শিশুর অনন্ত অধিকার। এই অধিকার সদ্য জন্ম নেয়া প্রতিটি শিশুর। মায়ের কর্মব্যস্ততার কারণে যদি কোনো অবোধ শিশু দুনিয়াতে এসেই সঠিক সময়ে বুকের দুধ পান করা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে এর চেয়ে বড় বঞ্চনা শিশুজীবনে আর কী হতে পারে? শিশুদের এই অধিকার প্রতিষ্ঠায় উচ্চ আদালত এক যুগান্তকারী আদেশ দিয়েছেন। সেই আদেশে পোশাক শিল্পসহ দেশের সব কল-কারখানায় ৬০ দিনের মধ্যে ব্রেস্ট ফিডিং বা বেবি কেয়ার কর্নার করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শ্রম সচিব ও শ্রম অধিদফতরের চেয়ারম্যানকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি অত্যধিক তাৎপর্যপূর্ণ। আদালতের এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণও বটে। একজন শিশু দুনিয়াতে এসেই তার খাদ্য-অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে, আর সমাজের মানুষ তা দেখেও দেখবে না, তা কী করে হয়? শেষমেশ আদালতকেই এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্দেশনা জারি করতে হলো। সৃষ্টির শুরু থেকে একজন শিশুর জন্য প্রকৃতিগতভাবে মায়ের বুকে অমীয়ধারা সৃষ্টি করা হয়েছে। এই পানীয়ই শিশুদের প্রধান খাদ্য। যদিও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেক খাবার যোগ হয় খাদ্যসূচিতে তবুও বিশুদ্ধতার প্রশ্নে এই খাদ্য শিশুর জন্য অবিকল্প। শুধু শিশুর ক্ষুধা নিবারণের জন্য নয়, পুষ্টিমানের বিচারে সব উপাদানে ভরপুর মায়ের বুকের দুধ। এই কারণে একটি শিশুকে দুই থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করার নিয়ম প্রচলিত আছে।

একজন কর্মজীবী মা যখন তার শিশুকে আবাসে রেখে আট-দশ ঘণ্টার জন্য কর্মস্থলে চলে যান, তখন ওই সব শিশু নিদারুণ খাদ্যাভাবে থাকে। যদিও নিকটজনরা ক্ষণে ক্ষণে বিকল্প খাবার দিয়ে যায়। তবুও অনেক শিশুর অদৃশ্যভাবে পুষ্টি ঘাটতি থেকে যায়। মায়ের বুকের দুধে স্রষ্টা প্রদত্ত যে পুষ্টিমান নিহিত, ওই বয়সে শিশুদের জন্য বিকল্প কোনো খাদ্যেই তা নেই। বিভিন্ন পুষ্টিমানে সমন্বিত এই খাদ্যই শিশুদের জন্য একমাত্র আদর্শ খাদ্য। যদি কর্মস্থলে শিশুরা মায়ের দুধ পান করার সুযোগ পায়, তাহলে আগামী দিনের নাগরিক এই শিশুরা সঠিক পুষ্টিমান পেয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

এদেশের কলকারখানায় কর্মজীবী নারীদের আধিক্য রয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্প খাতে নারী কর্মীর সংখ্যা ব্যাপক। দেশের রপ্তানিমুখী প্রধান এই শিল্পে প্রায় ৪৫ লাখ কর্মীর মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী। এসব মায়ের শিশুরা কর্মকালে কীভাবে দুধ পান করে, এই খবর কি সমাজের দায়িত্বশীল কোনো মহল নিয়েছে? এসব লাখো কর্মজীবী মায়ের সন্তানেরা কীভাবে বেড়ে উঠছে, এ কথাও কি সমাজের কেউ ভেবেছেন? আদালতের একটি নির্দেশনা এই বিষয়ে আরো একবার জিজ্ঞাসা চিহ্ন হয়ে দাঁড়াল। কর্মজীবী মায়েদের প্রতিটি শিশুর খাদ্য-অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এ কথা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। আদালতের নির্দেশনা সেটাই আরো একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। আমরা মনে করি, আদালতের এই নির্দেশনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হবে।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com