মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বার ২০২০   Tuesday, 1 December 2020.  



 ইতিহাস ও ঐতিহ্য


আমাদের প্রতিদিন

 Nov-17-2019 08:20:19 PM


 

No image


গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

প্রাচীন বাংলার স্থাপত্যকলার অনন্য এক নিদর্শন গাইবান্ধার কয়ারপাড়া জামে মসজিদ। তবে বর্তমানে এ মসজিদটি আমালাগাছী কয়ারপাড়া ঈদগাহ মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ছোট ছোট গোলাকার ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এ মসজিদ। তবে আকারে ছোট হলেও প্রাচীন কারুকার্যে তৈরি মসজিদটির নকশা ও গম্বুজগুলো বেশ দৃশ্যমান। এ মসজিদটির বয়স প্রায় ১ হাজার বছর। তবে সংরক্ষণের অভাবে মসজিদটি প্রায় বিনষ্ট হওয়ার পথে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে বরিশাল ইউনিয়নের আমলাগাছী গ্রামের উন্মুক্ত স্থানে এ মসজিদের অবস্থান। দেয়ালের রঙ নষ্ট হয়ে ক্ষয় হওয়া ইট গুলো বের হয়ে গেছে। মসজিদটির একাধিক স্থান ধসে পড়েছে। দেয়ালে উর্দু ও ফারসি ভাষায় কিছু লেখা আছে যা অ¯পষ্ট। মসজিদে তিনটি দরজা ও উত্তর দিকে একটি ছোট মিনার রয়েছে। এলাকাবাসী জানান, মসজিদটি এক রাতেই নির্মিত হয়েছে। আবার অনেকেই বলেন বাপ-দাদার কাছ থেকে শুনেছি পশ্চিম দিক থেকে আসা এক দরবেশ সাহেব এ জায়গাতে নামাজ পড়তেন। তিনি এই মসজিদ নির্মাণ করেছেন। তবে এখানে কেউ চুরি বা অসম্মানজনক কিছু করলে অলৌকিকভাবে সে শাস্তি পায়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে তবারক নিয়ে আসেন অনেকে।

ওই এলাকার আহসান হাবিব খোকন বলেন, সুলতান মাহমুদের আমলে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে প্রতি রাতে সাদা পোশাক পরিধানকারী গায়েবী এক ব্যক্তি নামাজ আদায় করে। আশপাশে লোকজনের আনাগোনা পেলে আর দেখা যায় না। প্রতি শুক্রবারে এখানে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও আসেন মানত করতে। স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস মসজিদ যখন নির্মাণ করা হচ্ছিল তখন ঘন জঙ্গলে পূর্ণ ছিল এ এলাকা। দেয়ালের ওপরের দিকে ফুল ও লতার ছবি আঁকা। দেয়ালের ইটের গাঁথুনি অনেক পুরু। মূল মসজিদের দৈর্ঘ্য ১৮ হাত প্রস্থ ৬ হাত। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদটির গম্বুজ ১৫ ফুট উঁচু। মসজিদটি প্রাচীন ও সৌন্দর্যমÐিত স্থাপনা হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ দেখতে আসেন এ মসজিদ। অনেকে একে গায়েবি মসজিদ বলেও দাবি করে। আমলাগাছী কয়ারপাড়া এই মসজিদের নামকরণ নিয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায় না। তবে প্রচলিত আছে খোরা শান নামে এক পীর এই এলাকায় আসেন এবং এই মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই থেকে মসজিদের খোরা থেকে নামকরণ করা হয় কয়ার মসজিদ। যা পরে কয়ারপাড়া মসজিদ নামে পরিচিতি পায়। মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সাদেকুর রহমান বলেন, ১১০৩-০৪ সালের মধ্যে খাঁ বংশের বাহার আলী খাঁ নামে এক কামেল পীর আসেন এবং তার আমলে এ মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্ভাব্য তিনিই এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৩২৬ সালের দিকে এক ভূমিক¤েপ মসজিদটির সামনের অংশ মাটির নিচে দেবে যায়। মসজিদটির বেশির ভাগ মাটির নিচে দেবে যাওয়ায় নামাজের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এ অংশটুকুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে এবং ভেঙে পড়তে শুরু করে। ১৯০৫ সালের মাঝামাঝি পূর্ব দিকে ঈদগাহের জায়গা বাড়ানো হয়। সেখানেই ঈদের নামাজের জন্য মাঠ তৈরি করা হয়। ১৯৮০ সালে চার দিকে মাঠটির প্রাচীর করে দেওয়া হয়। তবে মসজিদের বাকি অংশ জঙ্গলে ছেয়ে যায়। গম্বুজে বটের চারা, লতাপাতা গজিয়ে ওঠে। প্রাচীন স্থাপত্যকলার নিদর্শন হিসেবে যথাযথরীতি মেনে যেভাবে সংস্কার দরকার ছিল তা করা হয়নি। মসজিদটি সংরক্ষণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করব। এখন মসজিদের পুরানো সৌন্দর্যের অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল হোসেন বলেন, মসজিদটির খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। সংস্কার এবং সংরক্ষণ করা যায় কি না। সংরক্ষণের উপযোগী হলে উদ্যোগ নেওয়া হবে।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com