সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০   Monday, 24 February 2020.  



 আন্তর্জাতিক


আমাদের প্রতিদিন

 Jan-28-2020 08:21:48 PM


 

No image


ঢাকা অফিস:

চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে আতঙ্ক তৈরে হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চীন ইতিমধ্যে দেশটির অন্তত ২০টি শহর বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলের উহানে এই ভাইরাসের সন্ধান পাওয়ার পর এখন এশিয়া ছেড়ে ইউরোপ এবং আমেরিকা মহাদেশেও পৌঁছে গেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানের এই ভাইরাস এখনও মহামারি আকার ধারণ না করলেও ইতিমধ্যে থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, নেপালে পৌঁছেছে।

এদিকে, মার্কিন একদল বিজ্ঞানী বলেছেন, তারা নতুন এক ধরনের করোনাভাইরাস বিশ্বে দ্রæত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তিন মাস আগে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে সাড়ে ছয় কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তারা।

এ পরিস্থিতিতে আমাদের সুস্থতার জন্য আগে প্রয়োজন এর ছড়ানোর প্রক্রিয়া এবং কীভাবে প্রাণনাশ হচ্ছে সে সম্পর্কে জানা।

করোনা ভাইরাস কী?:

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস - যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতিমধ্যেই ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে - যার ফলে এটি আরো বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এটি অত্যন্ত দ্রæত ছড়াতে পারে এবং বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে এ ভাইরাস একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে ছড়াতে পারে।

এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠাণ্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ।

এক দশক আগে সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেস্পিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল সেটিও ছিল এক ধরনের করোনা ভাইরাস।

এতে আক্রান্ত হয়েছিল ৮ হাজারের বেশি লোক।

আর একটি ভাইরাসজনিত রোগ ছিল মিডল ইস্টার্ন রেস্পিরেটরি সিনড্রোম বা মার্স।

২০১২ সালে এতে মৃত্যু হয় ৮৫৮ জনের।

কীভাবে ছড়াচ্ছে :

ধারণা করা হচ্ছে, এই ভাইরাস প্রথম ছড়িয়েছে কোনো বন্যপ্রাণীর দ্বারা, হতে পারে সেটি কোনো সাপ। সাউথ চীনা সি ফুড হোলসেল মার্কেট এ এই সাপ খেয়েই একজনের মাধ্যমে এই রোগ ছড়িয়েছে। আর ইতিমধ্যে জানা গেছে যে এই মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে হাঁচি এবং কাশির মাধ্যমে।

#এটি মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়।

#সাধারণত ফ্লু বা ঠাণ্ডা লাগার মতো করেই এই ভাইরাস হাঁচি-কাশি, হ্যান্ডশেক এর মাধ্যমে রোগীর মধ্যে ছড়ায়।

#করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে যদি কোন সুস্থ ব্যক্তি আসে সেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

#আক্রান্ত ব্যক্তি ছুঁয়েছে এমন কিছু স্পর্শ করার পর সেই হাত দিয়ে মুখ, নাক বা চোখ স্পর্শ করলে সংক্রমণ হতে পারে।

এই ভাইরাসটি মূলত নাক এবং মুখ দিয়ে শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে। পরে এটি শ্বাসযন্ত্রে একটি ‘হোস্ট সেল’ বা সহায়ক কোষকে বেছে নেয়। এরপর সেই সেলটি বিস্ফোরণ ঘটার মাধ্যমে কাছাকাছি কোষগুলোকে আক্রান্ত করতে শুরু করে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?:

১) রোগীর কাছ থেকে আসার পর ভালো করে হাত ধুতে হবে।

২) নাক-মুখ ঢেকে হাঁচুন, কাশুন।

৩) ডিম, মাংস ভালো করে রান্না করুন। রোগীর থেকে দূরে থাকুন।

৪) নিয়মিত হাত ধুয়ে পরিচ্ছন্ন রাখুন।

কোন প্রতিষেধক আছে কী?:

এই রোগের কোনো প্রতিষেধক নেই। তবে রোগটির প্রতিষেধক আবিষ্কারের কাজ চলছে।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com