শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বার ২০২২   Friday, 30 September 2022.  



 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি


আমাদের প্রতিদিন

 Aug-22-2022 08:13:41 PM


 

No image


আমাদের ডেস্ক:

মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার গভীর নিরক্ষীয় বৃষ্টি-অরণ্যে এমনই এক গাছ দেখা যায়, যারা স্থান পরিবর্তনে সক্ষম। তাদের নাম ‘ক্যাশাপোনা (ঈধংযধঢ়ড়হধ)'! 

আমরা জানি, উদ্ভিদ স্বেচ্ছায় স্থান পরিবর্তন করতে পারে না। কিন্তু প্রাণী গমনে সক্ষম। অর্থাৎ গাছ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়  ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়াতে পারে না,  কিন্তু এমন এক গাছ রয়েছে, যারা কিনা লম্বা লম্বা ‘পা’ ফেলে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়।  এদের ক্যাশাপোনা (ঈধংযধঢ়ড়হধ) বলে, যা চলমান পাম (ডধষশরহম চধষস) নামেও পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম ঝড়পৎধঃবধ বীড়ৎৎযরুধ।

ক্যাশাপোনা পাম গোত্রেরই গাছ। এই গাছের উচ্চতা হয় প্রায় ১৬-২০ মিটার এবং ব্যাস ১২-১৬ সেমি। ক্যাশাপোনা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন ¯øাভাকিয়ার রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানী, ব্রাতি¯øাভার ¯øাভাক অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এর প্যালিওবোটানিস্ট পিটার ভ্র্যানস্কি। উদ্ভিদ হয়েও কেন জায়গা পরিবর্তন করে, তা খতিয়ে দেখেছেন পিটার।

তিনি জানিয়েছেন, এই বনাঞ্চলে ভূমিক্ষয় হয় বেশি। তার জের ধরে অনেক সময় গাছের শিকড়ের পাশ থেকে মাটি সরে যায়। ফলে নড়বড়ে হয়ে যায় গাছের ভিতও। টিকে থাকতে সেই সময় দরকার হয় শক্ত মাটির। এ ধরনের অস্তিত্ব সংকটে তড়িঘড়ি করে ক্যাশাপোনা গাছগুলি ঠেসমূলের মতো নতুন নতুন শিকড় তৈরি করে। সেই নতুন শিকড় শক্ত মাটিতে ক্রমশ গেঁথে যেতে থাকে। অন্যদিকে পুরনো শিকড়গুলো ধীরে ধীরে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এভাবে গাছটি নিজের পুরনো অবস্থান থেকে খানিকটা সরে যায়। বিশেষ প্রকার ঠেসমূল বা ‘স্টিল রুট’ দিয়ে তাদের এই আনাগোনাকে অনেকেই মানুষের ‘হাঁটা’র সঙ্গে তুলনা করছেন। এভাবে কখনও কখনও নিজের অবস্থান থেকে দিনে দুই থেকে তিন সেন্টিমিটার পর্যন্ত সরে সরে যায় গাছগুলি।

পিটার জানিয়েছেন, এভাবে পুরোপুরি জায়গা বদল করতে একটি গাছের প্রায় দুবছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। কখনও কখনও নিজের প্রথম অবস্থান থেকে প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত সরে যেতে দেখা যায় গাছগুলিকে। শুধু তাই নয়, আশেপাশের অন্যকোনো গাছও যদি তাদের গায়ে ঢলে পড়ে তখনও তারা স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেয়। কারণ পড়শিদের এমন গায়েপড়া ক্যাশাপোনার একদম পছন্দ নয়। যদি কেউ গায়ে পড়তে আসে সেক্ষেত্রে ওরা ঝুট-ঝামেলায় না গিয়ে চুপচাপ গুটিগুটি পায়ে স্থান বদল করে নেয়। ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটো থেকে গাড়িতে ঘণ্টা তিনেকের পথ। তারপরই শুরু জঙ্গলের রাস্তা।বেশ কয়েকঘণ্টার দুর্গম পথ পেরিয়ে গেলেই মিলবে সুমাকো বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ফরেস্ট। সেখানেই রয়েছে আজব এই গাছ। সূত্র: গার্ডিয়ান

 



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com