শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বার ২০১৯   Friday, 6 December 2019.  



 রাজনীতি


আমাদের প্রতিদিন

 Mar-24-2019 10:53:18 PM


 

No image


ঢাকা অফিস:

অনুগত বিরোধী দলের বৃত্ত ভেঙে সম্মিলিত বিরোধী দলের নেতা হতে চেয়েছিলেন জিএম কাদের। সেজন্যই জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে সংসদীয় দলের উপনেতা পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গে জিএম কাদের পর্যায়ক্রমে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন এবং আলাপ-আলোচনা শুরু করেছিলেন। বিএনপিকে তিনি সংসদে এসে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ  জানিয়েছিলেন। জাতীয় পার্টিও খোলস ছেড়ে বেরিয়ে সরকারের সমালোচনায় মুখর হবে এমন একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিলো। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে যারা মন্ত্রী হয়েছিলেন তাদের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন এবং সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে সকলের সম্মিলিত একটি ফর্মুলা নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জিএম কাদের সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি মনসুরকে বলেন যে, হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ ইতিমধ্যে  অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি সংসদীয় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে তিনিই ( জিএম কাদের) সংসদে বিরোধী দলের নেতা। সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি নতুন রুপে আসতে চায়। সরকারের অনুগত অজ্ঞাবহ বিরোধী দল না হয়ে প্রকৃত অর্থে সরকারের সমালোচক হয়ে সংসদে জনগণের কথা তিনি বলতে চান। সুলতান মনসুরও তার সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। সুলতান  মনসুরের উদ্যোগেই তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে একাধিক  দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত  করেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে জিএম কাদের অনেক পুরনো সম্পর্কে। দুজনের দীর্ঘদিনের যোগাযোগেও  রয়েছে। তিনি মির্জা ফখরুলকে অনুরোধ করেছেন, সরকারকে চাপে ফেলার  উদ্যোগ হিসেবে একটি সম্মিলিত বিরোধী প্ল্যাটফর্ম হওয়া উচিৎ। সংসদের ভিতরে-বাহিরে এরকম একটি প্ল্যাটফর্ম যদি গঠন করা যায় তাহলে তার ভাষায় সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা অগণতান্ত্রিক কর্মসূচিগুলো বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং দেশে সুশাসন  প্রতিষ্ঠা হতে পারে। এজন্য মির্জা ফখরুলের  সঙ্গে জিএম কাদেরের অন্তত দুটি বৈঠক হয়েছিলো বলে জানা গেছে। সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আরও  সময়ের প্রয়োজন বলে মির্জা ফখরুল জিএম কাদেরকে জানিয়েছিলেন। তবে তিনি জিএম  কাদেরের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। জিএম কাদের চেয়েছিলেন বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ঐক্যফ্রন্ট ১৪ দলের শরিকদের নিয়ে  সংসদের ভিতরে এবং বাইরে একটি বিরোধী সম্মিলিত প্ল্যাটর্ফম গড়ে তুলবেন। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যখন ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে নিয়ে কথা বলেন তখন ১৪ দলের কেউ কেউ বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচরে  আনেন। তখনই জিএম কাদেরের বিপদের সূচনা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ব্যাপারে  জিএম কাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা স্বীকার করেন। তিনি এরশাদকে বলেন, ‘ এভাবে দলকে সংগঠন  শক্তিশালী হবে না। গৃহপালিত বিরোধী দলের কোন মর্যাদা নেই। জাতীয় পার্টির ২২টি আসন রয়েছে, জাতীয়  পার্টি যদি  সত্যি বিরোধী দল থাকে তাহলে অন্য রকম বিরোধী  দল হবে। বিএনপি নয়, জাতীয় পার্টিই প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জনগণের কাছে আবেদন পাবে।

একটি সূত্র বলছে, এরশাদের সবুজ সংকেত পেয়েই জিএম কাদের এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে এরশাদ অন্যসময়ের মতো আবারও পাল্টে যান। যার কারণে জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যানের পদ খোয়াতে হয়েছে।  সরকার চায় না জাতীয় পার্টি সরকারের বলয়ের বাইরে গিয়ে একটা অবস্থা নিয়ে সরকারকে চাপে ফেলুক। বিশেষ করে কিছু স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়ে যেন জাতীয় পার্টি সংসদে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি না করে সেজন্য সরকার



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com