মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বার ২০১৯   Tuesday, 12 November 2019.  



 রাজনীতি


আমাদের প্রতিদিন

 Sep-29-2019 08:51:00 PM


 

No image


ঢাকা অফিস:

ছাত্রদলের সম্মেলনের পর এখন বিএনপি তার জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, পর্যায়ক্রমে অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলোর সম্মেলন শেষ করে দলের কাউন্সিল করা হবে। তবে খুব ঝাঁকঝমক এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে কাউন্সিল করার বিরুদ্ধে বিএনপির নেতৃবৃন্দ। ব্যাপারে তারেক জিয়ারও সায় নেই। এর পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত, ঢাকঢোল পিটিয়ে কাউন্সিল করা হলে সেখানে সরকারি হস্তক্ষেপ হতে পারে। কাউন্সিল বানচাল করার একটা প্রচেষ্টা হতে পারে। ছাত্রদলের কাউন্সিলের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা শিক্ষা নিয়েছেন বলে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন।

দ্বিতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু এখন কারন্তরীণ রয়েছে, সেজন্য ঢাকঢোল পিটিয়ে বা আড়ম্বর করে কাউন্সিল অধিবেশন করার প্রয়োজন নেই। কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস করা দরকার।

তৃতীয়ত, তারেক জিয়া চাইছেন যে, তার পছন্দের লোকজনকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে বসাতে। সেজন্য যদি আড়ম্বর করে কাউন্সিল করা হয় তাহলে অনেকেই বিভিন্ন পদ পাওয়ার জন্য আগ্রহী হবেন। ফলে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে।

আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানের পর থেকেই বিএনপির সাংগঠিনক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। বিএনপি প্রায় প্রতিদিনই কর্মসূচী গ্রহণ করছে বাধাহীনভাবে। আবার ঢাকার বাইরেও বিএনপি কর্মসূচী পালন করছে। এর মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা চাঙ্গা ভাব তৈরি হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময় বিএনপিতে যে কর্মসূচী হচ্ছে তা জনগনের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নেতাকর্মীদের উৎসাহিত করেছে। এভাবে ধাপে ধাপে কর্মসূচী করে আমরা এই আন্দোলনের চুড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে চাই।  তবে বিএনপির প্রায় সব নেতাই একমত পোষণ করেছেন যে, একটা পুর্ণাঙ্গ আন্দোলন তৈরীর আগে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ঠিক করতে হবে। বিএনপির অধিকাংশ জেলাগুলোতেই কমিটি নড়বড়ে। মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি তো বটেই, এই সমস্ত কমিটির অনেকেই হয় পলাতক না হয় কারাবন্দী। অথবা বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। যার ফলে স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিগুলো অকার্যকর। এইজন্য আন্দোলনকে সংগঠিত করতে হলে স্থানীয় নেতৃত্বকে সুসংগঠিত করতে হবে। সেই জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন।

ইতিমধ্যে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া সারাদেশে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার কাজ শুরু করেছেন। একাধিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সারাদেশে বিএনপিকে যেন নতুন নেতৃত্বর হাতে তুলে দেওয়া যায় সেজন্য তারা কাজ করছে। এই নতুন নেতৃত্ব গঠনের পরেই বিএনপি কাউন্সিলের দিকে যাবে।

তবে কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে বিএনপিতে মতবিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। বিএনপিতে খালেদাপন্থীরা মনে করছেন, এই কাউন্সিলে বেগম খালেদা জিয়াকেই চেয়ারপার্সন রেখে নেতৃত্বে নতুন বিন্যাস এবং এই মতের অনুসারীরা মনে করছে মির্জা ফখরুলের বদলে অন্য কাউকে দলের মহাসচিব করার পক্ষে মতামত দিচ্ছেন। তবে তারেক জিয়াপন্থীরা এই কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপিতে পরিবর্তন এবং খালেদা জিয়াকে উপদেষ্টা চেয়ারম্যান বা অন্যকোন পদ দিয়ে মূল দায়িত্ব তারেক নিতে চাইছেন এবং মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই রাখতে চাইছেন। এর পেছনে তারেকপন্থীদের যুক্তি হলো যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া এখন জেলে আছেন। তিনি অসুস্থ, দল পরিচালনায় সক্ষম নয়। কাজেই তারেক জিয়ার নেতৃত্বেই এখন দল পরিচালনা করা উচিত। তারেক জিয়া লন্ডন থেকে নিয়মিত বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন। তাদের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সংগঠনকে গোছানোর জন্য নানা রকম নির্দেশনা দিচ্ছেন। তাই তারা মনে করছেন যে, তারেক জিয়ার হাতেই পুর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ব দেওয়া উচিত। কাউন্সিল নিয়ে বিএনপি যে লুকোচুরি করছে, তার প্রধান কারণ হলো এই নেতৃত্বের দ্বদ্ব। তবে একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপির নেতৃত্বে বেগম খালেদা জিয়া কেবল এখন নামেই আছে। দলটি আসলে তারেক জিয়ার হাতে। তারেক জিয়ার সিদ্ধান্তেই সবকিছু হচ্ছে। খালেদা জিয়ার ভূমিকা এখানে খুবই সামান্য। তবে খালেদা জিয়ার ভূমিকা যাই হোক, সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে বিএনপির একেবারেই তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে খালেদা জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা তারেকের চেয়ে অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে তারেক জিয়া দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ঝুঁকি নিবেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com