মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১   Tuesday, 20 April 2021.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Apr-07-2021 03:35:21 PM


 

No image


কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের কাউনিয়ায় খরা ও প্রচণ্ড তাপদহে বিস্তীর্ণ মাঠের ইরি-বোরা ধানের ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। গত পাচ মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ার ফলে এবার বোরা সহ বিভিন্ন ফসল আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। বাধ্য হয়ে তাঁরা সেচযন্ত্রের সাহায্যে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে তাঁদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। গ্রামগঞ্জে মসজিদগুলোতে বৃষ্টির পানির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হচ্ছে। কৃষকরা আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দে রে তুই.. বলে দু’হাত তুলে সৃষ্টিকর্তার কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছে।

‘এই সময় ক্ষেতে পর্যাপ্ত পানির দরকার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নাই, জমিতে সেচ দিয়েও ক্ষেত রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। জমিতে সেচ দেয়ার পর তা নিমেষেই হারিয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা বিদ্যুৎ চালিত ও শ্যালো মেশিন দিয়ে ক্ষেত রক্ষা করার চেষ্ঠা করছে ।’

রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এ অঞ্চলে ৩৩/৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। একদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে গত কয়েক মাস ধরে এ অঞ্চলে কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেখা দিয়েছে খরা। বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা জমিতে সেচের মাধ্যমে ইরি-বোরো সহ বিভিন্ন ফসল রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে রাস্তা ঘাট ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, এবার উপজেলায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরা ও আউস জাতের আমন এবং প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে পাট এবং বাদাম, ভুট্টা সহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করেছে কৃষকরা। একটানা খরা ও প্রচন্ড তাপদহে এসব ক্ষেতের পানি নিমিষেই শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা জমিতে সম্পুরক সেচের মাধ্যমে ইরি-বোরো সহ বিভিন্ন ফসল রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। এতে করে ফসলের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়া সহ উৎপাদন লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার সংশয় প্রকাশ করছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর গত বছরের তুলনায় দেড় থেকে ২ ফিট নিচে নেমে গেছে।

উপজেলা কৃষি কমকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গত ২২ অক্টোবর কাউনিয়া অঞ্চলে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও আর কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়নি। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর গত বছরের তুলনায় দেড় থেকে ২ ফিট নিচে নেমে গেছে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ক্ষেতে সেচ দেয়া সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে।

বল্লভবিষু গ্রামের কৃষক আনোয়ার জানান, দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি দেখা নাই। খরা আর প্রচন্ড তাপদহে  জমি পোড়া যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের জমিতে সেচ দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। বিদ্যুৎ চালিত সেচ যন্ত্র দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছি। একই গ্রামের কৃষক সামছুল মিয়া বলেন, বর্গা নিয়ে ৫০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করছি। তাতেও যদি পানি না থাকে, তাইলে কেমন করি বাঁচমো। ক্ষেত রক্ষার জন্যে প্রতিবেশীর কাছে টাকা ধার করিয়া ক্ষেতে সেচ দিয়া পানি দেওয়া হইতেছে। প্রকৃতির দেয়া পানির বেশি দরকার হয়। বৃষ্টির পানি রহমতের পানি।

নাজিরদহ গ্রামের কৃষক সামছুল ও সোনা মিয়াসহ অনেকে জানান, এই সময় ক্ষেতে পর্যাপ্ত পানির দরকার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নাই, জমিতে সেচ দিয়েও ক্ষেত রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। জমিতে সেচ দেয়ার পর তা নিমেষেই হারিয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা বিদ্যুৎ চালিত ও শ্যালো মেশিন দিয়ে ক্ষেত রক্ষা করার চেষ্ঠা করছে।  তাঁরা বলেন, খরা ও প্রচন্ড তাপদহ অব্যাহত থাকলে একদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। অন্যদিকে ধানের উৎপাদনও কম হবে।

পল্লীমারী গ্রামের কৃষক সোবহান আলী জানান, পাট বুনলেও বৃষ্টির অভাবে তা গজিয়ে উঠছে না। পুকুরের পানি শুকিয়ে গিয়ে মাছ মারা যাচ্ছে। মৎস্য চাষীরা শ্যালো মেশিন দিয়ে পুকুরে পানি দিয়ে পোনা মাছ রক্ষার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com