রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বার ২০২১   Sunday, 19 September 2021.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Sep-14-2021 06:17:17 PM


 

No image


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামে বেসরকারি ভাবে গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্ডেন ও কোচিং সেন্টার গুলো গত দেড় বছরে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ২৬৮টি কিন্ডারগার্ডেন স্কুল এবং ১৮৮টি কোচিং সেন্টারে (ছায়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) পড়াশুনা করতো প্রায় এক লাখ ৮৪হাজার ৪শত শিক্ষার্থী। কর্মরত ছিলো প্রায় সাড়ে ১০হাজার শিক্ষক। করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আয় না থাকলেও বাড়ি ভাড়া দিতে হয়েছে নিয়োমিত। অনেকে বাকি রেখেছেন ভাড়া। করোনার ১৭মাসে ভাড়া গুনতে হয়েছে ১১ কোটি ৬২লাখ ৮০হাজার টাকা। অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়ায় শতকরা ৩০ভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফলে বিপুল পরিমান শিক্ষার্থী পড়েছে বিপাকে। ইতি মধ্যে বেকার হয়ে পড়েছেন ৩হাজার ৬০৪জন শিক্ষক।

কুড়িগ্রাম জেলা নর্থ বেঙ্গল কিন্ডারগার্ডেন এ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট সোসাইটির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান সরকার জানান, জেলায় প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বপুর্নো ভুমিকা রাখছে ২৬৮টি কিন্ডারগার্ডেন স্কুল। গড়ে শিক্ষক সংখ্যা ২হাজার ৬৮০জন। আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩হাজার ৬শত। এসব প্রতিষ্ঠানের গড় ভাড়া ১৫হাজার টাকা। এ হিসাবে গত ১৭ মাসে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও ভাড়া গুনতে হয়েছে ৬কোটি ৮৩লাখ ৪০হাজার টাকা। অনেকের টাকা বাকি থাকায় এখনও প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। গত বছর শেষের দিকে স্কুলর ভাড়া দিতে না পাড়ায় এবং আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উলিপুরের প্যারাগন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক রওশন আহম্মেদ আতœহত্যা করেন। অনেক শিক্ষক পেশা পরিবর্তন করেছে। চলেগেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজের সন্ধানে। সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেদেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও অধিকাংশ কিন্ডারগার্ডেন স্কুল গুলো এখনও নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংকট এবং ভাড়ার টাকা দিতে না পারায় শতকরা ৩০ভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে করে ২হাজার ৬৮০জন শিক্ষক বেকার হয়ে যাবে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ছায়া শিক্ষা ব্যবস্থা (কোচিং সেন্টার) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি আলী আহমেদ খন্দকার জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ৩য় শ্রেণী থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশুনা করায় ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান (কোচিং সেন্টার)। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে ৭হাজার ৫২০জন শিক্ষক জড়িত। শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৩১হাজার। আয় না থাকলেও গত ১৭ মাসে ( গড়ে প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে ১৫হাজার টাকা হিসাবে) বসে বসে ভাড়া দিতে হয়েছে  ৪ কোটি ৭৯ লক্ষ ৪০হাজার টাকা। ইতি মধ্যে কোচিং সেন্টারের ২হাজার ৮শত জন শিক্ষক পেশা বদলিয়েছে। ফলে অনেক গুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। আসবাবপত্র নষ্ট হয়েগেছে। ঘরের মেরামত এবং সৌন্দর্য্য বর্ধনের প্রয়োজন। কিন্তু প্রধান সমস্যা অর্থনৈতিক সংকট। দু/চারটি ছাড়া প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান এখনও চালু না হওয়ায় প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায় ৪৮টি ছায়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কোচিং সেন্টার) বন্ধ হয়েগেছে। সরকারের সুষ্ঠু নীতিমালার আওতায় এসব প্রতিষ্ঠানকে আনতে না পারলে শিক্ষা ব্যাবস্থায় বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসবে।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com