সোমবার, ১৮ অক্টোবার ২০২১   Monday, 18 October 2021.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Sep-17-2021 07:36:34 PM


 

No image


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের(রসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুদকে দায়ের করা মামলায় রংপুরে কর্মরত কালের কন্ঠ রংপর অফিসের আলোকচিত্রী গোলজার রহমান ওরফে আদর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। ওই মামলায় তিনি সাক্ষী ছিলেন কিন্তু দুদক তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত প্রকৌশলীকে রক্ষা করতেই তাকে মামলায় আসামী কওে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছেন। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই সাংবাদিকের পরিবারের পক্ষ থেকে। প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন রংপুরে একই কর্মস্থলে প্রায় ১৮ বছর ধরে কর্মরত। সেই সময়ের রসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ বর্তমানে দুদকের পরিচালক হিসেবে কর্মরত।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব-১৩ এর একটি দল তাঁকে রংপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান বাবুর ইঞ্জিয়ারপাড়ার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। পরে মহানগরীর হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানার পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের হাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ বিগত রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত সরফ উদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর আমলে সিটি করপোরেশনে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ৩০ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগে দুদকে মামলা হয়। ওই মামলার সাক্ষী ছিলেন আদর রহমান। পরে প্রভাবশালী ওই চক্রকে রেহাই দিতে সাক্ষী থেকে আদর রহমানকে আসামী করে গত ১৫ ফেব্রæয়ারি আদালতে একটি অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় আদর রহমানকে। অভিযুক্ত ওই প্রকৌশলী রংপুর পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন গঠ নপর্যন্ত প্রায় ১৮ বছর ধরে একই কর্মস্থলে আছে।

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) ঠিকাদারি কাজের জন্য গণমাধ্যমে দরপত্র প্রকাশ না করে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের যোগসাজশে ৩০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয়। এর সাথে ওই প্রওকৗশলী জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের আড়াল করতে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত সরফ উদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর ক্যামেরাম্যান কাম গনসংযোকারী আদর রহমানকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুর কার্যালয়।

প্রায় আড়াই বছর আগের ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট দুই প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হয়। সে সময় অভিযোগের সাক্ষী ক্যামেরাম্যান মো. গোলজার রহমান আদরকেই একমাত্র আসামি করে গত ১৫ ফেব্রæয়ারি রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জমা দেন দুদক জেলা সমন্বিত কার্যালয়, রংপুরের উপসহকারী পরিচালক নূর আলম।

চাকরির শর্ত অনুযায়ী, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও অনুমোদনের কোনো ক্ষমতা ক্যামেরাম্যান গোলজারের ছিল না। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী দরপত্রসহ সব কাজে সই করেন। সেই সময়ের রসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ বর্তমানে দুদকের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনও পদোন্নতি পেয়ে রসিকের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী হয়েছেন।

এ ঘটনায় তাঁদের দায় এড়াতে কৌশলে ক্যামেরাম্যানকে আসামি করা হয়েছে। আরো জানা যায়, দরপত্র সংবাদপত্রে প্রকাশে ক্যামেরাম্যান-কাম-জনসংযোগ সহকারীর কোনো ক্ষমতা বা প্রমাণ না থাকলেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদের একটি প্রত্যয়নপত্র আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সাক্ষীকে আসামি বানানোর মামলার অভিযোগপত্রে সে সময় সংশ্লিষ্টরা স্বাক্ষর করার ক্ষমতা থাকার কারণে অভিযুক্ত হতে পারেন এই শঙ্কায় কর্মকর্তা আজাদ ও এমদাদ হোসেনও হন সাক্ষী। সাক্ষী করা হয়েছে এক বছর আগে মারা যাওয়া স্থানীয় দৈনিক দাবানল সম্পাদক খন্দকার গোলাম মোস্তফাকেও। ঘটনার সময় প্রয়াত সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু দায়িত্বে থাকলেও সাক্ষী করা হয় বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজুর রহমানকে।

উটো সাংবাদিক গোলজার রহমান আদর ক্যামেরাম্যানের দায়িত্বে থাকলেও অভিযোগপত্রে তা এড়িয়ে তাঁকে সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা বলা হয়। গোলজারের দাবি, হঠাৎ সাক্ষী থেকে তাঁকে আসামি বানানোর তথ্য পেয়ে অবাক হন এবং দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর পুনঃ তদন্তের আবেদন করেন। এর পরও প্রভাবশালীদের চাপে তাঁকে মামলার একক আসামি করা হয়। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রæয়ারি গোলজার দুদক চেয়ারম্যানের কাছে পুনঃ তদন্তের আবেদন করেন।

গত ২৯ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত দুদকের পাঠানো পত্রের সূত্রে জানা যায়, এমদাদ হোসেনের অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দুদক থেকে কাগজপত্র তলব করা হয়েছে। তিনি সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক বাতি স্থাপন প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ও স্পেসিফিকেশন, দরপত্র খোলার বিররণী, কার্যাদেশ, পরিমাপ, বাজারদর যাচাই-বাছাই কমিটির অনুমোদনের সকল কাগজপত্র নিয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে মেয়রের কাছে রেকর্ডপত্র তলব করা হয়।

এ ব্যাপারে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আদরের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোন বিরোধ নেই। তাকে কে বা কারা কিভাবে এ ঘটনায় জড়িত করেছে তা আমার জানা নেই। সিটি কর্পোরেশনের একজন ক্যামেরাম্যান হিসেবে কি করে আসামী করা হয় এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলে তা এড়িয়ে যান। দুদকে তার কাগজপত্র তলবের বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দুদক কার্যালয়ে আমাকে তলব করলে আমি কাগজপত্র নিয়ে সাক্ষাত করি। 

এদিকে, আদরকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনায় রংপুর ফটোজার্নালিস্ট এসোশিয়েশনসহ রংপুরের সাংবাদিক সমাজ নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর মুক্তি দাবি করেন। আদর রহমান রংপুর ফটোজার্নালিস্ট এসোশিয়েশনের রংপুর শাখার সভাপতি। তিনি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র সরফুউদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর (প্রয়াত) সময়কালে ক্যামেরাম্যান কাম গণসংযোগকারী ছিলেন।


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image

আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com