মঙ্গলবার, ৯ আগষ্ট ২০২২   Tuesday, 9 August 2022.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Jun-28-2022 06:35:20 PM


 

No image


দ্বিতীয় পর্যায় টাকা ফেরৎ যাওয়ায় আর্থিক দৈন্যদশায় শ্রমিকরা

নীলফামারী প্রতিনিধি: 

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখান ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে টাকা লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয় শ্রমিকদের ৩ হাজার থেকে সর্ব্বোচ্চ ৭ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা ভাগাভাগি হয়েছে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাঝে। এছাড়াও তাদের গাফলাতি, স্বেচ্ছাচারিতার দ্বিতীয় পর্যায় কাজের ২৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ফেরত গেছে। ফলে শ্রমিকরা আর্থিক দৈন্যদশায় দিনাতিপাত করছেন।

জানা গেছে, চাঁদখানা ইউনিয়নে ১৮৪ জন শ্রমিক ১ম পর্যায়ে ৯টি প্রকল্পে কাজ করে। কাজ শেষে প্রত্যেক শ্রমিক প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে ৪০ দিনে ১৬ হাজার টাকা মজুরী পাওয়ার কথা। এজন্য মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি চালুও করা হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান মেম্বাররা শ্রমিকদের রকেট এ্যাকাউন্ট করা সিমকার্ড নিজের জিম্মায় রেখে প্রতিজন শ্রমিককে ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার করে মজুরী দিয়ে বিদায় করেন।

১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক লালবি বেগম জানান, আমার রকেট এ্যাকাউন্ট করা সিমকার্ড মেম্বার হাসানুর এসে নিয়ে যায়। কাজ শেষের অনেকদিন পর আমাকে ডেকে ৩ হাজার টাকা হাতে দেয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি পাবো ১৬ হাজার টাকা সেখানে আপনি ৩ হাজার টাকা কেন দিলেন। একথা বলায় মেম্বার বলেন এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে দ্বিতীয় পর্যায়ে আপনি কাজ করতে পারবেন না। তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে অন্য শ্রমিকের নাম অন্তভুক্ত করবো।

একই কথা বলেন শ্রমিক রেনুফা বেগম, ছাহেরা বেওয়াসহ অনেকে। ৭ হাজার টাকা পেয়েছেন একই গ্রামের ফুলমতি বেগম। কাজ করে এখন পর্যন্ত কানাকড়িও পানি অঞ্জলী রাণী, দিবা রাণী, ঝড়িয়া বর্মম ও হাতেম আলী।

৪ নম্বর  ওয়ার্ডের শ্রমিক শাহার বানু বলেন, মেম্বার জাহাঙ্গীর আমার পারিবারিক বিরোধের সুযোগ নিয়ে আমাকে একটি পয়সাও দেয়নি। তারা অভিযোগ করে আরও বলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার বাহারুলের স্ত্রী রিক্তা বেগম কাজ না করে ১৬ হাজার টাকাই পেয়েছেন।

আবার ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ওলিয়ার রহমানের নাম ৬ নম্বর ওয়াড তালিকা দিয়ে শ্রমিকের মজুরীর টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।

এছাড়াও চেয়ারম্যান-মেম্বারদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দ্বিতীয় পর্যায়ের ২৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ফেরত গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু হাসনাত সরকারের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি দ্বিতীয় পর্যায়ের টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, শ্রমিকদের টাকা, চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ভাগাভাগি করে নিয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাঁদখান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজার রহমান হাফির সাথে শ্রমিকদের মজুরীর টাকা লুটপাটের কথা হলে তিনি বলেন এ ব্যাপরে সচিব জানেন। আমি কিছু জানি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এখনও কেউ অভিযোগ করেনি।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com