শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বার ২০১৯   Friday, 6 December 2019.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Nov-12-2019 08:56:11 PM


 

No image


দিনাজপুর প্রতিনিধি:

নিয়মিত ক্লাস না করায় দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ২৬০ জন শিক্ষার্থীকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের দিনের পর দিন ক্লাস করার তাগিদ দিলেও শিক্ষকদের কোন কথাই কর্ণপাত করেনি তারা। এজন্যই কলেজ কর্তৃপক্ষ অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে দিনাজপুর মহিলা কলেজের সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভবাকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা এসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা কলেজের সামনে এসে ঘণ্টা খানেক চেষ্টা করেও কলেজের ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি পায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই ঘুরে যেতে হয়েছে ক্লাস না করা এসব শিক্ষার্থীদের।
কলেজ সূত্রে জানাযায়, এবার দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৯২ জন। এদের মধ্যে মানবিক বিভাগে ২৯৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ২৩৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১০০ জন। ৮৯১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে ৬৩২ জন এবং পরীক্ষা দিতে পারছে না ২৬০ জন শিক্ষার্থী।
তবে নিয়মিত যারা ক্লাস পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল সেসব শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র দেখিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পায়। দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী তামান্না তাসনিম রুমা বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ক্লাস করেছি। প্রতিদিন আমাদের ৬টি করে ক্লাস হত। নিয়মিত ক্লাস করার ফলে আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছি। 
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ক্লাস করিনি। ক্লাস করলে প্রাইভেট কোচিং করার সময় পাওয়া যায় না। আবার অন্যান্য সরকারি কলেজে দুপুর ১টার মধ্যেই ছুটি হয় কিন্তু আমাদের এখানে বিকাল আড়াইটার পর ছুটি দেয়। এজন্য অনেকেই ক্লাসে আসি না।’ কলেজে নিয়মিত ক্লাস না করার পক্ষে একাধিক অভিভাবকও (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘কলেজে ঠিকমত ক্লাস হয় না। আবার ক্লাসে আসলে বাচ্চারা কোচিং করতে পারে না। এজন্য অনেকেই ক্লাসে ঠিকভাবে আসে না।’
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এসব অভিযোগ নাকচ করে দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগি অধ্যাপক আবেদুর রহমান বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস না করে বাইরে কোচিং কিংবা প্রাইভেটের উপর নির্ভর করে। অথচ আমরা এখানে সরকারের বেতনভাতা পাই তাদেরকে পড়ানোর জন্যই। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে না আসার কারণে প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। আমরা এটার প্রতিরোধ করার জন্যই অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেইনি।’
দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামসুল আলম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের দফায় দফায় নিয়মিত ক্লাস করার জন্য বলেছি। মোবাইল ফোনে সকল অভিভাবকদের মেসেজও প্রদান করা হয়। অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশও করেছি কিন্তু তারপরেও যখন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসে না তখন আমাদেরই খারাপ লাগে। অনেকদিন আগে থেকে বলার পরেও যারা ক্লাস করেনি তাদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা দিতে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী শুধু কলেজে ভর্তি হলো আর সময়মত পরীক্ষা দিয়ে পাস করে গেল এটা হতে পারে না। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের মাধ্যমে তাদের নীতি নৈতিকতা, সামাজিক আচার-আচরণ ও গুণগত শিক্ষা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি। প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এসব চায় না। বর্তমানে অনেক অভিভাবকও তাদের সন্তানদের জন্য কোচিং নির্ভর হয়ে পড়েছে। এসব দূর না করলে এবং খারাপ ফলাফল করলে সব দোষ শিক্ষকদের ঘারে এসে পড়ে।

 



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com