বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০   Thursday, 2 April 2020.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Feb-23-2020 09:14:45 PM


 

No image


কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তার কড়াল গ্রাসে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারা হাজারও মানুষেরা জীবন যুদ্ধে হার মানেনি। নদীতে জেগে উঠা বালুচরের অনেক স্থানে মিষ্টি কুমড়াসহ সবুজ শাকসবজি চাষ করে ভূমিহীন মানুষেরা এখন তাদের দৈনন্দিন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তারা মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, আলুসহ নানা রকমের ফসল ফলিয়ে দারিদ্রতা কেটে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নিরণœ মানুষের ভাগ্য বদলের প্রচেষ্টার আশাব্যাঞ্জক সবচিত্র বালুচরে। একসময় প্রমত্তা তিস্তার ভাঙনে যাদের বাড়িঘর ভিটেমাটি সুখের সংসার হারিয়ে গিয়েছিল। তাদের অনেকেই বালুচরে ফসল উৎপাদনের চেষ্টা করছেন। অনেকে সার্থকও হয়েছেন। অনেকে বালুচরে নির্মাণ করেছেন আধাপাকা বাড়ি। চরাঞ্চলে অন্যান্য ফসল ফলানোর পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছে।

বালুচরের যে দিকে চোখ যায়, সে দিকেই শুধু মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত। এ যেন সবুজের চাদরে ঢাকা নয়নাভিরাম দৃশ্য। বালুচরে মেশিন বসিয়ে পানি সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃক্ষলতা বিহীন চরের মাঝে কৃষকদের ফসল ফলানোর দুঃসাহসী পদক্ষেপ। আর চরাঞ্চলে কৃষিখাতের দিকে সরকারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভূমিহীন চাষীদের মিষ্টি কুমড়া চাষে গোবর সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ প্রদান করেছে।

উপসহকারী কৃষি অফিসার এমমাদাদুল হক জানান, ভুমিহীন মানুষেরা চরাঞ্চলে অন্যান্য ফসল ফলানোর পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষাবাদ করে দারিদ্রতা জয় করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।

চরহয়বৎখাঁ গ্রামের ভূমিহীন চাঁন মিয়া (৬১) জানান, তাঁর নিজের ভিটামাটি নেই। তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন বাঁধের রাস্তায় ঘর তুলে বসবাস করছেন। ১৩ জনের সংসার তাঁর। অন্যের জমিতে কৃষাণ দিয়েই সংসার চলতো তাঁর। এ বছর জেগে উঠা বালুচরে ২৪ শতাংশ জমিতে মিষ্টিকুমড়ার চারা লাগিয়েছেন। আর মিষ্টি কুমড়া বিক্রি টাকা দিয়ে আগামী বছর তার সংসার চলবে ভালোভাবেই।

চর রাজিব গ্রামের আমিনুল (৩৮) জানালেন, অন্যের দেখাদেখি গত তিনবছর ধরে বালুচরে মিষ্টিকুমড়া চাষ করছি। এখন সংসার ভালোই চলছে। তিনি জানান, তিস্তাই খেয়ে ফেলেছে পরিবারের সবকিছু। সেই তিস্তাতেই কুমড়া চাষ করে এখন ক্ষুধা নিবারণের স্বপ্ন দেখছি।

শুধু আমিনুল নয়, একই কথা জানালেন চররাজিব গ্রামের আমেনা বেওয়া (৪২)। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের দেখা শুনার দায়িত্বের পাশাপাশি চাষাবাদে মন দিয়েছেন। চরে দুই বিঘা জমিতে কুমড়ার চাষও করেছেন। তিনি গত মৌসুমে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় ২০শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে আয় করেছেন প্রায় ২৮ হাজার টাকা। তিনি জানান, জমিতে তেমন সেচ ও সার দিতে হয়না। পরিচর্যা ও চাষাবাদে খরচ কম তাই মিষ্টি কুমড়া চাষে লাভ বেশি। এবার একজনের দেখা দেখি চরের অনেক কৃষক মিষ্টি কুমড়া চাষে এগিয়ে এসেছে।

চরআজমখাঁ গ্রামের রাধা বালা (৬৩) বলেন, তিস্তা হামার গুলার বাড়ি ভিটা, জমি জিরাত সউগ কাড়ি নিছে। এলা নদীত ভাসা বালুচরত মিষ্টি কুমড়া, বাদাম আবাদ করি লাভ পাবার নাগছি। বালুচরের আবাদ হামার ভাগ্য বদলে দিবের নাগছে। হয়বৎখাঁচর গ্রামের আম্বিয়া, জোস্না, চরনাজিরদহ গ্রামের বিবিজান জানালেন, বালুচরে শুধু কুমড়া নয়, এখন পাট, ভূট্রা, আলুর আবাদ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল আলম বলেন, তিস্তা তীরবর্তী গ্রাম ও জেগে উঠা চরাঞ্চলে পলি বালু দোঁয়াশ মাটিতে অন্যান্য ফসলের মতো কুমড়ার ফলন ভাল হয়। পরিপক্ক পাকা কুমড়া দীর্ঘদিন ঘরে মজুত করে, পরে তা বাজারজাত করা যায়।

উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তিস্তায় জেগে উঠা বালুচর এখন আর অভিশাপ নয়। নিরন্ন মানুষরা তাদের ভাগ্য বদলের প্রচেষ্টার বালুচর হয়ে উঠেছে সবুজের আশীর্বাদ।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com