বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০   Thursday, 2 April 2020.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Mar-25-2020 11:07:51 PM


 

No image


নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পুকুরে মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তাদের মাঝে। স্থানীয়রা জানায় উপজেলার বেরুবাড়ি ইউনিয়নের ওয়াপদাবাজার, পূর্বগাছপাড়ি এলাকার আলাইকুড়িপাড়ের রাস্তার ধারেই একটি পুকুরে মাছের খাবার হিসেবে হাঁস, মুরগি, কবুতর, গরু, ছাগলের বিষ্ঠা ফেলে রেখেছে পুকুরের মালিক মৃত মজিবর রহমান (মেম্বার) এর ছেলে আব্দুস সবুর। ২-৩ মাস আগে থেকে এই পুকুরে এসব আবর্জনা ফেলেন পুকুরের মালিক। এতে করে স্থানীয়সহ পথচারীরা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পুকুরঘেঁষা রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে পারছেন না বাজারে চলাচলকারীসহ শিক্ষার্থীরা। এমনকী পুকুরের পশ্চিম পাড়ে রয়েছে একটি মসজিদ। দুর্গন্ধে নামাজ আদায় করতেও অসুবিধা হচ্ছে মুসল্লীদের। স্থানীয়রা একাধিকবার পুকুরের মালিককে বিষয়টি জানালেও তোয়াক্কা করছেন না। বরং বলছেন আমার পুকুর আমি যা করি আমার খুশি। এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। পুকুরের দুর্গন্ধে শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের রোগ ব্যাধি। ইতোমধ্যে কয়েকজন শিশু ডায়েরিয়া রোগেও আক্রান্ত হয়েছে বলেও জানান তারা। এমনকী আহসান হাবিব নামের ৫বছরের একটি শিশু ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৃত শিশুর পরিবার। এছাড়াও ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বাচ্চা মিয়ার ছেলে জাহিদ হাসান (০১), আনোয়ার হোসেনের মেয়ে আছফা মণি (৯মাস)সহ আরও কয়েক শিশু। আছফা মণির দাদি আমিনা বেগম জানায়, গ্রামে গ্রামে ফেরি করে আসক্রিম বিক্রি করে সংসার চালান আছফার বাবা আনোয়ার হোসেন। মেয়ের ডায়রিয়া রোগে অনেক টাকা খরচ হয়েছে তার। নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ দিন রেখে বাড়িতে নিয়ে আসেন ২৩ মার্চ সোমবার। এখনও অসুস্থ নাতনী আফছা। স্থানীয় দুলু মিয়া কামরুজ্জামান, আব্দুল মজিদ, চায়না বেগম বলেন, প্রায় ৩ মাস থেকে প্রকট দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে দিনাতিপাত করছেন তারা। রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করাও যায়না। বাড়িতে থাকাও দুস্কর। সবসময় প্রকট দুর্গন্ধে সময় পাড় করতে হয়। এমনিতেই সারাদেশসহ বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এতে করে এই দুর্গন্ধে ভয় হয় করোনা রোগে ধরে কি না। ৪র্থ শ্রেণির ছোট বাবু, ৫ম শ্রেণির মনিরুজ্জামান বলেন, পুকুরের দুর্গন্ধে আমরা স্কুলে যেতে পারি না। এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসা করলে বমি আসে। পথচারীরা জানায় প্রতিদির তারা ওয়াপদা বাজার ও নাগেশ্বরী উপজেলা সদরসহ নিয়মিত এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেনে। কিন্তু এ পথ দিয়ে হাঁটতে নাক চিপে ধরে যাতায়াত করতে হয়। কখন কার জানি করোনা রোগ আক্রান্ত হতে হয় তার ঠিক নেই।

এ ব্যাপারে পুকুরর মালিক আব্দুস সবুর বলেন, মাছের খাবারের জন্য পুকুরে লেয়ারের বিষ্ঠা দেয়া হয়েছে। বস্তার মুখ খুলে দেয়া হয়েছে। এখন আর তেমন গন্ধ নেই।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানলাম। তবে পুকুরের মালিককে আগে সচেতন ও সাবধান করে দেয়া হবে। যদি তিনি না মানেন পরে মোবাইল কোর্টের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর আহমেদ মাসুম বলেন, বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com