সোমবার, ১০ আগষ্ট ২০২০   Monday, 10 August 2020.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Jul-31-2020 07:46:38 PM


 

No image


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুর নগরীর ওপর দিয়ে যাওয়া রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক খানাখন্দে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। অসংখ্য বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। বিশেষ করে রংপুর নগরীর প্রবশেদ্বার মর্ডাণ মোড় থেকে পার্কের মোড়, সাতমাথা, নব্দিগঞ্জবাজার, তালুকউপাশু, মীরবাগ, জুম্মারপাড় ও ভেলুপাড়া, কাউনিয়া রেলগেট এলাকায় মহাসড়কে বড় বড় গর্তে হওয়ায় দুর্ঘটনার আতঙ্কে ভুগছেন চালক ও যাত্রীরা।

সড়ক জনপথ বিভাগ রংপুর কার্যালয় সূত্র জানায়, রংপুর-কুড়িগ্রাম (৫০৬, ৫০৭ পুরো ও ৫০৯ এর আংশিক) জাতীয় মহাসড়ক ৪৬ কিলোমিটার। এরমধ্যে লালমনিরহাটের অধিনে ১৩ কিলোমিটার ও কুড়িগ্রামের অধিনে ১২ কিলোমিটার এবং রংপুরের অধিনে (বিভাগীয় নগরীর প্রবশেদ্বার মর্ডাণ মোড় হতে কাউনিয়ার তিস্তা সড়ক সেতু দক্ষিন প্রান্ত) পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার। রংপুরের অধিনে ২১ কিলো মিটারের মধ্যে ১৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য বড় খানাখন্দের সৃষ্টি সহ সড়কের দুধারের একাধিক স্থানে দেবে গেছে। যাহা সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, রংপুর নগরীর প্রবশেদ্বার মর্ডাণ মোড় থেকে পার্কের মোড়, চকবাজার, কামাড়ের মোড়, এরশাদ নগর, তাজহাট, সাতমাথা, কলাবাড়ি, নব্দিগঞ্জবাজার, তালুকউপাশু, বুড়ালব্রিজ, বিজলঘন্টি, মীরবাগ, জুম্মারপাড় ও ভেলুপাড়া, জুম্মারপাড়, ভেলুপাড়া, মীরবাগবাজার, হলদীবাড়ী রেলগেট, কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বড়-ছোট অসংখ্য গর্তেও সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সড়কের দুধারের বেশকিছু অংশ দেবে গেছে।

কাউনিয়ার মীরবাগ বাজারের ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান জানান, কয়েকদিন আগে মীরবাগ স্ট্যান্ডের কাছে স্প্রীড ব্রেকারের পাশে গর্তে পড়ে ঢাকাগামী মালবোঝাই ট্রাকের পিছনের চাকার পাতি ভেঙ্গে আটকে পড়ে। পরে ট্টাক্টরের সাহায্যে ট্রাকটি টেনে তোলা হয়েছে।

নব্দিগঞ্জ বাজারের কালু মিয়া ও কুর্শার আলম মিয়া বলেন, প্রায়দিনেই গর্তে বাস ও ট্রাকের এক্সেল ভেঙ্গে আটকে পড়ছে। বিশেষ করে দ্রæতগতিতে আসা মটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলার গাড়ী গর্তে উল্টে গিয়ে চালক ও আরোহীরা আহত হন।

নগরীর চকবাজার এলাকার হাদিউজ্জামান হাদি ও তাজহাট এলাকার জাহিদ হাসান বলেন, খানাখন্দ সড়ক সওজের লোকজন এসে ইট আর বালু দিয়ে দায়সারা ভাবে মেরামত করেন। কিন্তুু কয়েকদিন যাওয়ার পর আবারও গর্তের সৃষ্টি হয়। এর কারণে দুর্ভোগ বাড়ে।

নগরীর তামপাট এলাকার অটো চালক সামসুল হক, শহিদুল ইসলাম ও কলিম উদ্দিন বলেন,  মর্ডাণ মোড় থেকে পার্কের মোড় ও সাতমাথা পর্যন্ত সড়কটি বেহাল দশা। একটি গুরুত্বপুর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না। এতে করে গাড়ী চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। প্রতিনিয়তই বাড়ছে দুর্ঘটনা। তাই দ্রæত সময়ে সংস্কার দাবি করেন তারা।

বাস-ট্রাক চালকরা বলেন, অন্য সড়কগুলোর চেয়ে একদিকে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক হচ্ছে সুরু। অপরদিকে অসংখ্য গর্তের কারণে সড়কটি চালকদের জন্য মহা আতঙ্কের। কখন দুর্ঘটনা ঘটে, মনে এই ভয় কাজ করে।

ঢাকা-নারায়নগঞ্জ থেকে ফেরা কুড়িগ্রামের নাগেশ^রীর নুরুল ইসলাম, কাঠালবাড়ির গোলাম আযম ও লালমনিরহাটের কমলাবাড়ির শাকিল আহমেদ জানান, বাড়ী থেকে যা খেয়ে বের হয়েছি সড়কের গর্তে গাড়ীর ঝাকুনিতে তা মনে হয় পেট হতে বের হয়ে যায়। অনেক যাত্রী গাড়ীর ঝাকুনিতে বমি করে ফেলেন। এছাড়া গর্তে গাড়ী কখন যে উল্টে যায়, এমন আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করছেন। তাদের মতো অন্য যাত্রীরাও একই কথা বলেন।

এ ব্যাপারে সড়ক জনপথ বিভাগ রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম শফিকুজ্জামান জানান, ৫০৬ নং জাতীয় মহাসড়ক সর্বোচ্চ ২২ টন ওজনের যানচলাচলের উপযোগী করে নির্মান করা হয়েছিল। প্রায় ৫০ বছর আগে নির্মিত এই মহাসড়কের বেজ ডেমেজ হওয়ায় এবং অভারলোড মালবোঝাই ট্রাক চলাচলের ফলে সড়কটি সংস্কারের পরও খানাখন্দের হচ্ছে। জাতীয় মহাসড়কটি পুণরায় নির্মাণে দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প তৈরী করে ঢাকা অফিসে পাঠানো হয়েছে।


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image

আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com