মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বার ২০২০   Tuesday, 1 December 2020.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Oct-30-2020 07:21:16 PM


 

No image


নিজস্ব প্রতিবেদক:

লালমনিরহাটের বুড়িমারী থেকে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা জুয়েল ধর্মভীরু ছিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ নিয়মিত কোরআন পাঠ করতেন তিনি। আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রংপুর নগরীর শালবনে তার বাসভবনে সরেজমিনে পরিবার ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

নিহত যুবক শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন রোকেয়া স্মরণী এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক ছিলেন। তার বড় মেয়ে জেবা তাসনিম এবার এসএসসি পাশ করেছে ও ছেলে তাশিকুল ইসলাম ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। 

শুক্রবার সকালে শালবনে তার বাসভবনে গিয়ে দেখা যায়, খবর পেয়ে এলাকাবাসীসহ আত্মীয় স্বজনরা ছুটে এসেছেন। পরিবারের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এখানকার আকাশ বাতাস। শুনশান নিরবতা পুরো এলাকা জুড়ে। 

স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবী, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে চাকরি চলে যাওয়ায় তার একমাত্র উপার্জনপথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মানষিকভাবে অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছিলেন তিনি। ডাক্তারের পরামর্শে সেবন করতেন ঔষধ।

তার বাড়িতে ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেকটি ঘরে পবিত্র কোরআন, হাদিসসহ ইসলামিক বিভিন্ন বই। ঘরের আলমারি ও দেয়ালে ঝুলছে ইসলামীক বিভিন্ন নিদর্শন ও দোয়ার ছবি। তার স্ত্রী হাতে তসবিহ নিয়েই আহাজারি করছেন। স্বজনরা তাকে শান্তনা দিচ্ছেন।

নিহত জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তা আহাজারি করতে করতে বলেন, আমার স্বামী অনেক সহজ সরল ছিলো।  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো, কোরআন- হাদিস পড়তো।  প্রত্যেক বছরই তিন-চারবার করে কোরআন খতম দিতো,  করোনার সময় কয়েকবার কুরআন খতম দিয়েছে।  আগামী বছর আমাকে নিয়ে হজ্বে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম আমরা। আমি বিশ্বাস করিনা সে কোনভাবেই কোরআন অবমাননা করতে পারে। যারা গুজব ছড়িয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার চাই।

তার বোন বোন হাছনা আক্তার নিতি বলেন, ২০১৬ সালে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ রংপুরের গ্রন্থাগারিক পদে ষড়যন্ত্র করে জুয়েলকে  চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য করা হয়। এতে প্রচন্ড রকমের মানসিক ধাক্কা পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরে সে। এতে  নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ধর্মের দিকে মনযোগ দেয়। সে নিয়মিত কোরআন হাদিসসহ ইসলামীক বই পড়তো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করতো। অনেক সময় আছরের নামাজ পড়ে মসজিদেই কোরআন-হাদিস পড়ে মাগরিবের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরতো। সে কোনভাবেই কোরআন অবমাননা করতে পারেনা। যারা গুজব ছড়িয়ে তাকে হত্যা করেছে তাদের আমি শাস্তি চাই। আমি শুনেছি তার বন্ধু সহ ঔষধ আনতে গিয়ে  বুড়িমারীতে মসজিদে আছরের নামাজ পড়ে মসজিদের ওয়ালের তাকে রাখা কোরআন নিতে যায়। এ সময় অসাবধানতা বশত কোরআন ও হাদিসের বই পায়ের কাছে পড়ে গেলে এটা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

নিহত জুয়েলের বন্ধু রংপুরের সিনিয়র সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি বলেন, আমরা চল্লিশ বছর থেকে একই এলাকায় থাকি। ছোটবেলা থেকে তাকে চিনি। একসাথে খেলাধুলাসহ নানান কাজ করতাম। সে আমাকে সবসময় তার বিষয়গুলো জানাতো। নামাজের সময় হলে সে নামাজেরজন্য ছুটে যেত, আশেপাশের লোকজনকেও  নামাজের জন্য ডাকতো।  ষড়যন্ত্র করে চাকরিটা চলে যাওয়ার পর সে অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছিল যার ফলে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ধর্মের দিকে মনোনিবেশ করেছিলো।

এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা এভাবে গুজব ছড়িয়ে নৃশংসভাবে জুয়েলকে হত্যার জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবী করেন। এছাড়াও বিকেলে হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসী রংপুর প্রেসক্লাব চত্তরে মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন।

উল্লেখ্য,  গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে লালমনিরহাটের  পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এবং তার বন্ধুকে পিটিয়ে আহত করা হয়।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com