মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১   Tuesday, 26 January 2021.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Nov-29-2020 06:16:28 PM


 

No image


রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

ভোরের সূযের্র আলো ফোটার আগেই ৩২টি পরিবারের নারী পুরুষ মিলে প্রায় ১৫০ জন মানুষকে বাধ্য হয়েই সেরে নিতে হচ্ছে প্রাকৃতিক (মলত্যাগের) কাজ। এতে পানিবাহিত নানারকম রোগসহ ডায়রিয়া আমাশয় কৃমিজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ওই পাড়ায় বসবাসরত বাসিন্দারা ।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারী ল্যাট্রিনের অভাবে নানারকম রোগসহ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওই পাড়ায় বসবাসরত বাসিন্দারা ।

¤প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপশহর নেকমরদ ঘনশ্যামপুর মৌজার একটি পুকুরের পাড়ের  এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সরকারি সম্পত্তি হওয়ার সুবাদে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)সোহাগ চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে গত বছরের জুন মাসে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আদিবাসী হিন্দু, মুসলিম ও হরিজন স¤প্রদায়ের ভূমিহীনদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। সেই পুকুর পাড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ মিলে মিশে সেখানে বসবাস করলেও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম সমস্যায় রয়েছেন বলে জানান তারা।

ঐ পাড়ার মালতি রাণি, শান্তু পাহানসহ অনেকে বলেন, গত বছরে ইএসডিও নামক এনজিওর সহায়তায় এবং আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি সোহাগ চন্দ্র সাহা এখানে আমাদের বাসস্থানের জন্য তিনশতক জায়গা নির্ধারণ করে ৩২টি পরিবারকে এখানে বসবাস করার সুযোগ করে দেন।

তারা অভিযোগ করে বলেন, ঋণ মাহজন করে মাথা গোঁজার ঘর করলেও অর্থনৈতিক অভাবে সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট স্থাপন করতে আমরা পারিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরে ঘুরেও আমরা সরকারীভাবে স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারিনি।

স্থানীয়রা মিলে মিশে কিছু ছোট সাইজের টিউবওয়েল স্থাপন করে পাড়ার পানি সরবরাহের ভোগান্তি কিছুটা কমিয়েছি। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট। তারা আক্ষেপ করে বলেন, দেশের নাগরিক হয়েও আমরা অবেহেলিত কেউ আমাদের খোঁজ রাখে না। যা করতে হয় তা লড়াই করেই আদায় করে নিতে হয়। তাই আমরা নিজেদের অবেহেলিত হিসেবে দাবী করি।

তারা সরকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট সুপেয় পানির ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের ঘরবাড়ীগুলো যেন সরকারী সহায়তার মধ্যে আনা হয়।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ১৩টি গুচ্ছগ্রামকে স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আনতে ইতিমধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র দিয়েছি। অনুমোদন পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না শনিবার মুঠোফোনে বলেন, এখনো মানুষ ঝোঁপঝাড়ে মলত্যাগ করছে এটা ভাবতে অবাক লাগছে। বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে অব্যশই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com