শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বার ২০২২   Friday, 30 September 2022.  



 উপসম্পাদকীয়


আমাদের প্রতিদিন

 Feb-18-2022 07:36:19 PM


 

No image


মোঃ রুপাল মিয়া

চাকরির স্বার্থে সব সময় গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয় না। একদিন সরকারি ছুটির দিনে বাসে করে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলাম। ঐ সময় রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছিল। তাই বাসে বেশ ঝাঁকুনি ছিল। পাশের সিটে বসা এক বয়স্ক মহিলা বললেন, সরকার দেশের প্রায় রাস্তাগুলো খুঁড়ে রেখেছে। আমি ওনাকে বললাম, সরকার যে দেশের উন্নয়ন করছে এটা তার প্রমাণ। আজ হয়তো একটু কষ্ট হচ্ছে কিন্তু পরে এর ফল পাওয়া যাবে। তাছাড়া তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে কাজের মান খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরপর আমি ওনাকে বললাম, আপনার গ্রামে কি বিদ্যুৎ আছে? তিনি বললেন, দুইবছর হল বিদ্যুৎ এসেছে।

তিনি আরোও বললেন, আমাদের গ্রামের রাস্তাও পাকা হচ্ছে। তাহলে বুঝুন, দেশের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে এতে কোন দ্বিমত নেই। আপনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন যে, আপনার গ্রামে বিদ্যুৎ আসবে বা গ্রামের রাস্তা পাকা হবে? তিনি বললেন, কখনো ভাবিনি আমার জীবদ্দশায় এমনটা হবে। রাস্তা পাকা, বিদ্যুৎ সংযোগ, ইন্টারনেট সেবাসহ অনেক শহুরে সুবিধা এখন গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালিকে ঐক্যবদ্ধ করে এনে দিয়েছিলেন আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা। পরবর্তী সময়ে স্বাধীন দেশে জাতির পিতা সংবিধানের ১৬ নং অনুচ্ছেদে নগর ও  গ্রামের  বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশ্যে কৃষিবিপ্লবের বিকাশ, শিক্ষা, যোযোগ ব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রুপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে অঙ্গীকার যুক্ত করেছিলেন।

গ্রাম ও শহরের মধ্যকার তফাৎ মূলত সুযোগ সুবিধায়। তবে মনে রাখতে হবে, সারা বিশে^ই নগরের বিবর্তন হয়েছে গ্রাম থেকে। গ্রামের কিছু লোক একত্রে জড়ো হয়ে শহর গড়ে তুলেছে। এরপর ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নত যোগাযোগ সবই শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এমনকি প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা বরাবরই ছিলেন শহরেই। ফলে বেশিরভাগ উন্নয়ন এখানেই হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়, হাসপাতাল সবই শহরে ভালো ছিল।  ফলে গ্রামগুলো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে ছিল।

বাংলাদেশের গ্রামই প্রায় ১৩ কোটি মানুষের ঠিকানা। গ্রামে বসবাসকারি অর্ধেকের বেশি মানুষের বযস ২৫ বছরের কম। গ্রামে উপার্জন বেশ কম আমাদের দেশে। গড় পারিবারিক আয় শহরের তুলনায় পাঁচ ভাগের তিন ভাগ। তাই আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠিীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গঠন এবং মানবিক জীবনযাপনে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। কারণ গ্রামীণ মানুষকে অবহেলিত রেখে উন্নত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। এমন প্রেক্ষাপটেই ‘ সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ ¯øাগান নিয়ে নতুন করে অগ্রযাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ।

বর্তমান সরকাররে একটি অঙ্গীকার হচ্ছে, গ্রামকে শহরে রুপান্তর করা। অর্থাৎ শহরের সব সুবিধা ও উন্নয়নের প্রবহমান ধারা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া। সে লক্ষ্যেই সরকার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের মূলমন্ত্র হল ‘ অন্তর্ভুক্তমূলক’। অর্থাৎ এর সুফল সবাই পাবে, আয় বৈষম্য কমবে এবং মানুষের কাজের ব্যবস্থা হবে। সরকার গ্রামকে আরো অন্তর্ভুক্তমূলক করতে উন্নয়ন বরাদ্দে গ্রামকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই দরিদ্রবান্ধব শিক্ষা, কৃষি ও গ্রামমুখী প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সুষম উন্নয়নের জন্য দারিদ্র্য বিমোচন ও পিছিয়ে পড়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে।

দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বেশ বৈচিত্র এসেছে। দেশের কৃষি কাজ যেমন সম্প্রসারিত হচ্ছে, তেমনি অকৃষি খাতও বহুগুণ সম্প্রসারিত হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি অকৃষিখাত, বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, গ্রামীণ পরিবহণ ও যোগাযোগ এবং গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সরকারি-বেসরকারি বিনিযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারের আয় ও কর্মসংস্থানে অকৃষি খাতের অবদান বাড়ছে। তবে বাজার ও বিপণন ব্যবস্থায় কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও পণ্য সরবরাহ নিশ্চিতের জন্য সড়কের উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগর ফলে ছোট ছোট শিল্পের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর শাখা গ্রামে বিস্তৃত করার জন্য কিংবা অনলাইনে সেবা সম্প্রসারণে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট এখন গ্রামে সহজলভ্য। মোবাইল ফোন, স্মার্টফোন গ্রামের মানুষের হাতে হাতে। অপারেটরগুলো নানা ইন্টারনেট প্যাকেজ দিচ্ছে। গ্রামের নিরক্ষর পুরুষ-মহিলারা সহজেই ইংরেজি অক্ষর টিপে ডিজিটাল মাধ্যমে কল করতে পারছে। এর মাধ্যমে স্বাক্ষরতারও সম্প্রসারণ ঘটছে। কৃষক কৃষি সম্পর্কে জানতে পারছে। সবদিক থেকে অভাবনীয় পরিবর্তন ঘটছে।

উন্নত জীবন ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকার সন্ধানে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করার নামে গ্রামের মানুষ আর শহরে পাড়ি জমাবে না। আধুনিক শিক্ষায় আলোকিত হবে প্রতিটি গ্রাম। আমার গ্রাম হবে আমার শহর। এরফলে আগামী কয়েক বছরে জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশে থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছে গেছে। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় হবে পাঁচ হাজার ডলারের বেশি। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ এই প্রত্যাশা করে।  

লেখক: সহকারী তথ্য অফিসার, আঞ্চলিক তথ্য অফিস, রংপুর।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com