রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বার ২০২১   Sunday, 19 September 2021.  



 প্রধান শিরোনাম


আমাদের প্রতিদিন
Sep-14-2021 06:21:54 PM
 

No image


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

স্বাধীনতার ৫০বছর পেরুলেও যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত উপজেলা রৌমারীতে। রাস্তা, সেতু, কালভার্ট না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উত্তরের সীমান্তবর্তি উপজেলার মানুষদের। উপজেলাতে ৭৬টি ছোট-বড় কাঠ ও বাঁশের সাকো ভরসা চলাচলের জন্য। উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত এ জনপদ।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশের একমাত্র মুক্ত অঞ্চল খ্যাত উত্তরের সর্বশেষ উপজেলা রৌমারী। কুড়িগ্রাম সদরের সাথে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন এই উপজেলার রয়েছে ব্রহ্মপূত্র,জিঞ্জিরাম, হলহলিয়া, কালো, ধরণী, সোনাভরি ও জালছিড়াসহ ৬টি  নদী। এখানে রয়েছে অসংখ্য জলাশয়,খাল-বিল। এসব খাল-বিলের উপর নির্মিত প্রায় ৪৭টি বাঁশ ও কাঠের তৈরী সাকো। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের অন্যান্য জেলায় আমুল পরিবর্তন হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন ঘটেনি রৌমারী উপজেলায়। ফলে দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গি হয়ে দঁ¦াড়িয়ে এই জনপদের মানুষের কাছে। সেতু না থাকায় বছরের পর বছর ধরে বাঁশ ও কাঠের তৈরী সাকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের। উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে। প্রায় সময় গর্ভবতী ও অসুস্থ্য রোগীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ভারী যানবাহন চলাচল না করায় পরিবহনে চরম ভোগান্তি পড়তে হয় এখানকার মানুষদের। যোগাযোগ অনুন্নত হওয়ায় সঠিক সময় বিদ্যালয় যেতে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভারী যানবাহ চলাচল করতে না পারায় ধান,চাল,পাট, ভুট্টাসহ শাক সবজির ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। ফলে অর্থনৈতিকভাবেও উত্তরের সর্বশেষ এই উপজেলার মানুষ। প্রতিদিন এই নড়বড়ে সাকো দিয়ে পারাপার করছে কয়েক লাখ মানুষ। উপযুক্ত মেয়েদের বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় অভিভাবক মহলও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখাযায়,উপজেলার যাদুর চর ইউনিয়নের কর্তিমারী জিসি টু বড়াইবাড়ি বিওপি সড়কের কাশিয়াবাড়িয়া কুড়ায় একটি সেতু না থাকায় ১০টি গ্রামের মানুষসহ তিনটি হাট-বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে রয়েছে। নৌকা দিয়ে পারাপার হতে করতে হচ্ছে। পণ্য আনা-নেয়া কৃষকদের খরচ বেশি পড়ছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারছে না প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকগণ। নারী,পুরুষ,শিশুসহ সকল বয়সের মানুষদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই পার হতে হয়। অথচ সেতুর অভাবে কয়েক লাখ মানুষের দুর্ভোগ যেন শেষই হয় না।

ভাওয়াল গ্রামের বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান(৭০) বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫০বছর পার হইল,কিন্তু হামরা একটা সেতু পাইলং না। অন্য অন্য জায়গায় উন্নয়ন হইলেও হামরা এটি কোন কোন উন্নয়ন হয় না। আমরা যে জন্মের পর থেকে দ্যাখতাছি মানুষ এমন কষ্ট করি যাইতাছে। শুনি কাতি মাস,আগুন মাসে সেতু হবে। কিন্তু সেতু আর হয় না। আমার বয়সে এখানে সেতু দ্যাখপার পামো কি না জানি না?

একই এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হক (৪৫) বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমাদের এলাকায় অনেকের বিয়ে যোগ্য মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে। ছেলে পক্ষ মেয়ে পছন্দ করলেও রাস্তার দুর্দশা দেখে আর সমন্দ করে না। আমরা চাই সরকার প্রত্যন্ত এলাকার রাস্তা-ঘাট ঠিক করে দেক।

পথচারী আছিরন বেগম(৫০) বলেন, বাবারে সেতু নাই, রাস্তা নাই কিযে কষ্টে হামার দিন যায় ভাষায় বলা যাবে না। কিছু দিন আগেও ডেলিভারী করার জন্য একটি মহিলাকে হাসপাতাল নেবার পথে মারা গেছে। শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় সঠিক চিকিৎসা নিতেও পারছে না এই এলাকার মানুষ।

দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণধরা গ্রামের বাসিন্দা এরশাদ আলী বলেন,দাঁতভাঙ্গা বাজারের সাথে কাউয়ারচর, খেতার চর,ধর্মপুর,ছাটখড়িবাড়ি গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তা এটি। গাড়ি-ঘোড়া চলবার পায় না। চিকন বাঁশের উপর দিয়ে মাল নিয়ে যাওয়া আসা করা নাগে। মানুষজন পিছলি পড়ে।হাত-পা চামড়া ছিলে যায়, পানিতে পরে পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এই রাস্তা একে একে দুই বার বলে পাশ হয়। হওয়ার পরে মন্ত্রী ওডি যায়,মন্ত্রী কডি এলা ঘুতা পারে,কডি এলা যায় আল্লাহ জানে হামরা গরিব-মুর্খ মানুষ বুঝি না। এই রাস্তার কাজ আর পাশ হয় না।

রৌমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী নাজমা আকতার বলেন,দীর্ঘ করোনার ছুটি কাটিয়ে সবাই যখন আনন্দ নিয়ে স্কুলে যায়। আর আমাদের একটি সেতুর অভাবে ৪-৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে পায়ে হেটে স্কুল যেতে হচ্ছে। এতে করে সময় নষ্ট হচ্ছে। দ্রæত উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারের দৃষ্টি কামনা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

রৌমারী টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির বলেন শৌলমারী কড়াকান্দা এলাকায় একটি সেতুর অভাবে প্রায় ১৫গ্রামের মানুষ,৫টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩হাজার শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা একদম ভেঙ্গে পড়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালিত করতে পারে না উপজেলা প্রশাসন। এই দুর্ভোগ সীমাহীন হয়ে পড়েছে মানুষের জন্য।

রৌমারী এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, বন্যা প্রবণ এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় ৩৭টি ছোট-বড় সেতুর প্রয়োজন বলে জানান তিনি। এরমধ্যে রংপুর বিভাগের অধিনে ৫৭মিটার এবং ৪২মিটার সেতুর টেন্ডার সম্পন্ন। অনুর্ধ্ব ১০০মিটার প্রকল্পের আওতায় ৯৬মিটার একটি সেতুর টেন্ডার হয়েছে। এছাড়াও জিওপি মেইনন্টেনেস হতে ৬টি সেতুর টপো গ্রাফি ও সয়েল সার্ভে শেষ হয়েছে খুব তাড়াতাড়ি এগুলো টেন্ডার হয়ে যাবে বলে জানান।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলাতে ৭৬টি ছোট-বড় কাঠ ও বাঁশের সাকো রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এলজিইডি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য বিভাগ মিলে সম্বনয় করে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের জন্য পরিকল্পনা করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com