শুক্রবার, ২০ মে ২০২২   Friday, 20 May 2022.  



 প্রধান শিরোনাম


আমাদের প্রতিদিন
May-13-2022 08:17:50 PM
 

No image


>> কম সময়ে এবং কম খরচেই আবাদ করে অধিক ফলন পাওয়ায় খুশী কৃষক

দিনাজপুর ও বিরল প্রতিনিধি:

দেশে প্রথমবার আবাদ করেই কৃষকদের মধ্যে ব্যপক সাড়া ফেলেছে বঙ্গবন্ধু ধান-১০০। তুলনামুলক কম সময় এবং কম খরচে রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ রোধ করার গুণসম্পন্ন এই ধান আবাদ করে বেশী ফলন পাওয়ায় আগামীতে এই ধানের আবাদ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে কৃষকরা। আর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎকৃষ্ট জিংক সমৃদ্ধ এই বঙ্গবন্ধু ধান দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পুরনে কার্যকর ভুমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু-১০০ ধানটি বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউটের (ব্রি) মাঠে ৫ বছর ফলন পরীক্ষার পর ২০১৭ সালে ব্রি’র আঞ্চলিক কার্যালয়সমুহের গবেষনা মাঠে এবং ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষকের মাঠে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। এরপর ২০২০ সালে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি কর্তৃক স্থাপিত প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ডের মাঠ মুল্যায়ন দল কর্তৃক সুপারিশের পর জাত হিসেবে ছাড়করনের আবেদন করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউট ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু ধান-১০০ নামে এটি অবমুক্ত করে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে বোরো মৌসুমে এই ধানটি চাষ করা হয় বাংলাদেশের এক’শ একর জমিতে। এর মধ্যে বিএডিসি’র কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স-এর আওতায় দিনাজপুরের বিরলেই আবাদ করা হয় ৫০ একর জমিতে। 

৫০ একর জমিতে বঙ্গবন্ধু ধান আবাদকারী দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক মতিউর রহমান জানান, অন্যান্য ধানের তুলনায় এই ধানের ফলন ভালো। পাশাপাশি এই ধানের রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতা থাকায় উৎপাদন খরচও কম হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতি একর জমিতে এই ধানের ফলন হয়েছে ৮৫ মন। যা অন্যান্য ধানের তুলনায় বেশী। তিনি জানান, কম সময়ে ভালো ফলন ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এই ধান আবাদে উৎসাহিত হচ্ছে অন্যান্য কৃষকরাও। ইতিমধ্যেই তার কাছে অনেকে বীজ চাইতে আসছেন অনেক কৃষক।

সস্প্রতি বিরলে বঙ্গবন্ধু-১০০ ধান কর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিএডিসি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র দিনাজপুরের যুগ্ম পরিচালক ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, শীত সহিষ্ণু, রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতা থাকায় বেশী ফলনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ধানের উৎপাদন খরচও কম। তাছাড়া এই ধানে উৎকৃষ্ট জিংকের পরিমান বেশী থাকায় বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দুর হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

বিএডিসি কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স দিনাজপুরের পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার বলেন, প্রথমবারেই ভালো ফলন পাওয়ায় আগামীতে এই ধানের বীজ ছড়িয়ে দেয়া হবে কৃষকদের মাঝে। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের অন্যান্য ধান আবাদ করতে সময় লাগে ১৫৫ থেকে ১৬০ দিন। সেখানে বঙ্গবন্ধু-১০০ ধান আবাদ করতে সময় লাগছে মাত্র ১৪৫ থেকে ১৪৮ দিন। তাছাড়া অন্যান্য ধানের চেয়ে এর ফলনও ভালো।

 



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com