ফুটবল টূর্ণামেন্টকে ঘিরে টিকেট বানিজ্য, প্রশাসন নীরব

আমাদের প্রতিদিন
2024-02-27 18:28:04

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সাত দিন ব্যাপী ফুটবল টূর্ণামেন্টকে ঘিরে চলছে রমরমা টিকেট বানিজ্য ও নারী ফুটবলের কথা প্রচার করে চলছে পুরুষ ফুটবল টূর্ণামেন্ট। প্রশাসনের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি কোন প্রকার অনুমতি।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসন ও গঙ্গাচড়া থানা পুলিশকে অভিযোগ করেও তারা কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি বলে আভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান জেনেপাড়া এলাকায় বুধবার থেকে শুরু হয়েছে সাতদিন দিনব্যাপী ফুটবল টূর্ণামেন্ট। ফসলি জমিকে খেলার মাঠ বানিয়ে তা কাপড় দিয়ে চারদিকে ঘিরে এ ফুটবল টূর্ণামেন্টের আয়োজন করছে জেনেপাড়া তরুণ সংঘ। পুলিশ পাহারাই চলছে খেলা। উক্ত খেলা উপভোগ করার জন্য দর্শকদের কাছে টিকেট বাবদ নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা করে। খেলা উপভোগ করার জন্য দর্শকরা টাকা দিতে না চাইলে খেলা দেখার জন্য তাদের কে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এতে করে ক্ষুব্ধ দর্শকরা। নারী ফুটবল খেলার কথা থাকলেও চলছে পুরুষ ফুটবল টূর্ণামেন্ট।

এসময় কথা হয় কোলকোন্দ ইউনিয়ন থেকে খেলা দেখতে আসা মজিবর রহমান (৫৬) তিনি জানান, বাবা মুই মেলাটে খেলা দেখচুং টাকা দিয়া খেলা দেখং নাই। এমরা মানুষকে খেলা দেখাইবে না টাকা কামাই করবে। এরা খেলার নামে চান্দবাজি শুরু করি দিছে। মুই শুননুং মহিলা মানুষ খেলাইবে মহিলা তা কোটে চ্যাংড়া গুলা খেলায়চোল। এমাক গুলাক লাগীল হয় খালি হালুয়া পেন্টি দিয়া মাইর।

মজিবর রহমান এর সাথে তাল মিলিয়ে বড়বিল ইউনিয়নের আমজাদ হোসেন জানান, মোর বয়স প্রায় ৫৯ বছর চলে চোল মুই আজ পর্যন্ত টাকা দিয়া খেলা দেখনু না। আজকে নাকি বেলে টাকা দিয়া খেলা দেখা নাগবে। মহিলা মানুষ ফুটবল খেলাইবে তা তো ভালো কথা গ্রামের মানুষ খুশি হয়া সবাই মিলি দেখমো তায় ফির টকা দেয়া লাগে। ২০ টাকা দিয়া ডুকি দেখং মহিলা নোমায় পুরুষ মানুষের খেলা।

মজিবর রহমান বা আমজাদ হোসেনেই নয় খেলার মাঠে কথা হয় প্রায় ১শত লোকজনের সাথে তারা বলছেন আমরা উপজেলা প্রসাশন ও গঙ্গাচড়া থানা পুলিশকে টাকা নেয়ার বিষয় বলেছি তারা কেনো ব্যবস্থা নেয়নি।

খেলা পরিচালনার সভাপতি আব্দুল্লা আল মামুন জানান, আমরা সংগঠনের উন্নয়নের জন্য এই টূর্ণামেন্ট করতেছি। এবিষয় গঙ্গাচড়া মডেল থানার (ওসি) দুলাল হোসেন জানান, আমি শুনেছি তবে আমাদের কাছ থেকে কেনো প্রকার অনুমতি নেয়নি তারা। গঙ্গাচড়া উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না জানান, আমি ওসিকে বলে দিচ্ছি খোঁজ নেয়ার জন্য।