নির্বাচনমূখী আ.লীগ,আন্দোলনে বিএনপি: সিদ্ধান্তহীনতায় জাপা

আমাদের প্রতিদিন
2024-02-25 14:01:14

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন,রংপুর জেলার রাজনৈতিক চিত্র

হারুন উর রশিদ সোহেল:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই পাল্টে গেছে রংপুর জেলার রাজনৈতিক চিত্র। তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। সরকারদলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করছেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে। একরাণে দলটির কেউ এখনও মনোনয়ন উত্তোলন করেনি। অন্যদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নির্বাচনের বিরোধীতা করে আন্দোলনে মাঠে আছে। পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারি সংস্থাগুলো নির্বাচন ঘিরে যে কোন সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা রুখতে সর্তক অবস্থানে রয়েছে। মহানগরীসহ জেলাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

এদিকে বর্তমানে রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বিদ্বতায় আগ্রহী আওয়ামী লীগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা ঢাকায় অবস্থান করছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে অনেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহও করেছেন। এই সাথে দলীয় মনোনয়নের জন্য যে যার মতো করে হাইকমান্ডের সাথে তদ্বির করছেন।

বিপরীতে তফসিল ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষিপ্তভাবে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি সহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। বামদলগুলোর কোন উল্লেখ্য কর্মসূচী চোখে পড়ছে না। বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনগুলোর দুই শতাধিকের বেশি নেতা-কর্মী কারাবন্দি রয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর জেলার শীর্ষ নেতারাসহ মহানগরীর অধিকাংশ নেতারা আত্মগোপনে রয়েছেন।আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা দ্বিধাদ্বেদ্ব আছেন।

এদিকে গত শনিবার রংপুর-১ ( গঙ্গাচড়া) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. রেজাউল করিম রাজুর পক্ষে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন দলের নেতাকর্মীর। গতকাল রোববার তা জমা করা হয়। একই আসনে গঙ্গাচড়া উপজেলা চেয়ারমান রুহুল আমিন,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান  আসাদুজ্জামান বাবলু ও গঙ্গাচড়া উপজেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক সাদেুকুল ইসলাম (সিএম সাদিক) দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। এছাড়াও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেত্রী সুমনা আক্তার লিলি, রংপুর-৩ ( সদর) আসনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি, রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, কাউনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া, রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোতাহার হোসেন মন্ডল মওলা, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে প্রধানমন্ত্রী ও আ.লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার ভাতিজা ও জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক একেএম ছায়াদত হোসেন বকুল, বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম,  

এছাড়াও রংপুর-১ আসন থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য রবিউল ইসলাম রেজভী, রংপুর-৩ আসনে এ্যাড. হোসনে আরা লুৎপা ডালিয়া, চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রংপুর-৪ আসন থেকে ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম মাসুদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মাজেদ আলী বাবুল, রংপুর কোর্টের আইনজীবি রফিক হাসনাইন, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৫ আসন থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমান ও তার ছেলে রাশেক রহমানসহ রংপুর জেলার ছয়টি আসনের কয়েকজন নেতা তাদের অনুসারীরা ঢাকায় অবস্থান করছেন।

আওয়ামী লীগের বাহিরে জাসদ (ইনু) থেকে রংপুর-১ আসনে এ্যাড. মোস্তাফিজার রহমান বুলু ও রংপুর-২ আসনে কুমারেশ রায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

অন্যদিকে ২৯ অক্টোবরের পর থেকে রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির অফিস তালাবদ্ধ রয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে শীর্ষ নেতাদের অনেকে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। হরতাল ও অবরোধে দলটি শীর্ষ পর্যায় জেলায় তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি। মাঝে মধ্যে মিছিল বের করলেও হাতেগোনা কয়েকজনের মিছিলের স্থায়ীত্ব থাকে খুবই কম। একই পরিস্থিতি বিএনপির মিত্র জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো। তারাও হঠাৎ হঠাৎ ঝটিকা মিছিল করছে। বামদলগুলোও তেমন কোন কর্মসূচী পালন করছে না।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি, সরকারের দমন-পীড়নে তারা মাঠে নামতে পারছে না। গতকাল রোববারও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব আব্দুস সালামসহ দুইজন নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবসহ মহানগর এবং জেলার দেড় শতাধিক নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন। তারপরেও তারা রাজপথে আছেন।

এবিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি, জেলার আহবায়ক ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানিয়েছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো দলীয় ও  আমাদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমরা মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মসূচি দিতে পারছি না। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করতেই জরুরি সভা করা হয়েছে। দলীয় চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত আসা মাত্রই আমরা তা বাস্তবায়ন করবো।###