১৯ মাঘ, ১৪২৯ - ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ - 01 February, 2023
amader protidin

ব্যাংক-এমএফএসে গ্রাহক সম্পৃক্ততা বাড়লেও কমেছে শেয়ারবাজারে

আমাদের প্রতিদিন
1 week ago
19


ঢাকা অফিস:

দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ (এমএফএস) অর্থনীতির অন্যান্য শাখাগুলোতে গত ৫ বছরে গ্রাহকের সম্পৃক্ততা বাড়লেও কমেছে দেশের শেয়ারবাজার। ব্যাংক ও এমএফএসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক বাড়লেও এ সময়ে শেয়ারবাজারে কমেছে প্রায় ১৩ লাখ বেনিফিশিয়ারি ওনার্স বা বিও হিসাব।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখানে টাকা বিনিয়োগ না করে অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করছেন। বাজার ভালো হলে এ সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়বে। এ জন্য ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে।

ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চার বছরে ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এমএফএস হিসাব ছিল ৬ কোটি ৭৬ লাখ, ২০২২ সালের অক্টোবর শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭৫ লাখের ওপরে। অর্থাৎ এ সময়ে এমএফএস হিসাব বেড়েছে ১১ কোটি ৯৯ লাখটি।

অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে কমেছে বিও হিসাব। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জুন মাস শেষে বিও হিসাব ছিল ৩১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪২টি, ২০২২ সালের শেষে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪টি। অর্থাৎ সাড়ে ৬ বছরে বিও হিসাব কমেছে ১২ লাখ ৯২ হাজার ১৪১টি।

২০১৬ সালের জুন মাসের শেষে বিও হিসাব ছিল ৩১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪২টি, যা ২০১৭ সালের জুন শেষে এসে দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৯৩২টিতে। অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিও হিসাব কমেছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫১০টি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আরও ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৯৭টি বিও হিসাব কমে যায়। ২০১৮ সালের জুনে বিও হিসাব দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ৩৮৭টিতে। তবে নিম্নমুখী প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসে পরের অর্থবছরে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিও হিসাব কিছুটা বাড়ে। ওই বছর ৪৫ হাজার ৪৬৩টি যুক্ত হয়ে বিও হিসাব দাঁড়ায় ২৮ লাখ ৯ হাজার ৮৫০টিতে।

কিন্তু এর পরের অর্থবছরে বিনিয়োগকারী কমেছে আরও অধিক হারে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিও হিসাব কমেছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৯টি। ফলে অর্থবছর শেষে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫১১টিতে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিও হিসাব কমেছে, তবে সংখ্যাটা খুবই কম। ওই অর্থবছরে বিও হিসাব ১৯ হাজার ৮০টি কমে দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩১টিতে।

এদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরেই বিনিয়োগকারীর সংখ্যায় বড় ধরনের পতন হয়। গত অর্থবছরে বিও হিসাব ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯টি কমে দাঁড়ায় ২০ লাখ ৫৩ হাজার ৪২২টিতে।

সিডিবিএলের হিসাব বলছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিনে বিও হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৬১ হাজার ৩০১টিতে। অর্থাৎ গত ৬ মাসে বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১২১টি।

২০১০ সালের শেয়ারবাজারের উত্থানের সময় বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ছিল ৩৩ লাখের বেশি, যা ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত ছিল ১৪ লাখ। অর্থাৎ বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছিল।

২০২২ সালের শেষ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিও হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ১১৭টি। অর্থাৎ গত সাড়ে ৬ বছরে ৯৩ হাজার ৪২৪টি বা ৫৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বিও বন্ধ করে দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

তবে সামষ্টিক হিসেবে বিও হিসাব কমলেও বেড়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা। ২০১৬ সালের জুনে শেষ বিও সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৭৭০টি। এ সময়ে কোম্পানির বিও হিসাব সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৬১৭টি বা ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিও হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩৮৭টিতে।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমদ বলেন, বাজার ভালো না থাকলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার ছাড়বেই। আর বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে আবারও শেয়ারবাজারে আসবেন বিনিয়োগকারীরা। এজন্য বিনিয়োগকারীর সংখ্যা হিসাব না করে ভালো মানের কোম্পানি তালিকাভুক্তির দিকে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, বিদেশে রোড শো করে বিনিয়োগকারী বাড়ানো যাবে না, যদি না বাজারের ভিত্তি শক্ত হয়।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম বলেন, আইপিওর জন্য সর্বনিম্ন বিনিয়োগ নির্ধারিত করে দেওয়ায় গেল দেড় বছরে বিও অ্যাকাউন্ট কমেছে। এতে আইপিও আবেদনের জন্য আত্মীয়স্বজনের নামে যেসব বিও হিসাব খোলা হয়েছিল, সেগুলো বন্ধ করে দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আসল বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ভালো খবর।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়