বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১   Thursday, 24 June 2021.  



 ক্যাম্পাস


আমাদের প্রতিদিন

 Jun-01-2021 07:58:34 PM


 

No image


বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ’র মেয়াদ নিয়ে এবং বিপক্ষের শিক্ষক-কর্মকর্তারা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন। উপাচার্যের পক্ষের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দাবি যোগদানের দিন থেকে চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে, আর বিপক্ষ গ্রæপের দাবি প্রজ্ঞাপনের দিন থেকেই মেয়াদ চার বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের সংগঠন অধিকার সুরক্ষা পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদেও দাবি অনুযায়ী গত ৩১ মে (সোমবার) উপাচার্যের ৪ বছর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এমন দাবি করে মঙ্গলবার (০১ জুন) উপাচার্যের পিএস আমিনুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। এসময় তাকে পিএস দপ্তর থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।

তাদের দাবি, উপাচার্য নাই পিএস থাকবে কেন?  পিএস তার পদে থাকার কোন প্রয়োজন নেই। এজন্য তাকে কক্ষ থেকে বের হতে হবে এই নিয়ে বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপাচার্যের পিএস কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে।

অধিকার সুরক্ষা পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ নামের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উপাচার্যের মেয়াদ শেষ। তাই তার পিএসও দায়িত্বে থাকতে পারবে না। এ কারণে তাকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

গণিত বিভাগের শিক্ষক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, ‘পরিপত্র অনুযায়ী ভিসির মেয়াদ গতকাল (সোমবার) শেষ হয়েছে। ভিসি নাই তো পিএস কীসের? আমরা তাকে স্বসম্মানে রুম থেকে বের হতে বলেছি। উনি বের হননি।’

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক আসাদ মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের অনেকের জীবন শেষ করে দিয়েছে এই আমিনুর রহমান। ভিসি নাই, উনি এখনও কেন চেয়ারে? ‘উনার লজ্জা নেই। আমিনুর নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএস দাবি করছেন। এটি লজ্জাজনক ও হাস্যকর।’

এ বিষয়ে পিএস আমিনুর বলেন, ‘আমার কক্ষে তারা এসেছেন। আমি বলেছি আপনাদের কথায় আমি অফিস ত্যাগ করতে পারি না। তাই আমি নির্দিষ্ট সময় অফিস করব। মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।’

ক্যাম্পাসে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলিমউল্লাহর ‘নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির’ প্রতিবাদ করে তার শাস্তি এবং সহযোগীদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ।

এদিকে মেয়াদ শেষের দিন ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে বসে তড়িঘড়ি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে কলিমউল্লাহ নিয়োগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০১৭ সালের পয়লা জুন চার বছরের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তার চার বছরে মেয়াদের শেষ দিন ছিল সোমবার। তবে উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যোগ দেন ২০১৭ সালের ১৪ জুন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে উপাচার্য হিসেবে কলিমউল্লাহর মেয়াদ প্রজ্ঞাপন দেয়ার দিন থেকে নাকি যোগদানের দিন থেকে ধরা হবে, তা পরিষ্কার করে বলা ছিল না।

তাকে সমর্থন দেয়া শিক্ষক-কর্মকর্তারা বলছেন, যোগদানের দিন থেকে চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। আর বিপক্ষের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দাবি, প্রজ্ঞাপনের দিন থেকেই মেয়াদ চার বছর।

উপাচার্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদের’ আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান অভিযোগ করেন, মেয়াদ শেষ হলেও ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে বসে আগের তারিখ দেখিয়ে বিভিন্ন ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করছেন উপাচার্য।

মতিউর জানান, গত ২৩ মে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে পাঠানো একটি পরিপত্রের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাস্থ গেস্ট হাউস ছাড়া কোনো ধরনের লিয়াজোঁ অফিস চালু না রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস ছাড়া অন্য কোথাও না করার জন্য নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

মতিউর রহমানের অভিযোগ, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উপাচার্য হিসেবে চার বছর মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু উপাচার্য ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে অফিস করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সুবিধা ভোগ করছেন। এটি সম্পূর্ণ অনৈতিক।

তিনি বলেন, উপাচার্যের দায়িত্বের শেষ দিনেও ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে বসে আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পদে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ দিয়ে চলেছেন কলিমউল্লাহ। গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট হিসেবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান এবং একই হলের সহকারী প্রভোস্ট হিসেবে একই বিভাগের প্রভাষক রহমতুল্লাহকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

মতিউর বলেন, ‘শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট শাহীনুর রহমানকে অব্যহতি দিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রশিদুল ইসলামকে প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দায়িত্বের শেষ দিনেও তিনি বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সহকারী রেজিস্ট্রার তাপস গোস্বামীকে ডেসপাচ শাখায়, ডেসপাচ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মোস্তফা আল আরিফ তাহেরকে কলা অনুষদে এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ অফিসের সেকশন অফিসার সিরাজুম মনিরাকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে, পরিবহন পুলের উপ-রেজিস্ট্রার তারিতুল ইসলামকে এস্টেট শাখায়, এস্টেট শাখার উপ-রেজিস্ট্রার শামসুজ্জামানকে সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে এবং সেন্ট্রাল লাইব্রেরির উপ-রেজিস্ট্রার নুরজাহানকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ অফিসে বদলি করেছেন।’

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ফিরোজুল ইসলাম বলেন, ‘উপাচার্যের শেষ দিনে করোনার ছুটিতে যেসব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এই হয়রানিমূলক অফিস আদেশ প্রত্যাহার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সরিফা সালোয়া ডিনা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তাফা কামাল বলেন, ‘স্যারের মেয়াদ কবে শেষ হয়েছে তা আমার জানা নেই। প্রজ্ঞাপন না দেখে বলতে পারব না।’

নিয়োগ আর দপ্তর বদলানোর বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে চলতি দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। এ জন্য তাদের স্থায়ী করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বদলি করে হয়রানি করা হয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তার কাছে নেই।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে উপাচার্যের বিভিন্ন দুর্নীতির প্রমাণ পায় ইউজিসির তদন্ত কমিটি। তার বিরুদ্ধে অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক, আর্থিক ও নিয়োগসহ মোট ১১১টি অভিযোগ এখন তদন্ত করছে ইউজিসির আরেকটি তদন্ত কমিটি।

এই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে গত ২৭ মে রিট করেন কলিমউল্লাহ। সেটির এখনও শুনানি হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে উপাচার্য কলিমউল্লাহকে একাধিকবার কল করা হলেও সেগুলো রিসিভ হয়নি।


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image

আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com