বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১   Thursday, 24 June 2021.  



 ক্যাম্পাস


আমাদের প্রতিদিন

 Jun-06-2021 06:09:33 PM


 

No image


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র আসাদুজ্জামানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ৪ শিক্ষার্থীকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন স্টাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। শনিবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সরদারপাড়া থেকে ওই ৪ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে তাজহাট থানা পুলিশ।

বিভিন্ন শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মানিক রহমান সাজুর ভাগ্নীর সাথে মামলাকারী আসাদুজ্জামানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সুবাদে সে ওই মেয়ের কিছু ছবি ও রেকর্ডিং নিয়ে তাকে ব্লাকমেইল করছিলো। তাই আসাদুজ্জামানকে হাতেনাতে ধরতে ফেক আইডি খুলেছিলো ফেক আইডি খুলেছিল ওই শিক্ষার্থীরা। পরে এই ফেক আইডির ফাঁদে পাঁও দিয়েছিল আসাদুজ্জামান। এরই মধ্যে তারা আসাদুজ্জামানকে ক্যাম্পাসে ডাকে এবং সব ডিলিট করতে বাধ্য করে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, আসাদুজ্জামানের পরিবার বিত্তশালী ও অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় তারা পুলিশের সাহায্য নেয় এবং মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই ৪ শিক্ষার্থীর এরকম হীন অপরাধের সাথে জড়িত থাকার পূর্বের কোন রেকর্ড নাই। এর পরেও মামলাকারীরা প্রভাশালী হওয়ায় মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত না করেই তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক রহমান সাজু ওরফে সাজু বাঙালী ও দুলাল চন্দ্র, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জগতপতি রায় ও শাহ আলম।

মামলার বাদী নীলফামারী জেলার ডিমলার খগাখড়িবাড়ির খোকরুজ্জামান মিয়ার ছেলে আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ফেসবুকে ‘সাদিয়া আফরিন’ নামে এক জনের সাথে প্রায় এক বছর আগে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর মাঝে ওই আইডি ধারীর সাথে আমার কথাবার্তাও হয়েছে। এরই মাঝে শনিবার দেখা করার জন্য আমাকে ডাকায়, রংপুরে আসি। এরপর আমাকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটরিয়ার সামনে যোতে বলা হয়। সেখানে গেলে তারা আমাকে ক্যাম্পাসের পশ্চিম দিকে জঙ্গল ঘেরা একটি জায়গায় নিয়ে আটকে রাখে এবং মারপিট করে ও মোটা অংকের টাকা দাবি করে। তিনি আরও বলেন, নিরুপায় হয়ে আমি বিকাশের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে ২৩ হাজার টাকা এনে তাদেরকে দিলে বিকেলে আমাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়া পাওয়ার পর আমি বিষয়টি পুলিশকে অবগত করি।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থী গ্রেফতারের পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করতে থাকে। পাঠকের সুবিধার্থে কয়েকটি পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো-

জাহিদ হাসান জিমি সরদার নামে ফেসবুক আইডি থেকে শেয়ারকৃত পোস্ট-

“ঘটনা আগে জানুন :-

এতগুলো ছেলে এবং তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না।

ঘটনার বিবৃতি এমন-

"মানিক রহমান সাজু ওরফে সাজু বাঙালী নামক ছেলের ভাগ্নীর সাথে প্রেম ঐ মামলাকারী ছেলের.. ছেলেটা কিছু ছবি / রেকর্ডিং নিয়ে বøাকমেইল করছিলো.. তাই ছেলেটাকে হাতেনাতে ধরতে ফেক আইডি খুলেছিলো তারা টোপ হিসেবে.. ছেলেটাকে ধরতে বেরোবি ক্যাম্পাসে ডাকে,, তারা গিয়ে ছেলেটাকে ধরে সব ডিলিট করতে বলছে.. ছেলেটা সব ডিলিট করে দেয় সিচুয়েশনে পড়ে.. কিন্তু বিপদ ঘটে যখন ছেলেটি তাদের সামনে থেকে ছাড়া পায়!! তখন সে বিত্তশালী ও প্রভাবশালী হওয়ার দরুণ পুলিশের সাহায্য নেয়.. পুলিশ মিথ্যে অভিযোগ পেয়ে পার্ক মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করে.. তাদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের অবস্থা খুবই নাজুক.. " মিডিয়ার কাছে অনুরোধ, তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না.. আইনের কাজ আইন করবে, তাদেরকে নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ দিন। আপনারা যারা আসামীদের ঘনিষ্ঠজন, তাদের কি এটা বিশ্বাস হয়?”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বর্তমানে রংপুর জজ কোর্টের শিক্ষানবীশ আইনজীবী মোঃ আরিফুল ইসলাম তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “কাউকে যেকোন অভিযোগে গ্রেফতার করা মানেই তারা অপরাধী নয়। ঘটনা প্রমাণিত না হওয়ার পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা সঠিক নয়। বেরোরির ৪ ছাত্র গ্রেফতার বিষয়টি অনেক ছাত্রকে পোস্ট করতে দেখলাম। এমনিতেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির যে অবস্থা..... যাইহোক..।  বেরোবির সাবেক ছাত্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কারো যে কোন বিষয় আইনি সহায়তা লাগলে যোগাযোগ করতে পারেন।  আশাকরি হতাশ হবেন না।

মোঃ আরিফুল ইসলাম ( ২য় ব্যাচ - বেরোবি)

শিক্ষানবিশ আইনজীবী - রংপুর জজ কোর্ট”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদীচী শাখার সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ তার ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “খোলা চোখের অন্তরালে অপহরণের ঘটনা ....

বেরোবির  সাবেক ও বর্তমান সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন সংকট সময়ে ।

Zahid Hasan Zimi Sardar পোস্ট এবং বিভিন্ন জনের কথায় যেটা বুঝতে পারলাম   সাজুরা একটা নারী ঘটিত বিষয়ে সমাধান টানতে গিয়ে বরং নিজেরাই বিপদে পরছে  ।  যেখানে সাজুর ভাগ্নিকে বারবার  ব্লাকমেইল করছিল মামলাকারী ছেলেটি ...

যারা সাজু , দুলাল এবং জগত পতিকে চিনেন তারা বুঝবেন অপহরণ এবং টাকা আদায়ের মত কলিজা / হিম্মত এদের নাই। এরা জাগতিক বিষয়ে পড়াশুনা করা ছেলে ফলে আলোচনা এবং বিতর্কের মাধ্যমে সমাধান টানতে চায়।

যারা আটক হয়েছে তাদের মধ্যে দুজনের পারিবারিক অবস্থা খুব খুব এবং খুব নাজুক। ভবিষ্যত জীবনের কথা চিন্তা করে ওদের জন্য কিছু করা উচিত নাহলে হয়তো সমূলে ভেঙে যাবে ওরা । আর কখনো দাঁড়াতেই পারবে না ।

বেরোবির যে সমস্ত ভাই- বোরাদার রাষ্ট্রের পুলিশ এবং প্রশাসনে আছেন আপনাদের সহযোগিতা ছেলেগুলার একান্ত প্রয়োজন।”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতিন জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া বলেন, যেহেতু বিষয়টা আইনি প্রক্রিয়ায় চলে গেছে তাই ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আমার দাবি যেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হয়। সেই সাথে তিনি গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোন্নাফ কিবরিয়া আল তুষার এই বিষয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্ররা প্রতারণা বা মুক্তিপণ দাবি করার মত খারাপ কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারে না। ছোট্ট বিষয় তবে সেটাকে বড় করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তাজহাট থানার পরিদর্শক আখতারুজ্জামান প্রধান জানান, প্রতারণার শিকার ওই যুবকের মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image

আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com