বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১   Thursday, 24 June 2021.  



 অর্থনীতি


আমাদের প্রতিদিন

 Mar-28-2021 07:24:33 PM


 

No image


ঢাকা অফিস:

নিত্যপণ্যের বাজারে রীতিমতো আঁচ পড়েছে পবিত্র শবে বরাতের। ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে সব ধরনের মুরগি, মাছ-মাংস ও সবজির দাম। চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও আরেকদফা দাম বেড়েছে গুঁড়োদুধ-তরলদুধ, চিনি এবং ভোজ্যতেলের দাম। রসুনের দাম কমলেও বেড়েছে আদা ও জিরাসহ অন্য মসলাপাতির দাম।

তবে পবিত্র শবে বরাত ও রমজান মাস সামনে রেখে দাম কমাতে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এলক্ষ্যে আগামী ১ এপ্রিল থেকে দ্বিগুণ ভোগ্যপণ্য নিয়ে মাঠে নামছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি। এর পাশাপাশি বেসরকারিখাতের ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

দাম বাড়াতে তৎপর অসাধু ব্যবসায়ীদের দিকে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাকে। ভোগ্যপণ্যের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আমদানিকারক, পাইকার ও উৎপাদনকারী মিল মালিকরা এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন।

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হওয়ায় বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভোজ্যতেলের দাম বেধে দেয়া হয়। কিন্তু সেই দাম কার্যকর না করে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহলে এখন আলোচনা হচ্ছে।

অন্যদিকে শবে বরাত ও রোজার আগেই বেড়ে গেছে চিনি, সব ধরনের মুরগি মাছ-মাংসহ বেশিরভাগ পণ্যের দাম। গত কয়েক মাস বাজারে শীতের সবজির দাপটে দাম কমে আসলেও এখন সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে ধুন্দল, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, করল্লা, টমেটোসহ সব ধরনের সবজির দাম আবার বেড়ে গেছে। চাল, আটা, ডাল, ছোলা ও ডিম আগের বেড়ে যাওয়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সামান্য কমেছে পেঁয়াজের দাম। বেড়ে গেছে সব ধরনের তরল দুধের দাম।

এ অবস্থায় কালই পালিত হবে পবিত্র শবে বরাত। এর পরের দু-সপ্তাহ পর রমজান মাস শুরু হচ্ছে। রমজানের সঙ্গে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবে পুরো জাতি। কিন্তু ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে। রমজানের ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ।

বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি) ঢাকার অধিকাংশ নিত্যপণ্যের বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার তথ্য দিয়েছে। শবে বরাত ও রোজা সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত দাম কমানোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে শবে বরাতের আগে বাজার পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী, ভোগ্যপণ্যের আমদানিকারক এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, রোজার একমাস আগে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। রোজার সময় সেই বাড়তি দামেই পণ্য বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। এবার ইতোমধ্যে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যেও দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এতে করে সাধারণ ভোক্তাদের কষ্ট বাড়লেও অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেট ভারি হয়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এ মুহূর্তে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগি। নিত্যপণ্যের বাজারে মূলত চার প্রকারের মুরগি বিক্রি হয়। এর মধ্যে রয়েছে দেশি, পাকিস্তানি কক, লেয়ার ও ব্রয়লার। মাসখানেক আগে দেশি মুরগির কেজি ছিল ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা। কয়েক দফায় দাম বেড়ে এখন দেশি মুরগির কেজি হয়েছে ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা। অর্থাৎ দেশি মুরগির দাম কেজিতে বেড়ে গেছে ১০০ টাকার ওপরে।

রাজধানীর বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পাকিস্তানি কক মুরগি। মাসখানেক আগে এ মুরগির দাম ছিল প্রতিকেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। এখন রাজধানীর বাজারে কক মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোনো কোনো বাজারে ৩৫০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।

অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এই কক মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত। গরির মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস বলা হয় ব্রয়লার মুরগিকে। কারণ সবচেয়ে কম দাম হওয়ায় গরিব মানুষ পরিবারের মাংসের চাহিদা মেটান এই ব্রয়লার মুরগির মাংস খেয়ে। গত এক মাস ধরে ব্রয়লার মুরগিও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগিতে ৫০ টাকা দাম বেড়ে বাজারে এখন ১৬০-১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া এক মাস আগেও লেয়ার মুরগির প্রতিকেজি দাম ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। এখন এর দাম হয়েছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন উৎসবের মৌসুম আর একারণে মুরগির দাম চড়া। পিকনিক, বিয়েশাদীসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ায় মাংসের চাহিদা বেড়ে গেছে। এর সবচেয়ে বড় চাপ মুরগির উপর। আর এ কারণে দাম বাড়তি।

মুগদা বড় বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী হালিম বিশ্বাস এ প্রসঙ্গে বলেন, শবে-বরাত সামনে রেখে চাহিদা বাড়ার কারণে সব ধরনের মুরগির দাম বেড়ে গেছে। উৎসবে ব্রয়লার মুরগির চেয়ে পাকিস্তানি কক, লেয়ার ও দেশী মুরগির চাহিদা বেশি থাকার কারণে এসব মুরগির দাম বেশি। তবে উৎসব পাবর্ণ কমে এলে আবার দাম কমে যাবে বলেও তিনি জানান। তবে খামার মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, মুরগির বাচ্চার দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া মুরগির খাবার ও অন্যান্য ওষুধ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

এ কারণে সরবরাহও কিছুটা কমে গেছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, এক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি সব ধরনের মুরগি। দাম কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আর একমাস পরে রোজা শুরু হচ্ছে। ওই সময় দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। দ্রুত দাম কমানোর উদ্যোগ না নিলে বাজার পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

শবে বরাত সামনে রেখে বাজারে বেড়ে গেছে গরু ও খাসির মাংস ও মসলাসহ অন্যান্য পণ্যের দাম। বাজারে প্রতিকেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, বকরির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকায়। এছাড়া মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। এসব বাজারে প্রতিকেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, চিংড়ি জাত ও মানভেদে ৫৫০-১২০০ এবং প্রতিকেজি ইলিশ মাছ ৯০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভারত থেকে আমদানি হওয়ায় পেঁয়াজের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দাম কমে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে  ৩৫-৪০ এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। গত সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেলে মিসর, তুরস্কসহ বিশ্বেও আরও কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। আমদানি করা সেই পেঁয়াজ টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে ১৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি করছে।

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিদামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। সয়াবিন তেল বোতল পাঁচ লিটার ৬৪০-৬৭০, সয়াবিন খোলা প্রতিলিটার ১২৬-১৩২, সয়াবিন তেল বোতল এক লিটার ১৪০-১৪৫ ও পামওয়েল খোলা ১১০-১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শবে-ই বরাত ও রোজা সামনে রেখে ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিকেজি ছোলা এখন ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে রোজা সামনে রেখে দাম বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া চালের দাম কিছুটা কমেছে। প্রতিকেজি নাজিরশাইল ও মিনিকেট সরু চাল ৬২-৬৫, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা ৫২-৬০ এবং মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৪৭-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। শীতের সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, ভোগ্যপণ্যের দাম কমাতে করুণীয় নির্ধারণে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যসচিব। ওই বৈঠকের নির্দেশনা হলো, রমজানে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারী সংস্থা টিসিবি সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে। এবার তাদের বিক্রি কার্যক্রম দ্বিগুণ করা হবে।

এছাড়া বেসরকারীখাতকেও বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়াতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা সরকারী নির্দেশনা মানবে না তাদের দেশের প্রচলিত আইনের মুখোমুখি হতে হবে। এ ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে রমজানের বিশেষ ট্রাকসেল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১ এপ্রিল থেকে। পুরো রমজান মাস জুড়ে টিসিবির বিক্রি কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে টিসিবির বিক্রি কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে সারাদেশে ৫শ ট্রাকে বিক্রি করা হবে টিসিবির পণ্য সামগ্রী। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে এখন চারশত ট্রাকে টিসিবি চার পণ্য বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ থেকে প্রাক রমজান পণ্য বিক্রয় ও বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আওতায় ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে। ভ্যেজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোজ্যতেল বিক্রির পরিমাণ দ্বিগুন করার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে টিসিবি। এখন ২ লাখ লিটার থেকে বাড়িয়ে প্রতিদিন ৪ লাখ লিটার ভোজ্যতেল বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্য চিনি, মসুর ডাল ও পেঁয়াজের সরবারহও দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

টিসিবির ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা দিনে ৫০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৫৫ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ ২ কেজি মসুর ডাল, ৯০ টাকা দরে ২ থেকে ৫ লিটার সয়াবিন তেল এবং ১৫ টাকা দরে পাঁচ কেজি  পেঁয়াজ কিনতে পারছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্ররণে রাখতে সরকার সম্প্রতি মিল গেইটে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম হবে ১১৩ টাকা, আর খুচরা বাজারে বিক্রি ১১৭ টাকা বেঁধে দিয়েছে।

আর ৫ লিটারের বোতল মিল গেইটে ৬২০ টাকা, ডিলার পর্যায়ে ৬৪০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৬৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা পাম তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মিল গেইটে ১০৪ টাকা, ডিলার পর্যায়ে ১০৬ টাকা এবং খুচরায় ১০৯ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত এই দামের চেয়ে বেশি মূল্যে খুচরা বাজারে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com