বুধবার, ৪ আগষ্ট ২০২১   Wednesday, 4 August 2021.  



 অর্থনীতি


আমাদের প্রতিদিন

 Jun-22-2021 05:32:17 PM


 

No image


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

বোরো ধান কাটার পর পর জমিতে ফেলে রাখা কাটা মুড়ির গোছা পরিচর্চা করে পুনরায় ধান পেয়ে খুশি কুড়িগ্রামের কৃষক। পরীক্ষামূলকভাবে এই মুড়ি বা নাড়া থেকে বিঘায় প্রায় ৬মন ধান পেয়েছে কৃষক। স্বল্প খরচে ফেলে রাখা মাঠে শুধু ধান নয়, খড়ও পেয়ে গবাদি পশুর খাদ্য মেটাতে পারছে তারা। সারা জেলায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে দুই শতাধিক কৃষক ৭৫ একর জমিতে ফেলে রাখা ধানের রেটুন বা মুড়ির গোছা থেকে আবার ধান পেয়ে উচ্ছ্বসিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বোরো ধান কেটে ফেলার পর প্রায় দুই মাস জমি ফাঁকা পরে থাকে। এসময় কাটা ধানের মুড়ি/নাড়া খেয়ে ফেলে গবাদিপশু। এই মুড়ির গোছা যতœ করলে যে আবার ধান পাওয়া যায় সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছে কুড়িগ্রামের কৃষক। একদিকে যেখানে আমন ধানের প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃষক সেখানে জেলাসহ রাজারহাট উপজেলায় পরিত্যক্ত কাটা বোরো ক্ষেতের মুড়ি/নাড়া বা ধানের রেটুন পরিচর্চা করে দ্বিতীয়দফা আবার ধান উৎপাদন করে চমক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পূণরায় ফসল পেয়ে খুশি কৃষক।

সোমবার (২১জুন) জেলার রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের মুসফৎ নাকেন্দা গ্রামে কৃষক অশ্বিন কুমার ও কৃষক সুব্রত কুমারের জমিতে রেটুন বা মুড়ি ধান থেকে পূণরায় প্রাপ্ত ধান ক্রপ কাটিং করা হয়। এতে বিঘায় ৬মন এবং একরে গড়ে ১৭মন ধান পাওয়া যায়।

কৃষক অশ্বিন কুমার জানান, আমার প্রায় ১০ একর জমিতে মুড়ি থেকে আবার ধান উৎপাদন করেছি। এতে দেখা যাচ্ছে ব্রিধান-২৮ এর মুড়ি থেকে সবচেয়ে বেশি ধান পাওয়া গেছে। এছাড়াও এখানকার কৃষক ব্রিধান-৭৪, ব্রিধান-৮৮ ও ব্রিধান ৮৯ এর মুড়ি থেকে পূণরায় ধান উৎপাদনে সফলতা পেয়েছে।

এই এলাকার অপর কৃষক সুব্রত কুমার রায় জানান, আমি ৫ মে বোরো ধান কেটেছি। ১৩ তারিখে জমিতে সার ও পরিচর্চা করেছি। আজ ৪৭দিনে মুড়ি/নাড়া থেকে পূণরায় ফসল পেলাম। আমার জমিতে ক্রপ কাটিং করা হয়েছে। একরে প্রায় সাড়ে ১৭মন ধান পেয়েছি।

ধান কাটা দেখতে আসা পাশর্^বর্তী রাজারহাট সদর ইউনিয়নের গ্রামের দেউলার বিল গ্রামের কৃষক ফুলবাবু, সামাদ ও রফিকুল জানান, একখন্দ জমিতে এই মুড়ি ফসল চাষ ভাল হয়েছে। কারণ নীচু জমিতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যায়। এখানকার কৃষক শুধু ধান পায়নি, তারা ধান থেকে খড়ও পেয়েছে। এছাড়াও ধানচাষ ও মাছচাষ করায় জমি থেকে মাছ খাবার সংগ্রহ করতে পেরেছে। স্বল্প খরচে কোন তদারকি ছাড়াই বাড়তি ফসল কৃষকের খুব কাজে লাগবে।

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিসার সম্পা আকতার জানান, জেলায় ৭৫ একর জমিতে রেটুন থেকে পূণরায় ধান উৎপাদন করা হয়েছে। এরমধ্যে রাজারহাট উপজেলায় সর্বাধিক ২৫ একর জমিতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তিনি আরো জানান, বোরো ধান কেটে ফেলার সময় ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি গোছা রেখে ধান কাটতে হবে। পরবর্তিতে ফেলে রাখা মুড়ি বা রেটুনে ৭ থেকে ১০দিনের মধ্যে বিঘা প্রতি ৭ কেজি ইউরিয়া, ৫ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি প্রয়োগ করতে হয়। জমিতে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে হয়। জমিতে গরু ছাগলের বিচরণ বন্ধ ও আগাছা পরিস্কার রাখলে ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে পূণরায় ওই মুড়ি থেকে ধান পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে পূণরায় ধান উৎপাদন করতে পেরে খুশি এখানকার কৃষক।

বিষয়টি নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, বোরো ধান কাটার পর ৬০ থেকে ৭০ দিন জমি পরে থাকে। বিশেষ করে ২৮ ধানের মুড়ি থেকে পূনরায় কুশি হতে দেখা যায়। সেই চিন্তা থেকে এবার জমিতে ফেলে রাখা ধানের রেটুন বা মুড়ি পরিচর্চা করে পূণরায় ধান উৎপাদনে কৃষক সফলতা দেখিয়েছে। আগামিতে আরো কৃষককে সম্পৃক্ত করা হবে।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com