বুধবার, ৪ আগষ্ট ২০২১   Wednesday, 4 August 2021.  



 অর্থনীতি


আমাদের প্রতিদিন

 Jul-13-2021 07:58:52 PM


 

No image


কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

আবহাওয়া ভালো থাকায় আর আগাম বন্যা না হওয়ায় রংপুরের কাউনিয়ায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পাট চাষে পরিশ্রম বেশি এবং জাগ দেয়ার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রতি বছর কমছে এর আবাদ। চাষিরা বলছেন, অনেকেই এখন পাট ছেড়ে ধান, ভুট্টা চাষে দিকে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৮৯০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়েছে। তবে কৃষকরা বলছেন, কৃষি বিভাগের তথ্যের চেয়ে এবার প্রায় ১৫০ হেক্টর কম জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও এরপর প্রতিবছর এ আবাদ কমতে থাকে। ২০১৬ সালে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৭৬০ হেক্টর, ২০১৮ সালে ৯৫৫ হেক্টর, ২০১৯ সালে ৭৯৫ হেক্টর ও ২০২০ সালে ৯৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ করে চাষিরা।

সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পাট কাটা, জাগ দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় আর আগাম বন্যা না হওয়ায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে।

পল্লীমারী গ্রামের কৃষক আবু সোবহার, রহমত আলী সহ একাধিক চাষীরা বলেন, এবার ফলনও ভালো হয়েছে, দামও বেশি। প্রতিমণ ২হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে মণ হিসাবে বিক্রি হচ্ছে।

তারা বলেন, তারপরও কৃষকরা কিন্তু প্রতিবছর পাটচাষে আগ্রহী হারাচ্ছে। কারণ ধান, ভুট্টা আবাদের তুলনায় পাটচাষে পরিশ্রম বেশী হয়। এছাড়া কাটার পর জাগ দেয়ার জন্য ঠিকমত পানি ও জায়গা পাওয়া যায় না।

আলুটারী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, গতবছর চার বিঘাতে পাটের আবাদ করেছিলাম। এ বছর দুই বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। পাট লাগানো থেকে শুরু করে ঘরে ওঠানো পর্যন্ত প্রচুর কষ্ট করতে হয়। কিন্তু ভরা মওসুমে সে তুলনায় মূল্য পাওয়া যায় না।

বল্লভবিষু গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, গতবছর এক বিঘায় পাট আবাদ করেছিলাম, জাগ দেওয়ার সমস্যার কারণে এ বছর করিনি। সে জমিতে এখন ধান করেছি। বর্তমানে বাজারে ধানের ভাল দাম পাচ্ছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন পারভিন বলেন, এক সময় পাটকে সোনালী আঁশ বলা হতো। তবে সেই প্রবাদ এখন বিলিন হওয়ার পথে। উৎপাদনে খরচ ও পরিশ্রম বেশি এবং জাগ দেয়ার জায়গা না থাকায় পাট চাষে আগ্রহ কমেছে চাষীদের। ফলে প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ। এ আবাদ বাড়াতে পাটজাত পণ্যের প্রসার ঘটাতে হবে। তাহলে আগামীতে পাটের আবাদ বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com