বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১   Thursday, 24 June 2021.  



 বাংলাদেশ


আমাদের প্রতিদিন

 Jun-10-2021 09:04:07 PM


 

No image


>> রাজশাহী কারাগার থেকে আনা হয় জল্লাদ

দিনাজপুর প্রতিনিধি: 

দিনাজপুর জেলা কারাগার প্রতিষ্ঠার ১৬৭ বছরে প্রথম এই কারাগারের ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এক আসামীর। বুধবার (০৮ জুন) দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিটে স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী আব্দুল হকের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আসামী আব্দুল হক রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভক্তিপুর চৌধুরীপাড়া গ্রামের মৃত আছিরউদ্দীনের ছেলে।

‘রংপুর কারাগারে ফাঁসির কার্যকরের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় সেখান থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামীকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।‘

বিষয়টি নিশ্চিত করে দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরিদুর রহমান রুবেল জানান, আসামী আব্দুল হক ২০০২ সালের ২৮ আগস্ট থেকে রংপুর কারাগারে বন্দী ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর ফাঁসি কার্যকরের জন্য গত ২৩ মে রংপুর কারাগার থেকে তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে আনা হয়। জল্লাদ হিসেবে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আনা হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী ওহিদুর রহমানকে। বুধবার বিকেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী আব্দুল হকের পরিবারের ১৫ সদস্য তার সাথে শেষ সাক্ষাত করেন এবং খাবার খাইয়ে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর চলে যান। এরপর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে কারা বিধি অনুযায়ী ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়ে রাত ১২টা ১ মিনিটে আসামী আব্দুল হকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুরের ডিআইজি (প্রিজন) আলতাফ হোসেন, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি, পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন, দিনাজপুর জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন, সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল কুদ্দুছ, চিকিৎসকসক প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জেলা কারাগারের কর্মকর্তারা। ফাঁসি কার্যকরের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ২ টায় আসামীর মরদেহ পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৮ ফেব্রæয়ারি আব্দুল হক তার স্ত্রীকে হত্যা করেন। ঘটনার পরের দিন ৯ ফেব্রæয়ারী তার শাশুরী বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২৮ আগস্ট গ্রেফতার হন আসামী আব্দুল হক। পাঁচ বছর পর ২০০৭ সালের ৩ মে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক আব্দুল হক-এর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। পরে আসামী আব্দুল হকের পরিবার হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টে আপিল করলেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল থাকে। সবশেষ আব্দুল হক রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। গত বছরের ১৮ মে রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নামঞ্জুর করলে ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রংপুর কারাগারে ফাঁসির কার্যকরের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় সেখান থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামীকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

জেলা কারাগারের জেলার ফরিদুর রহমান রুবেল আরও জানান, বৃটিশ শাসনামলে ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দিনাজপুর জেলা কারাগার। এরপর ২০১৭ সালে দিনাজপুর কারাগারটি আধুনিকায়ন করা হয় এবং সেসময় তৈরি করা হয় আধুনিক ফাঁসির মঞ্চ। এই কারাগারের রেকর্ড অনুযায়ী দিনাজপুর জেলা কারাগার প্রতিষ্ঠার পর ১৬৭ বছরে এই কারাগারে এটিই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো বলে জানান জেলার ফরিদুর রহমান রুবেল।



আজকের রংপুর


No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image
No image






 

 

 

 

 

 
সম্পাদক ও প্রকাশক
মাহবুব রহমান
ইমেইল: mahabubt2003@yahoo.com