রংপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা সক্রিয়:বাড়ছে ক্ষোভ

আমাদের প্রতিদিন
2024-07-23 20:37:58

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় বিধিনিষেধ দিয়েও থামানো যাচ্ছে না বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের। তৃতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও রংপুর সদরে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন তিন বিএনপি নেতা। অবশ্য ইতিমধ্যেই দলটি থেকে তাদের বহিস্কার করেছে। এর আগে পীরগাছা উপজেলায় এক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বহিস্কার করা হয়। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভোটের মাঠে সক্রিয় দেখা গেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের। পদধারী নেতারা সরাসরি মাঠে না নামলেও তারা কৌশলে তাদের অনুসারীদের বিভিন্ন প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় নামিয়েছেন। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের কেউ নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমন কঠোরতা থাকলেও রংপুরে দেখা গেছে ব্যতিক্রম।

অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, প্রথম ধাপের অনুষ্ঠিত পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার নির্বাচনে বিএনপির এক নেতা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। পীরগাছা উপজেলা থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শাহ ফরহাদ হোসেন অনু প্রার্থী ছিলেন। এর বাহিরে প্রকাশ্যে এক প্রার্থীর হয়ে প্রকাশ্যে ভোট করেন কাউনিয়া উপজেলার এক বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও জিয়া পরিষদের এক নেতা। এছাড়াও বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ উপজেলা, তৃতীয় ধাপের রংপুর সদর ও গঙ্গাচড়া, চতুর্থধাপের তারাগঞ্জ এবং বদরগঞ্জ উপজেলায়  বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কোনো—না কোনো প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়। প্রকাশ্যে ভোট চাচ্ছেন। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম যাদু চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। গঙ্গাচড়া উপজেলায় জেলা বিএনপির সদস্য ও আলমবিদিতর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন সুজন, বেতগাড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান প্রামানিক লিপ্টন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। ইতিমধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের প্রাথমিক সদস্য সহ দল থেকে বহিস্কার করা হয়।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, রংপুর সদর, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সিংহভাগ নেতাকর্মীরা নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছেন। গোপনে অনেক পদবিধারী নেতা বিভিন্ন প্রার্থীদের সাথে সভা করেন। প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পর্যায়ের এক নেতা জানান, রংপুরের পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলায় এক নেতা প্রার্থী ছিলেন। অনেক বিএনপি নেতা—কর্মী দলের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করেছেন। মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলায় একই পরিস্থিতি। এখানে বিএনপির পদধারি কোন নেতা মাঠে না নামলেও কৌশলে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ নিচ্ছেন। তাদের অনুসারীরা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচার করছে।

বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতা—কর্মী জানান, পদবিধারী নেতাদের দলের প্রতি কোনো দায় নেই। পদ নিয়ে নানা বাণিজ্য করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তাই যে যেভাবে পারে বাণিজ্য করছে।  এতে দল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তৃণমুলে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

মিঠাপুকুর উপজেলার আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কোনো পদধারী নেতা সক্রিয়ভাবে নির্বাচন সমর্থন করেন না। তবে পদ ছাড়া বিএনপির সমর্থক ও একনিষ্ঠ অন্তত ৫০ ভাগ ভোটার বর্তমানে সক্রিয়। তারা নিয়মিত নির্বাচনী প্রচার—প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। বিএনপির ৪০—৫০ ভাগ ভোটার ভোট দিতে আসবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, মানুষ ভোট দেওয়ার বিষয়ে এখনও সন্দিহান। ভোটের পরিবেশ তৈরি হয়নি। বিএনপির তো নয়, সাধারণ ভোটারদের ১০ ভাগ আসবে কি না সন্দেহ। তবে বিএনপির অনেক কর্মী নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার বিষয়টি স্বীকার করেন।