গঙ্গাচড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুরের বিরুদ্ধে দূর্নীতির ঝাঁপি খুললো ইউপি সদস্যরা

আমাদের প্রতিদিন
2024-05-26 13:40:29

নির্মল রায়,গঙ্গাচড়া (রংপুর):

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির ঝাঁপি খুলেছেন ইউপি সদস্যরা। সরকারী জমিতে বালু উত্তোলণ, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারী গাছ কেটে বিক্রিসহ   চেয়ারম্যানের ২০টি দূর্নীতি তুলে ধরেছেন তারা। সেই সাথে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউপি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন দিয়েছেন। এনিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান করছেন।

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারী) বিকেলে মর্ণেয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে ১০ জন ইউপি সদস্য স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্যদের পাত্তা না দিয়ে নিজের খেয়াল-খুশি মত ইউনিয়ন পরিষদ চালাচ্ছেন। সেই সাথে সরকারী প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয় করে নিজের পকেট ভারী করছেন। চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে সভা করা ছাড়াই টিসিবি’র কার্ড, ভিজিএফের কার্ড বিতরণ, ৪০ দিনের কর্মসূচীতে চেয়ারম্যানের পছন্দের ইউপি সদস্যদের কাজ দেয়া, টাকার বিনিময়ে রেশন কার্ড বিক্রি, হতদরিদ্র ও বন্যায় দূর্গতদের শুকনো খাবার ও ২ টন চাল, ই.ডি.পি বরাদ্দ, ২টি নন-ওয়েজ প্রকল্পের অর্থ, এলজিএসপি’র ৩টি প্রকল্পের ৯ লাখ টাকা, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পের টাকা, সরকারী ১ % হারে প্রকল্পের টাকা, ইউনিয়ন পরিষদের পুরস্কারের টাকাসহ চৌকিদারের ট্যাক্সের টাকা আত্মসাত করেছেন। ৫০ হাজার টাকা মূল্যের টিআর বরাদ্দের জন্য ইউপি সদস্য প্রতি ১০ হাজার টাকা ও চৌকিদার নিয়োগে ৬ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান। ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন খাত ট্রেড লাইসেন্স, ভূমিহীন সনদ, ওয়ারিশন সনদ, জন্ম নিবন্ধন সনদ, মৃত্য সনদপত্রের টাকা নিজ কর্মী দিয়ে উত্তোলণ করে আত্মসাত, সরকারী জমিতে ড্রেজার লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি, ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তার ৩০১টি সরকারী গাছ কেটে বিক্রি, সরকারী জমি দখল করে ১০ একর জমি অন্যকে লীজ প্রদান করে টাকা উত্তোলনসহ ইউপি সদস্যদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তোলা হয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

মর্ণেয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ তৌহিজার রহমান বলেন, জিল্লুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চালাচ্ছে। কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে কোন সভা করেন না তিনি। চেয়ারম্যান সরকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই টাকা আত্মসাত করছেন। ইউপি সদস্যরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের নানা হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের বিচার চাই।

এনিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না বলেন, বৃহস্পতিবার ইউপি সদস্যদের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকে অবহিত করা হয়েছে। এনিয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।