বিজিবি- বিএসএফের টহলরত জোরদার

2026-01-11 10:19:53

আব্দুল আজিজ মজনু,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম):   

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে দরবেশ কছিম উদ্দিন মাজার জিয়ারত উপলক্ষ্যে টহল জোরদার করেছে বিজিবি-বিএসএফ।

ভারতের ভুখন্ডে মাজারটি অবস্থান হওয়ায় ভারতীয় নারী পুরুষরা অংশগ্রহন করলেও বাংলাদেশি ভক্তরা মাজারে যেতে পারেনি। ফলে  দরবেশ কছিম উদ্দিনের ৭৯তম জিয়ারত মানত দিতে না পারায় শনিবার মাজারের পাশ থেকে দলেদলে বাংলাদেশী ভক্তরা ফিরে গেলেন সেখান থেকে।

জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুটিচন্দ্রখানা নকরজান  সীমান্তের ওপারে  ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলা দিনহাটা থানা অধীনে সেউটি-২ গ্রামে দরবেশ কছিম উদ্দিন মাজারটি অবস্থিত। প্রায় ২শ বছর পূর্বে এটি সীমান্তের ৯৪১ এর সাব-পিলার ১ থেকে ৫নং পিলারের নিকট জিরো লাইনে আরব থেকে আসা ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আস্তানা গাড়েন ওই দরবেশ কছিমুদ্দিন। ইসলাম ধর্ম প্রচারের একপর্যায় তার মৃত্যু হয়। নির্জন ওই এলাকায় তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুর পর সীমান্তের দু’পাড়ের ধর্মপ্রাণ লোকজন প্রতি ১০ জানুয়ারী মৃত্যু দিবস পালন করে থাকেন। সেখানে ওরস মোবারকের সঙ্গে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করা হয়। ৬ শতক জমির ওপর নির্মান করা হয় তাবু। জিয়ারতের পাশাপাশি এই দিনে  দু’দেশের আত্মীয়স্বজনদের দেখা মেলে অনুষ্ঠানে। এক অপরের সাথে কথা হতো দীর্ঘ দিন পর। সেই আশায় লোকজন  মাজারে পাশে জড়ো হলেও সংযোগ মেলেনি তাদের। সীমান্তের জিরো লাইনে দরবেশের মাজারটি হওয়ায়  বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে বসবাসকারীরা  যৌথ আয়োজনে ওরসটি পালন করে থাকেন। এবারে বিএসএফের বাধায় বাংলাদেশীরা প্রবেশ করতে পারেনি সেখানে। রয়েছে বিএসএফের করাকরি পাহারা।

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার নেকাতঘাট এলাকার লিমন ও ফরিদা পারভীন জানান, আমাদের চাচাতো ভাই ভারতের কোচবিহারের দিনহাটা শহর থেকে মফিজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হালিমা খাতুন এসেছিল জিয়ারতে। হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়েছে। আশা করছি মেলায় দেখা হবে । অনেক আশা করে এসেছিলাম তাদের সাথে কুশল বিনিময় করে পরিবারের সংবাদ জানবো। কিন্তু দেখাও হলো না । মাজারের মানত ও দিতে  না পেয়ে  ফিরে যাচ্ছি।

লালমহিরহাট জেলা সদরের মহিন্দ্র নগর এলাকার বুজা রানী ও নিতা রানী জানান মেয়েকে দেখার জন্য ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা থাকেন কোচবিহার জেলার  দিনহাটা থানার ধাপরা এলাকায়। ৯/১০ বছর সামনা সামনি মেয়েকে দেখি না। শুনলাম দরবেশ কছিম উদ্দিনের মাজার জিয়ারত করতে এসেছে। সুখ দুখের আলোচনা হতো জিয়ারত উপলক্ষ্যে। কিন্তু বিজিবি-বিএসএফের টহল জোরদারের কারনে প্রবেশ করতে পারিনি।

নকরজান সীমান্তে বসবাসকারী বুলু মিয়া ও জোবেদ, রফিক জানান, আমাদের বাড়ীর পাশে দরবেশের মাজার হলেও আমরা এবার যাইতে পারি নেই। আমরা উভয় দেশের বসবাসকারীদের মাধ্যমে জাকজমক ভাবে ওরস মোবারক পালন করেছিলাম। এলাকায় বসতো মিলন মেলা। দুই দেশের জিনিসপত্র বিক্রি হতো মেলায়। দু’দেশের আত্নীয় স্বজনদের সাথে দেখা হতো। কিন্তু সেই আশা আর পুরণ হলো না।

দরবেশ কছিম উদ্দিনের জিয়ারত কমিটির ভারতের অংশের সভাপতি আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, বিএসএফের বাধার কারনে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। সকাল থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে  জিয়ারত করার জন্য সময় বেঁেধ দিয়েছে বিএসএফ।

লালমনিহাট ১৫ বিজিবির ব্যাটালিয়নের  অধীন গংগারহাট বিজিবি ক্যাম্পের টহলরত হাবিলদার রবিউল ইসলাম বলেন,

ভারতের ভুখন্ডে কছিমুদ্দিনের মাঝার হওয়ায় বাংলাদেশীদের জিয়ারত স্থানে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। বিএসএফের  চিঠি দিয়ে আগে আমাদের অবগত করেছে। এ জন্য টহল জোরদার করা হয়েছে।