হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):
দিন-দিন বেড়েই চলছে ভূট্টার আবাদ। অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় কৃষকরা ভূট্টা চাষে ঝুকে পড়েছে। বিশেষ করে তিস্তার চরাঞ্চল এখন ভূট্টার দখলে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা নদী। এক কালের খরস্রোতের রাক্ষুসী এ নদীটি এখন পলিজমে আবাদি জমিতে রুপ নিয়েছে। এই সুযোগে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো চাষ করছে নানা ফসল। সেই সাথে কাইম এলাকায়ও এখন ভূট্টার চাষাবাদ করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৩৯৫ হেক্টর। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছর ভূট্টার চাষ হয়েছিল ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে।
বছর দশক আগে বেলকা চরের রেজাউল মিয়া ছয় বিঘা জমি তিস্তা গিলে খায়। তিনি চলে যান উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে। উজান থেকে নেমে আসা পলি জমে তার জমিগুলো এখন আবাদী জমিতে রুপ নিয়েছে। গত বছর তিনি চার বিঘা জমিতে ভূট্টার আবাদ করে ১ লাখ টাকা লাভ করেছেন। চলতি মৌসুমে ছয় বিঘিা জমিতে ভূট্টা চাষ করেছেন। এ বছরেও দেড় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
হরিপুর চরের মোনারুল মিয়া বলেন. গত পাঁচ বছর ধরে ভূট্টার আবাদ করে আসছেন তিনি। অন্য ফসলের চেয়ে ভূট্টার আবাদে কম পরিশ্রম করতে হয়। তাছাড়া সার ও পানি বেশি দেয়া লাগে না। একবিঘা জমিতে ঘরচ হয় ১৬ হতে ১৭ হাজার। বিঘা প্রতি ফলন আসে ৩৫ হতে ৪০ মন। মৌসুমের সময় প্রতিমন ভূট্টা বিক্রি হয় হাজার টাকায়। এতে দেখা যায় বিঘা প্রতি লাভ হয় ২০ হতে ২৫ হাজার টাকা।
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজহারুল ইসলাম বলেন, চরের কৃষরা একবার চাষাবাদ করে গোটা বছরের খাবার যোগার করে থাকেন। চরের জমিতে নানা জাতের ফসল খুব ভাল হয়। নদী খনন ও ড্রেজিং না করার কারনে চরগুলো এখন আবাদী জমিতে রুপ নিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাশিদুল কবির বলেন, পলি জমে থাকায় চরাঞ্চলের মাটি অনেক উর্বর। রাসায়নিক সার ছাড়াই যে ফসলের ফলন ভালো হচ্ছে। বিশেষ করে ভূট্টা, আলু, কুমড়া, বাদাম, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন, সরিষা, তিল, তিশিসহ শাকসবজি এবং নানা জাতের ধান বেশি চাষ হচ্ছে।