হাতীবান্ধায় ওসি’র সাথে আ’লীগ নেতাদের গোপন বৈঠক; তদন্ত কমিটি গঠন

2026-01-11 18:48:59

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ-র বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে গোপন বৈঠকের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার সকালে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহাদাত হোসেন সুমাকে প্রধান করে ১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান। এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ওই উপজেলার সির্ন্দুনা এলাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজু-র বাসায় আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে হাতীবান্ধা থানার ওসির গোপন বৈঠকের অভিযোগ উঠে। তবে বৈঠক নয়, একটি দাওয়াতের অনুষ্ঠান ছিলো বলে স্বীকার করেছেন আমজাদ হোসেন তাজু-র পরিবার ও এক পুলিশ কর্মকর্তা।

জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ডামি প্রার্থী ছিলেন আমজাদ হোসেন তাজু। তিনি একাধিক মামলার আসামী ও  উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ উঠেছে, বৃহস্পতিবার রাতে তার বাসায় দাওয়াতের নামে এক গোপন বৈঠক বসে আওয়ামীলীগ নেতাদের। ওই বৈঠকে উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্তত ৬ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে যোগ দেয় হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। বৈঠক শেষ আওয়ামীলীগ নেতাদের দাওয়াত অনুষ্ঠানেও ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন জড়ো হতে থাকে ফলে দ্রুত ওই বাসা ত্যাগ করেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। অপর একটি সুত্র জানান, ওই বৈঠকে হাতীবান্ধার বাসিন্দা জেলার বাহিরে কর্মরত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আমজাদ হোসেন তাজু-র স্ত্রী শাপলা আক্তারের দাবী, বৈঠক নয়, বাসায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিলো। সেই দাওয়াতে ওসি এসেছিলেন। তবে শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ দাবী করেন তিনি ওই আওয়ামীলীগ নেতার বাসায় যাননি।

আর লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমান সেন জানান, ওই বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন পুলিশের একজন উচ্চত কর্মকর্তা। সেই কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ আওয়ামীলীগ নেতার বাসায় যান।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, আওয়ামীলীগ নেতার বাসায় ওসির বৈঠক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।