রংপুরে ‘সংকটে তিস্তা নদী ও আর্থসামাজিক অভিঘাত’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

2026-01-17 20:44:32

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরে ‘সংকটে তিস্তা নদী ও আর্থসামাজিক অভিঘাত’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রংপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র আয়োজনে উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ও অন্যতম স্থপতি (বাপা), প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এবং অধ্যাপক এশিয়া প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট সাবেক প্রধান জাতিসংঘ উন্নয়ন গবেষণা ড. নজরুল ইসলাম ও বিশেষ অতিথি ছিলেন বৈশ্বিক সমন্বয়ক বেন ও সহ সভাপতি বাপা এবং অধ্যাপক, ভূতত্ব ও পরিবেশ বিজ্ঞান কমনওয়েল্থ ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়া যুক্তরাষ্ট্র ড. মোঃ খালেকুজ্জামান।

মতবিনিময় সভায় বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ভোটের সময় এলে একটি ভোটের জন্য সবাই ভোটারের কাছে যায় কিন্তু ভোট হয়ে গেলে তাদের পাওয়া যায় না। সবাই ভোটের আগে বলে কিন্তু তিস্তা বা তিস্তা পারের মানুষের জন্য কেউ কাজ করে না। আমরা দেখতে পারছি সারা বাংলাদেশে বাজেট হয় কিন্তু রংপুরের বাজেট নেই। এটা উত্তরবঙ্গের জন্য বৈষম্য ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন অনেক আন্দোলন করেছি ও করে যাচ্ছি কিন্তু তিস্তাপারের মানুষের জন্য কোনো কাজ হচ্ছে না। অতএব আমরা সামনে এমন প্রতিনিধি বানাবো যারা আমাদের মনের কথা বুঝবে ও সেই আলোকে কাজ করবে।

বক্তব্যে বিশেষ অতিথি বৈশ্বিক সমন্বয়ক (বেন) ও সহ সভাপতি বাপা ড. খালেকুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনার আমলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান কাজ হয়নি। আমরা সব ডকুমেন্ট দেখেছি, সেখানে দেখেছি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বন্যা, নদীভাঙ্গন কমবে বলে জানাচ্ছে। কিন্তু তিস্তায় কোনো পানি নেই তাহলে বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের কথা আসবে কেনো। নদী ভাঙ্গন বন্ধ হোক এটা আমরা চাই। বাংলাদেশে ২০ শতাংশ ও ভারতে ৮০ শতাংশ তিস্তা রয়েছে তাই ভারতের উপরই নির্ভর করছে তিস্তার পানি। যেহেতু ৮০ শতাংশই ভারতে ও সেখানেই উজান তাই তিস্তার কাজ অনেকটা ভারতের উপরই নির্ভর করছে। আমরা চাই তিস্তাপারে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক, সেটা অবশ্যই তিস্তার ক্ষতি করে নয়। বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের সমাধান ভারতের সাথে সমাঝোতার মাধ্যমে হতে পারে। যদি না হয় সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যেভাবে আমরা সমুদ্রসীমা ও তিনবিঘা করিডরের সমাধান করেছি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সমহারে সবকিছুর বন্টন করতে সরকার দায়বদ্ধ। যদিও উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হয়েছে। কিন্তু উত্তর বঙ্গের বড় সমস্যা তিস্তা নদী। যা ভারতের সাথে সমঝোতার কারণে তিস্তা সমস্যা পিছিয়ে যাচ্ছে। কারণ ভারত কখনই চায়না তিস্তা চুক্তি হোক।

যদিও পরবর্তীতে চিনের সাথে একটি তিস্তা চুক্তি হয়েছে। তিস্তাতে ৬০টি গ্রোয়েন দেয়া হবে যা তিস্তার জন্য সামঞ্জস্য নয় এতে করে তিস্তার কোন উপকার হবে না। এখানে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋৃণ নিয়ে কাজ করবে তাই কাজটি অবশ্যই ভবিষ্যৎ চিন্তা করে করতে হবে। কেনোনা এই টাকা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। এর দায় সকলকে নিতে হবে। অবশ্য পরে আর একটি প্রস্তাবণা পাঠানো হয়েছে।

এ সময় তিনি ৫টি প্রস্তাবণা উত্থাপন করেন, প্রস্তাবণা গুলোন হলো তিস্তার দুই পার নির্মাণ করতে হবে, ভারতের সাথে সমাঝোতা করতে হবে নতুবা আইনের মাধ্যমে তিস্তা চুক্তিতে বাধ্য করতে হবে, পানি জমার জন্য খাল খনন ও ময়লা অপসারণ করতে হবে, নিশ্চিত বাঁধ মুক্ত করতে হবে, সেতু নির্মাণ করতে হবে এই ৫টি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।

সব শেষে তিনি বলেন, আপনাদের সকলকে এসব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে এর প্রতিকার করে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাপা রংপুর জেলার আহবায়ক এড. শামীমা আখতার শিরিনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রশিদুল সুলতান বাবলুর সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাপা’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, রংপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডষ্ট্রির প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হোসেন, তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম, রংপুর আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন, শীতলক্ষ্য বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম প্রমূখ।

এ সময় তিস্তাপারের মানুষ, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক সমাজ উপস্থিত ছিলেন।