বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিগনেচার ৯৪ এর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বার্ষিক সাধারণ সভা, বনভোজন ও দিনব্যাপী নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলা ও মানবিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে এক বছরের পথচলা পর্যালোচনা করা হয়।
শুক্রবার দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত সিংড়া জাতীয় উদ্যানে সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে রাত পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, মতবিনিময় ও স্মৃতিচারণে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিগনেচার ৯৪ এর বিগত এক বছরের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। সমাজের অসহায়, পিছিয়ে পড়া ও উপেক্ষিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানবিক সহায়তা প্রদান, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংগঠনটির নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
দলুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সিগনেচার ৯৪ এর সভাপতি মোঃ শামীম আক্তার সজীব এর সভাপতিত্বে এবং ব্যাংকার (এসপিও) মো. হারুনুর রশিদ কাঞ্চন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মোতাহার হোসেন মনি, সহ সভাপতি আসাদুজ্জামান চৌধুরী মামুন, ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান আনিস, সমাজসেবক সোহেল আহমেদ, ব্যাংকার মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক, নারী বিষয়ক সম্পাদক নারগিস আক্তার কেয়া, দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য রুস্তম আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শামীম আক্তার সজীব বলেন, সিগনেচার ৯৪ মূলত বন্ধুদের বন্ধনে গড়ে ওঠা একটি মানবিক সংগঠন। বন্ধুদের জমানো অর্থ দিয়েই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনের ভেতরে আর্থিকভাবে অসচ্ছল সদস্যদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। চলতি শীতে প্রায় ২৫০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়াত সদস্যদের পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সন্তানদের পড়ালেখার ব্যয় বহন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে সিগনেচার ৯৪ সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে মানবিক সমাজ গড়া সম্ভব বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সাধারণ সভা ও বনভোজন শেষে বিকেল থেকে শুরু হয় বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক আয়োজন। সদস্যদের অংশগ্রহণে গান, আবৃত্তি ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে লটারি ড্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। রাত পর্যন্ত চলা এসব আয়োজনে সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও সৌহার্দ্য আরও বৃদ্ধি পায়।
এক বছরের পথচলার শেষে সিগনেচার ৯৪ আবারও মানবিকতা ও দায়বদ্ধতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।