রাবি সংবাদদাতা:
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করলো রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্নাতক পর্যায়ের গবেষণাভিত্তিক প্রতিযোগিতা The University Physics Competition (UPC) 2025-এ অংশ নিয়ে রুয়েটের একটি দল স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতায় রুয়েটের কোনো দল স্বর্ণ জয়ের গৌরব অর্জন করলো।
The University Physics Competition একটি বৈশ্বিক গবেষণাধর্মী প্রতিযোগিতা, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকেই সর্বোচ্চ তিন সদস্যের দলে অংশগ্রহণ করেন। চলতি বছরে প্রতিযোগীদের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি জটিল বাস্তবভিত্তিক সমস্যাকে পদার্থবিজ্ঞানের নীতিতে বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় গত ৭, ৮ ও ৯ নভেম্বর ২০২৫, আর ফলাফল প্রকাশ করা হয় ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।
এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৮৩৮টি দল গবেষণাপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি দল (মাত্র ১.৯ শতাংশ) স্বর্ণপদকের জন্য নির্বাচিত হয়। সেই স্বল্পসংখ্যক গৌরবজনক তালিকায় স্থান করে নেয় রুয়েটের টিম ৪৯৬।
রুয়েটের এই বিজয়ী দলে ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২১ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী—রুদ্র কর্মকার ও সানজিদা ইসলাম মৌ। দলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন।
এই অর্জন শুধু রুয়েটের ইতিহাসেই নয়, বাংলাদেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গত ১৬ বছরে এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে মাত্র তিনটি দল স্বর্ণপদক অর্জন করেছে—রুয়েটের দলটি হলো সেই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন।
দলের সদস্য ও টিম লিডার রুদ্র কর্মকার বলেন, “গত দুই বছর ধরে এই প্রতিযোগিতাটি আমার লক্ষ্য ছিল। নির্দিষ্ট কোনো সমাধান না থাকা একটি সমস্যাকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্লেষণ, কোডিং, সমাধান উন্নয়ন ও গবেষণাপত্র রচনার মাধ্যমে শেষ করতে হয়েছে। সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করেছি। সৃষ্টিকর্তার অনুকম্পা ও আমার সতীর্থ মৌ-এর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আমরা রুয়েটকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করে স্বর্ণপদক অর্জন করতে পেরেছি।”
এই সাফল্য রুয়েটের শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী মানসিকতা, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দক্ষতার উজ্জ্বল প্রমাণ। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা—এই অর্জন ভবিষ্যতে রুয়েটের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।