রংপুরে পরকীয়ার জেরে স্বামীর রহস্যজনক মৃত্যু: মামলা দায়ের, পুলিশের হাতে স্ত্রী গ্রেফতার

2026-01-20 22:39:55

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরে স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে স্বামীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী সাফিয়া আকতার(২৯)কে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। মঙ্গলাবার ভোর রাতে ওই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পশুরাম থানা পুলিশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় ৫জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পশুরাম থানার ওই মামলার তদন্তকারী পুলিশের এস,আই আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, নীলফামারী জেলার সদর থানার লীলফামারী প্রতিভা পাড়ার ইস্রাফিল হোসেনের ছেলে সজিব খান( ৩৪) তার সাথে রংপুর নগরীর জলকার এলাকার বাসিন্দা হিরু মিয়ার মেয়ে সাফিয়া আখতারের ৯ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের ঘনে তিন সন্তান রয়েছে। তারা দ’ুজনে নগরীর কোতয়ালী মেট্রোপলিটন থানার নীনকণ্ঠ আটিয়া টারীতে মহিবুল ইসামের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।

প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন, সাফিয়া আখতার মোবাইল ফোনে আসক্ত ছিল। ফেসবুক বন্ধুর সূত্র ধরে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দ থানা এলাকার বাসিন্দা ইমন মিয়ার(২৪) সাথে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাফিয়া আখতারের চেয়ে পরকীয়া প্রেমিক বয়সে ৪ বছরের কম হলেও তাদের এই অসম প্রেমে কোন বাঁধা হয়নি।

এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মাঝে প্রায় সময় মনমালিন্য হয়ে থাকত। সর্বশেষ চলতি মাসের ১ তারিখ সাফিয়া আখতার পালিয়ে পরকীয়া প্রেমিক ইমন মিয়ার কাছে চলে যায়। এর তিনদিন পরে পারিবারিক উদ্যোগে খোঁজ পেয়ে স্ত্রীকে ওই প্রেমিকের বাসা থেকে ফিরিয়ে আসেন স্বামী সজিব খান। ফিরে আনার পর থেকে স্বামী সজিবের সাথে স্ত্রীর প্রায় বাকবিতন্ডা লেগে থাকত। এদিকে তার পরকীয়া প্রেমিক ইমন মিয়া স্বামী সবিজ ও তার পরিবারকে প্রেমিকা সাফিয়া আখতার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকী দিতে থাকে। একই সাথে সাফিয়া আখতার ফিরে না গেলে তার সাথে একান্ত ঘনিষ্টভাবে তোলা ভিডিও ও স্থীর চিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে সাফিয়া আখতারকে ভয় দেখায়।

এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশুরাম থানা পুলিশ জানতে পারে রংপুর মেডেকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সবিজ খানের মরদেহ রয়েছে। এর পর সেখান থেকে ওই মরদহে উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সফিয়া আখতার এর ভাই শাওন মিয়া পুলিশকে জানায়, তার বোন পরকীয়ায় আসক্ত হওয়ায় কুমিল্লায় পালিয়ে যায় সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার পর থেকে দুলাভাই সজিবের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তাই দুলাভাই ঘরের ভেতর ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।

এামলার পুলিশের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের বক্তব্যের সাথে লাশ উদ্ধারের পরে অনেক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। তাই একটি মামলার ভিত্তিতে স্ত্রী সাফিয়া আখতারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ময়না তদন্ত পাওয়া গেলে এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যের জট খুলবে।