মোঃ হাবিবুল হাসান হাবিব, ডিমলা (নীলফামারী):
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কয়েকজন ছাত্রীকে প্রকাাশ্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক অভিভাবক। অভিযোগকারী অভিভাবক আশিক উল ইসলাম লিমন জানান, তাঁর দুই কন্যা আফিফা ইসলাম ৮ম শ্রেনিতে অধ্যায়নরত ও আরাবি ইসলাম ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে অধ্যায়নরত । তারা ওই বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীর অভিভাবক আশিক উল ইসলাম লিমন লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় চলাকালে আফিফা ইসলাম ও আরাবি ইসলামসহ আরও কয়েকজন ছাত্রীকে সবার সামনে দাঁড় করানো হয়। ছাত্রীদের পরনের জুতায় লাল স্টেপ কেন লাগানো হয়েছে, এই প্রশ্ন তুলে তাদের প্রকাশ্যে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কান ধরে উঠবস করানো হয় এবং সূর্যের দিকে তাকিয়ে রেখে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিল্লাহ ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম এবং সহকারী শিক্ষিকা মঞ্জুশ্রী রানী রায়ের নাম উল্লেভ করে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারী অভিভাবক আশিক উল ইসলাম লিমন বলেন, এ ধরনের শাস্তিমূলক ও অপমানজনক আচরণে তাঁর সন্তনরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তারা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে এবং এতে তাদের পড়াশোনায় গুরুতর প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয় । এটি শিক্ষা নীতিমালা ও শিশু অধিকার আইনের পরিপন্থী। ঘটনার পর এলাকায় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরানুজ্জামান বলেন, তিনি এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়াজনীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।