নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের বলেছেন, তারা দেশকে বিভাজনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা বুকের রক্ত দিব তবুও আমরা আমাদের অধিকার ছাড়বো না। আমরা মারা যাব তবুও আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করব। সরকার এবং সরকারি দল মিলে এই দেশকে ‘হ্যাঁ-না’ প্রশ্নের ভেতরে ফেলে তারা দেশকে দখল করবে সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছে। এটি আমরা মেনে নেব না।
তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে রংপুর নগরীর শহিদ মোবারক সরণিতে দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনি প্রচারণারর পূর্বে সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি আজ রংপুর থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছি। জাতীয় পার্টি একটি জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে বিএনপি আওয়ামী লীগের পরে জাতীয় পার্টির অবস্থান ছিল। তার পরে ছিল জামায়াত। বৃহৎ চারটি দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি একটি দল।
যেটি উত্তরবঙ্গে মানুষের মনে দাগ কেটেছে। উত্তরবঙ্গের যে উন্নয়ন সেটি এরশাদ সরকারের সময় তিনি করে গেছেন। সে কারণে রংপুরের ও উত্তরবঙ্গের মানুষ জাতীয় পার্টি ও এরশাদকে ধারন করে। আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিপিড়নের বিরুদ্ধে একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আন্দোলন করেছি সেটি একটি চিহ্নিত পক্ষ তা অস্বীকার করেন। সেই পক্ষের নেতা বলেন এটি ‘মেয়েটিকুলাস ডিজাইন’ করা হয়েছে। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলন করেছে এটি উনি অস্বীকার করলেন।
তিনি বলেন, এতে মাস্টার প্ল্যান ছিল। কয়েকটি মানুষ তার নিয়োগদাতা। নিয়োগ পেয়ে তারা সরকারি সব মন্ত্রণালয় কাজকর্ম করা শুরু করে দিল। তারা দেশকে বিভাজনের দিকে নিয়ে গেল। জনগণের অধিকার এবং জনগণের কথা কেউ শোনে না। অক্টোবরে ৭ তারিখে দুইজন সমন্বয় ফেসবুকে বললেন এই দলটি দোসর তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। সকল রাজনীতিক কর্মকাণ্ডে আমাদের বাধা প্রদান করা হলো। আমাদের অফিসে হামলা করা হলো। আমাদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা করা হলো না। আমাদের মাঠে নামতে দেওয়া হলো না। আমাদের কোন রাজনীতি করতে দেওয়া হলো না। আমাদের পিছনে পুলিশ প্রশাসন লেলিয়ে দেওয়া হলো। পরে জামায়াতে ইসলামীর দল এরা বলল যে পুরা আন্দোলনটা আমরাই করেছি। জামায়াত এবং সমন্বয় করা মিলে ইন্টেরিমেন্ট গভর্মেন্ট তৈরি হয়েছে। এরাই সরকারি দল হিসেবে বাংলাদেশ চালাচ্ছে। এদের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনরকম নিরপেক্ষতা থাকছে না।
আমরা নির্বাচনে এসেছি নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যে আমাদের মধ্যে ষড়যন্ত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের বিভিন্ন মানুষকে জেলখানায় আটকে রাখা হয়েছে। তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না তাদেরকে একটার পর একটা মামলা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে তিনজন লোককে আটকে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনো নিষিদ্ধ নয়। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তাদের নেতাকর্মীদের নাগরিক অধিকারটুকু দেবেন না। এটি কি অবাধ গণতন্ত্রিক ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করে? তারা যদি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে আসতে চায় তা হলে একটি নির্দিষ্ট দলকে ভোট দিতে পেশার দেওয়া হচ্ছে। যদি তাদেরকে ভোট দেওয়া হয় তাহলে ঠিক আছে। তাছাড়া যদি জাতীয় পার্টিকে ভোট দিতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। যাতে করে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। তাদেরকে অনেক নেতাকর্মীকে দলে এনসিপি ও বিএনপি নিচ্ছে আর আমাদের কাছে আসলে তারা দোসর হয়ে যাচ্ছে।
গণভোট হতে যাচ্ছে একজন এ্যাড্ভাইজার বলেছেন যারা গণভোটে না বলবে তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমার কথা মতো ভোট না দিলে আপনাকে লাথি মারবো। তাহলে কি এটি সঠিক ভোট হল। এটি কি নিরপেক্ষ ভোট হলো। যারা কামড় দিতে বলছে তারা নাৎসিবাদের দোসর। এই সরকার সংবিধানের শপথ নিয়েছেন। নির্বাচনের পরে যে সরকার গঠিত হবে তারা সংস্কার করবেন। এটি হল সংবিধানের নিয়ম। তারা আগের থেকে কেন ‘হ্যাঁ- না’ ভোটের কথা বলছেন। সেই ভোটের পক্ষে রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচেছ। তারা মানুষকে সবকিছু বুঝে দিচ্ছে না। এই কাজে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ করছেন। এর পেছনে যা খরচ করছেন তা বেআইনি ও অবৈধ। মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছেন একশটা জিনিসের মধ্যে চারটি জিনিস বুঝিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সরকার একটি প্যারালাল গভর্মেন্ট চালু করবে।