এলাকায় সেনাবাহিনী-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনি প্রচার চালাতে গিয়ে জামাত-বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে দু’দফা তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ৩৫জন আহত হয়েছে বলে দু’টি দলের পক্ষে দাবি করা হয়েছে। আহতদের হাতিবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে ৩জনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে পুলিশ-সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সূত্র জানিয়েছেন, রোববার দুপুরে হাতিবান্ধা থানার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের মেডিকেল মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটের প্রচারের জন্য বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ করছিল। এ সময় ওই এলাকায় জামায়াতের কয়েকজন সমর্থকের বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোট চাইতে যায়। এ সময় স্থানীয় শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী এ নিয়ে তাদের বাঁধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষ বিবাদে জড়িয়ে পড়লে শিবির ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীরা লাঠিসোডা নিয়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এতে বিএনপি’র স্থানীয় নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন (৫৭) গুরুতর আহত হন। এঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের মাঝে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষ প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড়ঘন্টা ব্যাপী এই সংঘর্ষের শিবির,জামায়াত,য্বুদল ও বিএনপি’র প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদেও স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে সেখানে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এই ঘটনার জেরে সন্ধ্যা ৬টার সময় হাতিবান্ধা বাজারের রংপুর-পাটগ্রাম মহাসড়কের পাশে শিবির,জামায়াত, যুবদল ও বিএনপি’র নেতাকর্মীরা দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রায় দুই ঘন্টা ধওে উভয় পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বাঁধে। উভয় পক্ষ নিজ নিজ শক্তির মহড়ায় লিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে পরস্পরের প্রতি হামলা চালায়। এতে করে ওই এলাকায় আশপাশে এলাকার লোকজন নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য ছুটাছুটি করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দল সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। এ খবর রাত সাড়ে ৮টায় লেখার সময় পর্যন্ত্র এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আবারও সংঘর্ষের আংশকা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তিনি বলেন যে কোন মূল্যে নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে। কেউ কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউই আইনের ঊর্ধে নন।
হাতিবান্ধা উপজেলা কমিটির জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘দুপুরে তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রচারের জন্য টংভাঙ্গা ইউনিয়নের মেডিকেল মোড়ে পৌঁছিলে সেখানের যুবদল ও বিএনপি’র কিছু নেতাকর্মী তাদের নারী কর্মীরদের হেনস্থা করে তাদের হিজাব খুলে ফেলে শ্লীলতা হানির চেষ্টা করে। এ খবর পেয়ে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে বিষয়টি জানার জন্য গেলে তাদের যুবদল ও বিএনপি’র নেতাকর্মীরা চড়াও হয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের ১২জন নেতাকর্মী আহত হয়। এদের মধ্যে সোহেল রানা(৩০)সহ দু’জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই খবর লেখা পর্যন্ত তিনি বিচ্ছিন্ন থাকায় সকল আহত নেতাকর্মীদের নাম জানাতে পারেননি।
যুবদলের হাতিবান্ধা উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব রেজাউল করিম (৩৫) জানান, তাদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনার চালাতে যায় দলীয় নেতাকর্মীরা টংভাঙ্গা ইউনিয়নের মেডিকেল মোড়ে। এসময় বাড়ি বাড়ি গণসংযোগের সময় তাদের কয়েকজন জামায়াত এর নেতাকর্মীর বাড়িতে ভোট চাইতে যায়। এতে বাঁধা দেয় স্থানীয় কয়েকজন শিবির নেতা। এ সময় তাদের ওই প্রচার টিমের বয়োজেষ্ঠ্য নেতা জালাল উদ্দিন(৫৭)সহ কয়েকজনকে পিটিয়ে তারা আহত করে। এর পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জামায়াত-শিবিরের স্বশস্ত্র নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা চালায়। এই ঘটনা কেন্দ্র করে তারা পুনরায় সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা হাতিবান্ধা বাজারে বিএনপি-যুব দলের নেতাকর্মীদেও উপর হামলা চালায়। দু’টি ঘটনায় তাদের প্রায় ২২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে জালাল উদ্দিন(৫৭), শাহীন ইসলাম(৩৭) ও আব্দুর রাজ্জাক(৩৫)কে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।