রংপুরের জনসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট চইলেন তারেক রহমান

2026-02-04 08:21:17

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান রংপুর বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, অতীতের সরকার আমলে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট হয়েছে। বিএনপি এই নির্বাচনে জনগণের রায়ে ক্ষমতায় আসলে সেই লুটের টাকা ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। আগে নিশি রাতে ভোট হয়েছে সেই ভোটের রাজনীতি আর হতে দিব না। আগামী নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে বললেন নেতাকর্মীদের।

তিনি জনসভা থেকে রেজিষ্ট্রার এনজিও থেকে যারা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে পারছেন না। তাদের সেই ঋণ বিএনপি সরকার গঠন করলে পরিশোধ করবে। শুধু তাই নয় রংপুর অঞ্চলে ঢেলে সাজাতে হবে। এই অঞ্চলে যেমন খনিজ সম্পদ আছে তেমনি কৃষিতে সম্মৃদ্ধ। কৃষিজাত শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করা হবে।  এ জন্য শিল্প উদ্যোক্ততাদের আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হবে।  বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই অঞ্চলে আইটি শিল্প স্থাপন করে এই এলাকার শিক্ষিত তরুণ-যুব সমাজকে আইটি কোম্পানীগুলোতে চাকুরির সুযোগ করে দিয়ে তাদের আইটিতে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ করা হবে।  তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। তা হলে রংপুরের আবু সাঈদ ও চট্রগ্রামের ওয়াসিমসহ যে ১৪শ’ জন যে স্বপ্ন নিয়ে শহিদ হয়েছে তাদের সেই ঋণ কিছুটা শোধ হবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন,  প্রিয় ভাই বোনেরা অগষ্টের ৫ তারিখে দেশের পরিবর্তন চেয়েছে। মানুষ চায় নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে, মানুষ চায় নিরাপদে পথ হাঁটবে। নিরাপদে ঘুমোবে। তাই জুলাই-বিপ্লবের সকল শহিদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে যে হাজার মানুষ আত্মত্যাগ ও জীবন উৎসর্গ করেছে। তাদের সেই আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা জুলাই সনদে যে স্বাক্ষর করেছি তাকে সম্মান করতে হবে। তাই ধানের শীষে যেমন ভোট দিবেন তেমনি আর একটি দ্বিতীয় ব্যালট পেপারে হ্যাঁ এবং না থাকবে সেই ব্যালট পেপারে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিবেন। জুলাই বিপ্লব-পাঁচ আগষ্টের আন্দোলন কোন রাজনৈতিক দলের ঈষারায় হয়নি। জনগণের দীর্ঘদিনের যে নিপিড়ন-নিষ্পেশন থেকে মুক্তির আকাঙ্খা ছিল তা থেকে স্তস্ফুর্ত বিস্ফোরনে তা হয়েছে। 

তিনি নেতাকর্মীদের ভোটের পবিত্র আমানত প্রয়োগের জন্য বলেন, ‘আপনারা ভোরবেলা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন, ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবেন। যাতে আপনার ভোট কেউ ছিনাতাই করতে না পারে।’

তিনি পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কে বলেছে রংপুর অঞ্চল পিছিয়ে পড়া। রংপুর অঞ্চল সব চেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে পীরগঞ্জে কয়লা-লৌহ খনি, দিনাজপুওে কয়লা, পাথর খনি আছে। রংপুর-দিনাজপুর কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। এই সব সম্পদ আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে রংপুর-দিনাজপুর হবে সব চেয়ে সমৃদ্ধ ও উন্নত এলাকা। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি সংকট প্রসঙ্গ তুলে বলেন, রংপুর অঞ্চলের পানির সংকট দূর করতে আমরা সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। যা কৃষিতে নুতন বিপ্লব ঘটাবে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি নে তিনি।

দেশের দেশে জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে আরও বলেন, আবু সাঈদে যে ত্যাগ তা দেশের মানুষ ভুলতে পারবে না। সেই আন্দোলনে কি নৃসংশভাবে নিরিহ ১৪শ’ ব্যক্তি হত্যা করা হয়েছে। তা দেশের মানুষ কোনদিন ভুলবে না।  সকল মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে তাই তা হয়েছে।

এখন আমাদের দায়ীত্ব জনগণকে সামনে কাতারে দাঁড়িয়ে নিয়মন্ত্রানিতভাবে কাজ করতে হবে। আগামি নির্বচনে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসতে আসবে হবে। আমাদের অর্ধেক নারীসমাজকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে । তা না হলে দেশের সামগ্রীক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আমরা সকল মা-গৃহিনীদের হাতে আমরা আর্থিকসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দিবে। যাতে তারা সাবলম্বি হতে পারে। তুরণ-যুব সমাজের জন্য প্রত্যেক কৃষক ভাইেয়ের হাতে কৃষকদের কৃষি কার্ড দিতে চাই। এই কৃষি কাজের মাধ্যমে আমরা তাদের জমি অনুযায়ী অন্ততঃ একটি ফসলের বীজ সার তুলে দিতে চাই। যাতে কৃষকরা অস্তে আস্তে সাবলম্বি হয়। এ জন্য চাই আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব হবে না। এ সময় তিনি জনগণের পরিকল্পনা শুনতে চাই বললে উপস্থিত জনতা সমস্বরে আগামীতে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চাই। এ সময় জনতার উদ্দেশ্যে তাদের কথার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, বিগত ১৬ বছরের আমু টামু নিশি রাতের নির্বাচন হতে দেবে না। প্রত্যেককে ফজরের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রের লাইনে  দাঁড়াতে হবে। যাতে আপনার ভোট যেন ছিনতাই না হয়।

স্বৈরাচার সরার পতনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংস্কার কমিশনের মতামত দিয়েছি। কোনটি সমর্থন দিয়েছি কোন বিরোধিতা করেছি তা জনগণকে জানিয়েছি।

তিনি জামায়াতকে ঈঙ্গিত করে বলেন, একটি দল আছে সেই দল বিএনপি সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে। এই দলটির মাথা খারাপ হয়েছে, না হয় তাদের নেতৃত্বের মাখা খারাপ হয়ে গেছে। তাদের দু’জন সদস্য আমাদের মন্ত্রী পরিষদে ছিল। তাদের মানুষ ভালো। আমরা খারাপ। তারা যদি ভালো তা হলে আমাদের খারাপ মানুষের সাথে শেষ সময় পর্যন্ত কেন ছিল? তার মানে আমরা ভালো ছিলাম বলেই তারা আমাদের সাথে ছিল। খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রন করেছিল। তার আমলে কোন দূর্নীতি হয়নি। আমাদের সাথে ছিল আসুন এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।

দলের রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, পার্টির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম ডাঃ জাহিদ হোসেন, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এর মধ্যে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ব্যারিষ্টার নওশাদ জমির, রংপুর জেলার ৬টি আসনের প্রার্থী  মোর্কারম হোসেন সুজন, মোহাম্মদ আলী সরকার, সামসুজ্জামান সামু, এমদাদুল হক ভরসা, অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ও ইঞ্জিনীয়ার শাহরিয়ার ইসলাম তুহিন, আব্দুল খালেক প্রমুখ।

এতো জনসমুদ্রের ঢেউ-দেখেনি কেউঃ

রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ্ জনসভাস্থল ছাপিয়ে জনসভায় উপস্থিত জনতার স্রোত উপছে পড়েছে জনসভাস্থলের সড়কগুলোর প্রায় অর্ধ কিলোমিটার জুড়ে। যেদিকে চোখ যায় চোখে পড়ে শুধু মানুষের ঢেউ। এসব শ্রোতার বক্তব্য শোনার জন্য ২শ’টি মাইক স্থাপন করা হয়েছে নগরীর বিভিন্ন সড়কে।

দুপুরের মধ্যে হোটেলের খাবার শেষঃ

লোকজনের সমাগমের কারনে দুপুর হতেই নগরীর বিভিন্ন হোটেলে খাবার শেষ হয়ে যায়। অনেকে দুপুরে হোটেলগুলোতে ভাত না পেয়ে শুকনো খাবার, চিড়া,গুড়. মুড়ি ও কলা খেতে দেখা গেছে। এমন কয়েকজনের সাথে কথা হলে এই চিত্র জানতে পারা গেছে। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত ২টায় জনসভাস্থলে এসে পৌঁছেছেন কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার ভারতের সীমান্ত এলাকা রামখানার বাসিন্দা লক্ষ্মীন চন্দ্র দাস(৩২) বলেন, তারা শহরের কোথাও হোটেলে খাবার না পেয়ে সিটি বাজার থেকে চিড়া-মুড়ি ও গুড় এসে শুকনো খাবার খেয়েছেন।