নির্মল রায়:
উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় কার্যত পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই নদীর অধিকাংশ অংশে পানি নেই বললেই চলে। অনেক স্থানে নদীর বুকজুড়ে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ বালুচর। এতে তিস্তা-নির্ভর কৃষি, সেচব্যবস্থা এবং নদীপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময় খরস্রোতা তিস্তা নদীর বহু অংশ বর্তমানে হেঁটে পার হওয়া যাচ্ছে। স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় পানি জমে আছে কেবল নিচু ও সরু অংশে। পানিসংকটে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে, ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, গঙ্গাচড়া এলাকায় তিস্তা নদীতে বর্তমানে পানির প্রবাহ ২০০ কিউসেকেরও নিচে নেমে এসেছে। অথচ শুষ্ক মৌসুমেও স্বাভাবিকভাবে এই নদীতে কয়েক হাজার কিউসেক পানির প্রবাহ থাকার কথা। পানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। উজানে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনিয়া এলাকার ইউপি সদস্য মনোয়ারুল ইসলাম জানান, তিস্তায় পানি না থাকায় বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা।
গজঘণ্টা ইউনিয়নের চরছালাপাক এলাকার কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, আগে তিস্তার পানিতেই জমিতে সেচ দেওয়া হতো। বর্তমানে নদীতে পানি না থাকায় বিকল্পভাবে সেচ দিতে হচ্ছে, এতে খরচ বেড়েছে এবং ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের গোডাউনের হাট জেলে পাড়ার বাসিন্দা মিলন ও তপন জানান, নদীতে পানি না থাকায় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাদের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে গেছে।
লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হাদী বলেন, উজানে পানি প্রত্যাহার, শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার অভাবে তিস্তা নদী ক্রমেই মৃতপ্রায় হয়ে উঠছে। তিনি দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদী শুধু একটি জলধারা নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, কৃষি ও অর্থনীতির প্রধান ভরসা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।