নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুর সদর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানীর প্রার্থীতা প্রত্যাহার, তিনি হরিন প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। তিনি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর নুরপুরে অবস্থিত তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।
এ সময় তিনি বলেন, প্রান্তিকতার অবসান ঘটাতে আমরা (হিজরারা) দীর্ঘদিন ধরে সরকারের নিকট এক জুলাই জাতীয় সনদ ২৫ ভবিষ্যতের পথরেখা প্রণয়নের পূর্বেই আমাদের জন্য অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন প্রয়োগের দাবি জানিয়ে আসছি।
অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন হলো এমন একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় সংসদে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করা হয়। নারীদের ক্ষেত্রেও একসময় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে যেখানে ১৫টি সংরক্ষিত আসন ছিল, তা পর্যায়ক্রমে বেড়ে আজ ৫০টিতে পৌঁছেছে এর ফলশ্রুতিতে আমাদের মা ও বোনেরা সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন।
রানী বলেন, কিন্তু উক্ত ৫০টি সংরক্ষিত আসনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কোন সংরক্ষিত আসন দেয়া হয়নি। নারীদের পাশাপাশি হিজড়া সম্প্রদায় সহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত আসনের দাবী জানাচ্ছি। আমরাও সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমাদের প্রান্তিকতা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।
আপনারা যে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের কথা বলছেন, সেই স্বপ্নের চিত্রে এখনো আমাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি নেই। আমাদেরকে বাদ দিয়ে আপনার নতুন বাংলাদেশ সাজাতে যাচ্ছেন। এটাই আমাদের গভীর বেদনা।
আনোয়ারা ইসলাম বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ সকল সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের দাবিতে আমি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২৬ উপলক্ষে ২১ রংপুর-০৩ আসন থেকে আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি। একই সঙ্গে সম্মানিত ভোটারদের প্রতি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রেক্ষিতে হরিণ প্রতীকে ভোট না দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
এই প্রসঙ্গে আমি আন্তরিকভাবে সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, তাঁদের সমর্থক এবং আমার নির্বাচনি কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি আমার এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যেন কোথাও কোনো ধরনের উত্তেজনা, সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। আমরা শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশে বিশ্বাস করি।
প্রত্যাহার পূর্বক সাবেক এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, আমি আপনাদেরই একজন সাধারণ নাগরিক। রংপুরের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার যে ক্ষোভ আপনাদের মাঝে রয়েছে, তা আমার মাঝেও সমানভাবে বিদ্যমান। গত নির্বাচনে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, নির্বাচনে জয়ী হই বা না হই, মানুষের পাশে থাকব। আমি সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। সারাজীবন আমার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।
তিনি বলেন, দুই হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, আমাকে ভুল বুঝবেন না, কষ্ট পাবেন না। আপনাদের রানী কারো কাছে বিক্রি হয় না, কারো সঙ্গে আপোষ করে না। এটি কোনো বিদায় নয়; এটি বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ়, নীতিগত ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান।আমার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করবেন। একই সঙ্গে আমার এই যৌক্তিক দাবির পক্ষে সংহতি জানিয়ে আমার হাতকে শক্তিশালী করবেন, যাতে করে হিজড়া জনগোষ্ঠীসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায় করা সম্ভব হয় এবং একদিন সংসদে গিয়ে সমাজের সকল অবহেলিত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও প্রিয় রংপুরের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারি।
এ সময় আনোয়ারা ইসলাম রানীর অনুসারিরা উপস্থিত ছিলেন।