তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
তারাগঞ্জ উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের চত্বরে বিয়ের দাবিতে ৩২ বছর বয়সি এক নারী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অনশন করছেন। ওই নারীর দাবী করেছেন তারাগঞ্জ উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসে কর্মরত ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিরোজ হোসেন (৩৫) ওই নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিয়ের দাবীতে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের ভিতরে অনশনে বসেছে ওই নারী। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানায়, উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিষ্ট্যান্ট (ভিএফএ) হিসাবে কর্মরত অভিযুক্ত ফিরোজ হোসেন ওই নারীর বাড়ির সামনে বেশ কয়েক বছর ধরে ভাড়া থাকতেন। এসময় ওই নারীর সাথে ফিরোজ হোসেনের ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে ওই নারীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক গড়ে তোলেন। সম্প্রতি ফিরোজ হোসেনের অন্যত্র বদলির খবর পেয়ে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এতে ফিরোজ হোসেন ওই নারীর কথায় কোন সাড়া না দিলে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ওই নারী বিষ খেয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের লোকজন টের পেয়ে স্থাণীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক আশস্নকাজনক হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয়। পরে ওই নারী বেশ কয়েকদিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে আসলে ফিরোজ তাকে বিয়ে করার জন্য পূর্ণরায় প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে আবারো ওই নারী বিয়ে করা জন্য ফিরোজকে চাপ দিলে আজকাল করে এড়িয়ে যায়। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ফিরোজ প্রাণীসম্পদ অফিসে আসলে ওই নারী বিয়ের দাবিতে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের ভিতরে গিয়ে ফিরোজকে বিয়ের করার জন্য জড়িয়ে ধরেন । এসময় উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা তারাগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে ওই নারীকে অফিসের বাহিরে যেতে বলেন। পুলিশর কথামত ওই নারী পরে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের সামনে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন। ওই নারী দাবী করেন, ফিরোজ আমার সাথে ভালবাসার সম্পর্ক তৈরী করে আমাকে বিয়ে করার কথা বলে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। আমার ইজ্জত শেষ করে দিয়েছে। আমাকে আজকে বিয়ে না করলে অফিসের সামনে আত্নহত্যা করবো। তাছাড়া আমার কোন উপায় নেই। অভিযুক্ত ফিরোজ হোসেন দাবী করে বলেন, ওই নারীর সাথে আমার ভাল সম্পর্ক ছিলো। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ইফতেখারুল ইসলাম জানান, ফিরোজ হোসেন প্রাণীসম্পদ অফিসে কর্মরত আছেন। তার ব্যক্তিগত বিষয় আমার জানার কথা নয় । আমি বিষয়টি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।