মেধাবী হাসানের শিকলে বন্দী হয়ে দিন কাটে

2026-02-24 23:05:26

প্রবীর কুমার কাঞ্চন, তারাগঞ্জ (রংপুর):

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন হাসান সরকার (৩২)। বিদ্যালয়ে যেমন ছিলেন চটপটে, তেমনি লেখাপড়াতে ছিলেন মেধাবী। সেই সময় “নানীর হোটেল” নামের একটি হোটেল ছিলো বাবা মায়ের। তারাগঞ্জে বেশ নামকরা হোটেল ছিলো এটি। কিন্তুক পর পর বাবা-মা দুজনেই মারা যাওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শিকলে বন্দী জীবন যাপন করছেন হাসান সরকার। ভ্যান চালক একমাত্র ছোট্ট ভাই হাসানুর দারিদ্রতার কারনে চিকিৎসা তেমন করাতে পারেনি। যার ফলে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় ভাইকে হারানোর ভয়ে শিকলে বেঁধে রেখেছেন।

হাসানুর এখন লোহার শিকলে বন্ধি। একে বলে মেধাবীরা বিভিন্ন প্রতিবন্ধিকতায় আস্টে-পিস্টে আটকে আছে। রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশেই রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের চৌপথী বড়ব্রিজের পাশেই ভাঙ্গাচোড়া বাড়িটিই হাসান সরকারের বাড়ি। হাসান সরকার যখন কলেজে পড়তেন ঠিক সেসময় তার বাবা মোবারক হোসেনের ওই স্থানেই নামকরা নানীর হোটেল হিসেবে পরিচত হোটেল ছিলো। সেই সময় হোটেলের রোজগার দিয়েই চলতো মা-বাবা, দুইভাই ও দুই বোনের সংসার। সেসময় পুরোপুরি মানসিক অসুস্থতা ছিলো না হাসান সরকারের। দুই বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ২০২০ সালে মা জাহানারা (নানী নামে পরিচিত) এবং ২০২২ সালে বাবা মোবারক হোসেন মারা যায়। পরে সেই হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন দুই ভাই হাসান সরকার ও হাসানুর। ঠিক এসময় থেমে যায় হাসানের চিকিৎসা। ভাই হাসানুর ভ্যান চালিয়ে তার স্ত্রী-সন্তান ও তার মুখে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতেই দিতে পারেন না চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যায় তার। এসময় মানসিক যন্ত্রনায় প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজনকে মারধর  ও গালমন্দ শুরু করায় ৪ বছর ধরে শিকলে বেঁধে রাখা হয় হাসান সরকারকে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তা বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙ্গে পড়ে থাকা একটি জরার্জীণ টিনের ঘরের খুপরিতে বসে আছেন হাসান সরকার। পায়ে ৪ ইঞ্চির মতো লোহার শিকল। চুল-দাড়ি কেটে না দেয়ায় তাতে জট বেঁধেছে। দীর্ঘদিন থেকে গোসল না করায় শরীর থেকে বেরু দুগর্ন্ধ। মাঝে মাঝে ভাল ভাবেই কথাও বলছেন। খাওয়া-দাওয়া ঠিক মত হচ্ছে না। চিকিৎসা নেই তা অবকটে বললেন। হাসানের ভাই হাসানুরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হাসান ২০০২ সালে বিজ্ঞান বিবঅগে জিপিএ-৪.৭৫ পেয়ে এস এস সি পাস করে রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তিও হন। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর তার মানসিক সমস্যা বেশি হয়ে যায়। ধারদেনা করে তারপরেও ভাইয়ের চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু দুই বেলা ভাত খাওয়ারেই টাকা জোটে না চিকিৎসা করা তাই হয় আর হয়নি। হাসানের ভাগ্নি শামিমা বলেন, নানা-নানী মারা যাওয়া পর মামার মানসিক রোগ বেড়ে যায়। পাগলামো বেশি করে শুরু হয়। কোথায় বেড়িয়ে যায় খুজেও পাৗযা যায় না। মানুষ তার পাগলামে দেখে ভয় পায়। কোন উপায় না পেয়ে শিকল দিয়ে বেধেঁ রাখা হয়েছে। টাকার অভাবেই মামার চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসানের স্কুল জীবনের সহপার্টি মোকারম হোসেন, আব্দুর রশিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বন্ধু হাসান খুৃবেই সাহসী ও চটপটে ছিলেন। লেখাপড়ায় মেধাবী ছিলেন তাকে দেখে খুবেই কষ্ট হয়। বিত্তবান মানুষজন ও উপজেলা প্রশাসন থেকে তার চিকিৎসা সেবা করলে সে মনে হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোনাববর হোসেন জানান, একজন মেধাবী হারিয়ে যেতে পারে না। আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। তাকে সহযোগীতা করা হবে।